Thursday, November 17, 2016

অন্তহীন ভালবাসা

=হ্যালো,কোথায় তুমি?(নাফিসা)
=হ্যা,আমি তো টিউশনি তে।(নীল)
=মানে কি?আমাকে এখানে বসিয়ে
রেখে
তুমি এখন টিউশনি করাচ্ছো?আজ না
দেখা
করার কথা? (নাফিসা)
=ইসসস!স্যরি গো,একদম ই ভুলে
গেছিলাম।তুমি
আর ১৫ টা মিনিট দাড়াও আমি
হাওয়ার
বেগে আসছি। (নীল)
=চুপ করো,আর ১ সেকেন্ড ও অপেক্ষা
করবনা,,কেয়ারলেস ছেলেএকটা।
ফাজিল,আর
কোন কথা নাই তোর সাথে থাক তুই।
(নাফিসা)
=স্যরি বাবুনি,,রাগ করো না প্লিজ
আমি আসছি।(নীল)
:
নীল আর নাফিসা একই ডিপার্টমেন্ট এ
পড়ে।
নাফিসা কোটিপতি বাবার একমাত্র
মেয়ে,প্রচন্ড রাগী আর জেদি মেয়ে।
আর
নীল মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। শহরে
থেকে
লেখেপড়া করে,আর কয়েকটা টিউশনি
করে
এতেই খুব ভালোভাবে দিন চলে যায়।
ভার্সিটি তে ভর্তি হয়েই তাদের
মধ্যে
বন্ধুত্ত হয়,অতঃপর ভালবাসা,এখন
তাদের
মধ্যে প্রেম চলছে।
আজ তাদের দেখা করার কথা
ছিল,নাফিসা
আগে থেকে এসেই অপেক্ষা করছিল
কিন্তু
নীল আসতে পারে নি।।নীল সত্যি খুব
ভুল করে
ফেলছে,আজ দেখা করার কথা মনেই
ছিল না।
আর এদিক দিয়ে নাফিসা খুব ক্ষেপে
আছে,সেটা নীল খুব ভাল ভাবেই
বুঝছে।
নাফিসার সামনে যাওয়ার সাহস তার
হচ্ছে
না এখন।।
:
.........রাত ১২ টা বেজে ১৫ মিনিট
.
নীল এখন দাঁড়িয়ে আছে হাতে কিছু
সাদা
রজনীগন্ধা আর সাদা
গোলাপ,নাফিসা সাদা
গোলাপ আর সাদা রজনীগন্ধা খুব পছন্দ
করে,,নাফিসার বাড়ির সামনে
ল্যাম্পপোস্ট
এর নিচে দাঁড়িয়ে নাফিসা কে
অনবরত ফোন
করেই যাচ্ছে, কিন্তু নাফিসা ফোন
তুলছে
না।
:
অনেক্ষন পর ফোন তুল্লো
=কি হইছে? এত ফোন দিচ্ছেন কেন?
(নাফিসা)
=বাবুনী,রাগ করো না,আমার ভুল
হয়ে গেছে। (নীল)
=জ্বী না,আপনার কোন ভুল হয় নি,ভুল
হইছে
আমার।(নাফিসা)
=প্লিজ বাবু,এভাবে বলো না,চল এখন
দেখা
করি। (নীল)
=আমাকে কি পাগল হইছি, যে এত
রাতে
তুমার সাথে দেখা করব।(নাফিসা)
=না গো,তুমি তো পাগলি।।একটু
বারান্দায়
আসবে? (নীল)
=নাহহহ,,এই এই মানে কি?বারান্দায়
কেন??
(নাফিসা)
=এসেই দেখো না।(নীল)
=তুমি এত রাতে এখানে?দাড়াও আমি
নিচে
নামছি।(খুব অবাক হয়ে,খুশিতে
নাফিসার
চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেছে)
:
=তোকে আসতে বলছে কে?পাগল
ছেলে
একটা।(এটা বলেই নীল কে জড়িয়ে
ধরলো)
=আমিযে পাগল তুমার জন্য সেটা কি
তুমি
বুঝো না??(নীল)
:
হাটুগেরে বসে ফুল গুলো নাফিসা কে
প্রপোজ স্টাইল এ দিল..পাগলি তুমার
জন্য"
নাফিসা সেই ফুল গুলো পেয়ে আরো
খুশি হল,,
'''ভালবাসার মানুষ টার কাছ থেকে
সামান্য
কিছু উপহার ও অনেক বড় কিছু মনে হয়'''
নাফিসা আর নীল ল্যাম্পপোস্ট এর
নিচে বসে
কিছুক্ষন গল্প করে,,তার পর নাফিসা
কে
বাসায় দিয়ে নীল ও চলে আসে।।
.
এভাবেই চলতে থাকে তাদের
প্রেম,,বেচে
থাকুক তাদের ভালবাসা।

ভাই বোন

ভাই বোনের রোমান্টিক কিছু ঝগড়
ভাই: ওই আমার কলম কই?
বোন: জাহান্নামে!
ভাই: এটা কী ধরনের উওর?
বোন: ইসলামিক উওর!
.
=>ভাই রাগে প্রস্তান!
.
কিছুক্ষণ পর............
ভাই: ওই আম্মুকে বল সেদিন Dove সাবানটা আনালাম ওইটা কই?
বোন: Dove এ পোকা ছিলো,
তাই শেষ হয়ে গেছে!
ভাই: ফাযলামোর একটা সিমা আছে?
বোন: জানি তো,পাসের বাসায় থাকে!
ভাই: আর ভালো লাগে না!
বোন: এটা তো পুরানো ডায়লগ রে!
.
কিছুক্ষণ পর আবার বোন বলতেছে.........
বোন: কাল সেম্পু আনালাম,আর-আজকেই শেষ হয়ে গেল!
ভাই: সেম্পু কী খাইছিলি,
আজ জানলাম
সেম্পুও খাওয়া যায়!
.
কিছুক্ষণ পর......
ভাই: আপু আমার ফুটবলটা দেখছো?
বোন: শহীদ হইছে!
ভাই: মানে?
বোন: দায়ের সাথে যুদ্ধ করে!
ভাই: এটা কী ধরণের কথা?
বোন: স্বাক্ষী মূলক কথা!
ভাই: জানিস তুই আজ
অনেক সওয়াব পাইছোস?
বোন: ক্যারে?
ভাই: একটু পরেই বুজবি!
.
বোন: ওই আমার ব্যাগে ৫০টা টাকা ছিলো
ওইটা কই?
ভাই: সকালে ভিক্ষুক এসেছিলো!
বোন: তো?
ভাই: তুই ঘরে ছিলি না।
বোন: তো?
ভাই: আমার কাছেও ভাংতি ছিলো না!
বোন: তো?
ভাই: তো আর কি তোর টাকা দিয়া দিসি!
বোন: সব দিয়া দিলি?
ভাই: কি করব,তার কাছেও ভাংতি ছিলো
না.......!!

Wednesday, November 16, 2016

ঘুমন্ত পরী

অবনী ঘুমানোর জন্য বিছানা রেডি
করে শুয়ে পরতেই। হঠাৎ ফোনটা বেজে
উঠে। অবনী ফোনটা হাতে নিয়ে
দেখে সেই চিরচেনা নাম্বার।
ফোনটা একবার বাজতে বাজতে
কেটে যেতেই দ্বিতীয় বার ফোনটা
কানে তোলে। দ্বিতীয় বার ফোন
ধড়া নাকি এটা অবনীর স্টাইল। অবনী
ফোনটা কানে তুলেই।
_ কি বলবে তাড়াতাড়ি বলে ফেলো।
আমার অনেক কাজ পরে আছে।
_ "আমি তোমার কাছে একটা
জোৎসনা ভরা রাত চাই। তুমি একটা
সাদা শাড়ী পরে আমার পাশে এসে
দাঁড়াবে। তোমার খোলা চুল বাতাস
এলোমেলো করে দিবে। তোমার
চোখে মুখে তোমার অবাধ্য চুল গুলো
এসে ভিড় করবে। তোমার চুলের
ঝাপটা কিছুটা আমার গালেও পড়বে।
শীতল সুখদায়ক বাতাসের উপরে
কিঞ্চিৎ বিরক্ত হবে তুমি। দু একটা
কথার মাঝে তুমি হাসতে হাসতে
ভেঙে পরবে। তোমার হাসির শব্দ
আমার বুকের ভিতরে ফেনীল ঢেউ এর
মতো আছড়ে পরবে। এমন একটা জোৎসনা
ভরা রাতের সঙি হবে আমার?"
.
অবনী চুপ করে আছে! কি বলবে বুঝতে
পারছে না। অবনী সিরিয়াস রাগী
একটা মুড নিয়ে থাকে। যখনি
ছেলেটা ফোন দিবে ওমনি ঝাড়ি
দিয়ে ছেলেটা ভাব ছুটিয়ে দিবে।
প্রতিবার এরকম ভাবে সিরিয়াস মুড
নিয়ে কথা বলতে চায় অবনী। কিন্তু
ছেলেটার প্রথম কথা গুলোতেই গলে
যায় অবনী। নিমিষেই ঝাড়ি গুলো
ছেলেটার প্রতি ভালবাসা জন্ম নেয়।
কিন্তু আজ অবনী সকাল থেকে ঠিক
করে রেখেছে আজ তাকে যতোই মন
গলানো চেষ্টা করুক কিছুতেই
ছেলেটাকে সফল হতে দিবে না। আজ
তাকে ঝাড়ি দিবেই। অবনী একটু চুপ
থেকে সিরিয়াস একটা ভাব এনে
রাগী গলায় বলো।..
_ শুনো তোমার এই ন্যাকামো কথায়
আমার মন আজ ভুলাতে পারবেনা বলে
দিচ্ছি।
অপর প্রান্ত থেকে হাসির শব্দ শুনা
গেলো। অবনী ভেবে পায়না সে কি
এমন হাসির কথা বলছে যে তার হাসতে
হবে। অবনীর ইচ্ছা করছে এক গুছা চুল তার
মুখের ভিতরে ঢুকিয়ে দিতে। তারপর
দেখবো এতো হাসি কোথায় থেকে
আসে। অবনীর আরেকটা দুর্বল পয়েন্ট
হলো। অবনী যে মানুষ টার উপড়ে রাগ
করেছে সেই মানুষটা যদি হেসে দেয়
তাহলে অবনী সব রাগ ভুলে অবনীও তার
সাথে হাসবে। অবনী এই মুহূর্তে
নিজের হাসি আটকে রাখতে নিজের
ঠোট কামড়ে ধরে প্রাণপণ চেষ্টা
করছে হাসি আটকে রাখতে। অপর
প্রান্ত থেকে ছোট একটা কাশি
দিয়ে গলা পরিষ্কার করে বললো।
_ প্রতেকটা নারী কে সব সময় সুন্দর
লাগে না। কাউ কে বা সকালের
মিষ্টি আলো তে সুন্দরী লাগে। কাউ
কে দুপুরবেলার, দুপুরের ঝলমলে
রৌদ্রের মতো সুন্দরী লাগে। আবার
কাউ কে বিকেলের সূর্যের লাল আভা
তার মুখে পরতেই তার সৌন্দর্য উপচে
পরে। তোমাকে কখন সবচাইতে বেশি
সুন্দর লাগে বলবো?
_ হুঁ।
_ তুমি যখন রাগ করে, নিজের হাসি
আটকে রাখতে দাঁত দিয়ে ঠোট
কামড়ে ধরে হাসি আটকে রাখার
আপ্রাণ চেষ্টা করো তখন তোমাকে
দেখতে অসম্ভব সুন্দরী লাগে। মনে হয়!
যেন জলের মধ্যে মিশে থাকা জল রঙ
আলো।
অবনী এবার সত্যি সত্যি হেসে
ফেলে। অবনী ভাবে এই বজ্জাত
ছেলেটা একটু রাগ করেও থাকতে
দিবেনা। এভাবে কেউ কারও
প্রশংসা করে? ইসস এখন নিজের মাঝেই
কেমন লজ্জা লাগছে। একটু চুপ থেকে
অপর প্রান্ত থেকে আবার বলে।
_ খুব রাগ করে ছিলে বুঝি?
_ হুঁ! রাগ করে থাকবো না? সারা দিন
একবার নিজে থেকে খবর নিছো?
_ আমার এতো ব্যস্ততা কার জন্য?
আমাদের পরিবারটাকে সুন্দর রাখার
জন্য। আমাদের ঘর আলো করে
রাজকন্যার মতো একটা মিষ্টি মেয়ে
আসবে। তখন আর তোমার সারাদিন
একা একা লাগবেনা। ওকে নিয়ে
এতো ব্যস্ত হয়ে পড়বে যে আমার দিকে
ঠিক মতো তাকানোর সময় পাবে না।
কথা গুলো শুনতে শুনতে অবনীর মাঝে
সুখময় অনুভূতি গুলো এসে ভিড় করে।
ঠোটের কণে মিষ্টি হাসি। স্বপ্ন
গুলোর কথা ভাবতে ভাবতে অবনীর
চোখে তন্দ্রা চলে আসে। চোখ বুজে
তলিয়ে যায় স্বপ্নের রাজ্যে। অপর
প্রান্ত থেকে এখনো বকবক করেই
যাচ্ছে ছেলেটা। ছেলেটা ঠিকি
বুঝতে পারে অবনী ঘুমিয়ে গেছে।
ছেলেটা ফোনটা রেখে বেড রুমে
এসে দেখে। অবনী ফোনটা কানের
রেখেই ঘুমিয়ে গেছে। ঠোটে কণে
হাসিটা লেগেই আছে। জানালা
দিয়ে কিঞ্চিৎ জোৎসনা এসে
পড়েছে অবনীর মুখে। মনে হচ্ছে একটা
ঘুমন্ত পরী ঘুমিয়ে আছে। এতখন অবনী যে
ছেলেটির সাথে কথা বলছিল সে
ছেলেটি আর কেউ নয় আমি। আর অবনী
আমার স্ত্রী। অবনীর সাথে হঠাৎ করেই
পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়ে যায়।
দুজন দুজনা কে শুধু একনজর দেখেছিলাম।
আমাদের আলাদা ভাবে কথা বলার
কোন সুযোগ দেওয়া হয়েছিল না।
বিয়েটা হয়ে গেলো। রাত্রে
বাসরঘরে ঢুকে অবনীর পাশে বসতেই
মেয়েটা চিৎকার করে বললো।
_ একদম আমার কাছে আসার চেষ্টা
করবেন না। যদি আসেন তাহলে শরীর
পাবেন তো মন পাবেন না।
একদম বাংলা সিনেমার ডায়লগ। আগে
যানতাম এসব সিনেমাতে হয়। এখন
দেখছি রিয়ালিটি তেও হয়। তাও
সেটা আমার সাথে। আমি একটু কাতর
সুরে মুখ কাছুমাছু করে বললাম।
_ দুটোই পেতে হলে কি করতে হবে?
মেয়েটা এক টান দিয়ে ঘোমটা
সরিয়ে আমার গাঁ ঘেসে বসে বললো।
_ দুটো পেতে হলে আগে আমার সাথে
প্রেম করতে হবে।
আমি অবাক চোখে মেয়েটার দিকে
তাকালাম। মেয়েটার কথায় প্রথমে
ভেবেছি বয়ফ্রেন্ড আছে হয় তো।
মেয়েটি মিটমিট করে হাসছে।
তারপর আরেকটু কাছে এসে আমার হাত
ধরে বললো।আমার বান্ধুবী গুলো সবাই কম বেশি
একটা দুটো করে প্রেম করতো। আমিও
প্রপোজ পাইনি তা কিন্তু না? আমার
একটাই স্বপ্ন ছিলো আমি আমার
স্বামীর সাথে বিয়ের পর প্রেম
করবো। থাকবেনা কোন হারিয়ে
যাওয়ার ভয়। নির্ভয়ে যেন তার পাশে
বসে মন খুলে কথা বলতে পারি। করবেন
আমার সাথে প্রেম?
মেয়েটা কথা গুলো বলেই আমার
দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে
আছে। আমি মেয়েটার চোখের দিকে
তাকিয়ে বললাম।
_ হুঁ! প্রেম করতে পারি। যদি আমাকে
তুমি করে বলতে পারও।
মেয়েটি আমার হাত শক্ত করে ধরে
হেসে দিলো। মেয়েটার হাসির
মাঝে বিশেষ একটা গুণ আছে। এই
ধরণের হাসি দিকে একবার কেউ
তাকালে নিশ্চিত প্রেমে পরে
যাবে। আমিও প্রথম দিনেই মেয়েটার
প্রেমে ডুব দিলাম। তারপর অবনী
আমাকে শিখিয়ে দিলো কিভাবে
প্রেম করতে হয়। একি বাসায় থেকে
দুজন দু রুম থেকে ফোনে কথা বলা। একটু
লুকোচুরি করে দেখা। এই মুহূর্তে
জানালা দিয়ে চাঁদের আলো অবনীর
মুখে পরে অবনীকে বড্ড মায়াবী
লাগছে। আমি অবনীর দিকে ঘোড়
চোখে তাকিয়ে আছি কিছুতেই দৃষ্টি
সরাতে পারছিনা।

দুষ্টু মিষ্টি


অদ্ভুত সুন্দর


হঠাৎ প্রেম

মেয়েটার সাথে দেখা হয় রাস্তায়। হঠাৎ
পিছন থেকে এসে বলল...
-এখানে চটপটির দোকান কোনটা??
আমি মেয়েটাকে বললাম...
-ডানে গিয়ে বামে মোড় নিবেন। তারপর
সোজা গিয়ে তিনটা রাস্তা দেখবেন।
আপনি বাম পাশের রাস্তা ধরে একটু
এগিয়ে যাবেন। তারপর নাক বরাবর একটা
দোকান দেখবেন। সেখানে লিখা আছে
কিরণমালা চটপটি। ব্রেকেটে লিখা
আছে (পার্সেল করা হয়।)
-হইছে হইছে। আপনি আমাকে এভাবে না
বলে একটু এগিয়ে দিয়ে আসুন তো।
আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকালাম
মেয়েটার দিকে। মেয়েটা আমার
তাকানো দেখে বলল...
-সরি। আপনি মনে হয় যেতে পারবেন না।
সরি।আমিই যেতে পারবো।
বুঝলাম মেয়েটা লজ্জিত হয়েছে।
মাথাটা নিচু করে মেয়েটা গুনগুন করতে
করতে আর হাত নাড়তে নাড়তে হাঁটতে শুরু
করলো। মেয়েটা আমার বলা কথা গুলো
স্মরণ করতে চেষ্টা করছে। আমি পিছন
থেকে মেয়েটাকে ডেকে বললাম...
-শুনুন।
-জ্বী।
-দাঁড়ান। আমি যাবো।
বলেই হাটা দিলাম।
আমি মেয়েটাকে চটপটি দোকানটা
পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসলাম। এই মুহুর্তে
দাঁড়িয়ে আছি পাখির মোড়ের
কিরণমালা চটপটি দোকানের সামনে।
দোকানটার নাম যদি কিরণমালা
নাটকের পরিচালক দেখতে পারতো
তাহলে নিশ্চয়ই ঐ নাটকে দোকানটার
মালিককে একটা সুযোগ দিতো। হতে
পারে সেটা রাক্ষসীদের খাবার তৈরীর
চরিত্র। কিন্তু আমার মস্তিষ্ক বার বার
জানতে চাচ্ছে রাক্ষসীরা কি চটপটি
খায়?? যদি কখনো কোনো রাক্ষসীর
সাথে দেখা হয় তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ
প্রশ্নটা করবো।
মেয়েটা কিরণমালা চটপটি দোকানটা
থেকে চলে আসছে কিন্তু কিভাবে যেন
বার বার পিছন ফিরে তাকাচ্ছে। আমি
কেন জানি গোয়েন্দার মতো মেয়েটার
পিছন পিছন গেলাম।। তারপর দেখলাম
মেয়েটা একটু দূরে গিয়ে আবারো
চটপটির দোকানটার দিকে তাকালো।
মুখে একরকম তৃপ্তির হাসি। তারপর আমি
পিছন থেকে বললাম...
-বার বার কেন তাকাচ্ছেন ওদিকে??
কোনো সমস্যা?
মেয়েটা চমকে গেল আমার কথা শুনে।
তারপর বলল...
-আপনি যাননি এখনো??
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম..
-না। এখানেই ছিলাম।
-না আসলে একটা লোক বার বার আমার
দিকে তাকাচ্ছিলো দোকানটাতে।
এখানে আসার পরও লোকটা তাকিয়ে
আছে।
-কোন লোকটা??
-ঐ যে গোফওয়ালা লোকটা।
আমি ভাল করে খেয়াল করে দেখলাম
লোকটা আমার পরিচিত একজন। আমার
মামার থানার হাবিলদার সাহেব।
মামার থানা বলাটা ভুল হবে। থানা
সরকারি কার্যালয়। মামা সেখানকার
চাকর মাত্র। চাকর বলাটা ভুল নয়। কারণ
যারা চাকরী করে তারা চাকরই। তবে
মামা উচ্চপদস্থ চাকর। মানে ওসি
সাহেব।
আমি মেয়েটাকে আশ্বস্ত করে চলে
যেতে বললাম। হাবিলদার মেয়েটার
দিকে কেন তাকাচ্ছিলো সেটা জানি।
হাবিলদার আমাকে ফলো করছে
আজকাল। আমার সাথে মেয়েটাকে
দেখেই মেয়েটার দিকে এভাবে
তাকাচ্ছিলো। আর এসব কিছুর মূলহোতা
হলেন আমার মামা।
.
একলা একলা হাটছিলাম রাস্তায়। হঠাৎ
হাবিলদার সাহেব পুলিশের গাড়িতে
চড়ে আমার সামনে এসে থামালেন।
আমাকে বলল...
-পিছনে উঠে বসো। থানায় কাজ আছে।
-কি কাজ??
-সেখানে গেলেই দেখতে পারবে। উঠো।
আমি চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসলাম।
আমার বিপরীত পাশে একটা মহিলা
পুলিশ বসে আছে আর সাথে একটা মেয়ে।
মেয়েটার মুখ দেখতে পারছি না।
মেয়েটা লম্বা ঘোমটা দিয়ে আছে।
কিন্তু একটা কান্নার আওয়াজ আসছে।
যেটাকে ছিঁচকাঁদুনে বলা হয়। আমি
মহিলা পুলিশের দিকে তাকিয়ে ইশারায়
বললাম...
-কিসের আসামী??
উনি বললেন...
-মাদকদ্রব্যের সাথে ধরেছি।
আমি ওনাকে কথাটা ইশারায় জিজ্ঞাস
করলেও উনি কিন্তু ইশারায় উত্তর দেননি।
মেয়েটাকে শুনিয়েই বলল। আর সেই
কথাটা শুনে মেয়েটা লম্বা ঘোমটা তুলে
কান্না করতে করতে বলল...
-সব মিথ্যা কথা। আমার কাছে এসব কিছু
ছিলো না। ভার্সিটি যাওয়ার পথ থেকে
আমাকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে।
আমি মেয়েটার কথাটার থেকে মেয়েটার
মুখ দেখে বেশি আশ্চর্য হয়েছি। আমি
মনে করতে পারছি না কোথায় দেখেছি
ওনাকে। মনে পরছে না। হঠাৎ মনে হলো
উনি সেই কিরণমালা চটপটির কাস্টমার।
আমি মেয়েটাকে বললাম...
-আপনি সেই কিরণমালা না??
মেয়েটা কান্না থামিয়ে ধমক দিয়ে
বলল...
-আমি ইলমা।
-ওহ। সরি সরি।আপনার সাথেই তো সেদিন
দেখা হয়েছিলো তাই না?
বলেই হাসতে শুরু করলাম। এই মুহুর্তে
হাসাটা ঠিক হয়েছে কি না জানি না।
তবে মেয়েটা যে আমার হাসিতে বিরক্ত
হয়েছে সেটা বুঝতে পারছি। তবে
আমাদের কার্যকলাপ বেশ মনোযোগ
দিয়ে মহিলা পুলিশটা দেখছে। উনার
কাছে আমাদের ব্যাপারটা উপভোগ্য
নাকি বিরক্তিকর সেটা বুঝে উঠতে
পারছি না। এবার ইলমা কান্না করতে
করতে আমাকে বলল...
-আপনি এখানে কেন??
-আমি তো এটা দিয়ে প্রায়ই যাওয়া
আসা করি। কান্না করবেন না। আপনার
কিছু হবে না।
-আমি আমার খালার বাসায় আসছি
কিছুদিন হলো।এখানে থেকে
ভার্সিটিতে পড়ি। কিছু চিনিনা
জানিনা। যদি ওনাদের কানে যায় পুলিশ
আমাকে ধরে এনেছে তাহলে আমি
কিভাবে মুখ দেখাবো? আমার মরণ ছাড়া
আর কোনো উপায় থাকবেনা।
বলেই মেয়েটার কান্না বেড়ে গেলো।
আমি বললাম...
-শুনুন। আপনার কোনো সমস্যা হবে না।
আমি আছি তো।
-কি করবেন আপনি?? কি করতে পারবেন??
-আপনি চুপ করেন তাহলে সব ঠিক করবো।
.
মামা আমার সামনে বসে আছে। আমি
মামাকে বললাম

Tuesday, November 15, 2016

অভিমান

- ওই তুই আবার আমাকে ফোন দিলি
কোনসাহসে হুহ? কালকেই না
তোরসাতে
ব্রেকাপ করলাম, তোর লজ্জাকরে না
আমকে আবার ফোন দিছিস সয়তান
কোথাকার।
- আরে কাকড়ি আমি কি তোর সাথে
পিরিত কারার লাইগা ফোন দিছি?
তোরমত
কাকড়ির সাথে পিরিত করার, আর শখ
নাই
আমার।
- হুম আমার সাথে আবার পিরিত করার
মত
দূরসাহস দেখাইতে আসিস। তরে কুচি
কুচি
কইরা কাইটা কলেজের সব লুতু পুতু
ন্যাকা
টাইপের মাইয়াগো যদি না খাওয়াই
আমার
নাম নিধি না।
- আচ্ছা যা তোর নাম কাকড়ি!
- ওই তুই ফোন রাখ তোরমত খবিসের
সাথে
কথাবলার কোন ইচ্ছা নাই আমার।
- আরে কাকড়ি যে জন্য ফোন দিলাম
সেটাই'ত শুনলি না।
- বল কি? জন্য ফোন দিছিস!
- না মানে বলছিলাম কি, কালতো
কলেজে
প্রোগ্রাম আছে তাই না?
- তো?
- অনেক দিন তোরে শাড়ি পড়তে
দেখি
না,
কালকে একটু শাড়ি পড়ে আসিস, শাড়ি
পড়লে তোরে যা কিউট লাগেনা
ইচ্ছা
করে
কামরায়া দেই!
- তোর মত খবিস বেহায়া নির্লজ্জ এই
দুনিয়াতে আর একটাও নাই, তোরে এখন
কাছে পাইলে যে আমি কি করতাম
না!
- কি আর করতি আমার ঠোঁট'টা
কামরায়া
দিতি তাইতো,যা তোর এই ইচ্ছাটাও
আমি
অপুর্ণ রাখুম না, কালকে শাড়ি পড়ে
আসিস
আর তোর ইচ্ছাটা পুরণ করে যাইস। সেই
সাথে আমার ইচ্ছাটাও পুরণ হয়েযাবে,
যাকে বলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা
হা
হা!
- এই খবরদার হাসবিনা তোর হাসি
শুনলে
আমার গা জ্বলে,বদমাইশ কোথাকার
তোরমত বান্দর'রে সকাল বিকাল
থাপড়ানো
উচিত।
- আচ্ছা থাপড়াইস আর কামরাইস যাই
করিস
কাল কিন্তু শাড়ি পড়ছিস তুই!
- জীবনেও না আমি আর কোনদিনও
শাড়ি
পরুম না,বিয়ের পরও না এবং কি দুই
বাচ্চার
মা হলেও না!
- হায় হায় কস কি? আমার জন্য তোর
জামাইরে এত কিউট একটা তুই,!দেখার
থেকে
বঞ্চিত করবি?
- ওই আমার জামায়ের কথা তোর
চিন্তা
করতে হবে না,নিজের চরকায় তেলদে
বান্দর। আর খবরদার আমার সাথে কোন
প্রোকার যোগাযোক করার চেষ্টা
করবি
না। তোর সাথে আমার কোন সম্পর্ক
নাই।
এতক্ষণ ধরে যে বান্দর'টার সাথে কথা
বল্লাম, সে হলো আামার খালাতো
ভাই
আবির,পড়াশোনা শেষ হলেই আমাদে
বিয়ে। সেই ছোট বেলাথেকেই এই
বান্দর'টাকে আমি ভীষণ ভালবাসি,
মাঝে
মাঝে আমার নিজের উপড়ি রাগহয়
দুনিয়াতে এতো ছেলে থাকতে কেন
যে
এই
বান্দর'টাকে ভালবাসতে গেলাম
আমি
নিযেই জানি না। তবে এটুকু জানি এই
বান্দর'টাকে ঘিরেই আমার পৃথিবী।
কিন্তু
গতকাল ওরসাথে ফাইনালি ব্রেকাপ
করেছি। কেনইবা করব না যখন কলেজে
ন্যাকা ন্যাকা মইয়াগোলা ওর সাথে
হেসে
হেসে কথাবলে তখন আমার পুরো
গায়ে
আগুন লেগেযায়। ইচ্ছে করে সবগুলোকে
ধরে
পিশে ফেলি। কলেজে কি আর কোন
ছেলেনাই ওরসাথেই কেন তোদের
ন্যাকামি করতে হবে। আর আমার
বান্দর'টা
আমাকে দেখে আরো বেশি বেশি
করে
ওদের সাথে কথাবলে।
বেশ করেছি ব্রেকাপ করেছি, এখন যা

ন্যাকা মেয়েদের কে গিয়ে বল
শাড়ি
পড়তে। এ্যহ্ আমাকে বলতে আসচ্ছে
শাড়ি
পড়তে কিছুতেই আমি শাড়ি পড়বো না,
আমি কেন ওর কথায় শাড়ি পড়তে যাব
হুহ্ ও
আমার কে।
নাহ্ যাই আম্মুর কাছথেকে নীল
শাড়িটা
নিয়ে আসি, নীল শারি বান্দর'টা খুব
পছন্দ
করে, কিন্তু আমি ওরসাথে একটা কথাও
বলব
না কিছুতেই বলব না।
ইস্ যদি বান্দর'টাও নীল পাঞ্জাবী
পড়ে
আসে তাহলে আমি কি ওর সাথে কথা
নাবলে থাকতে পারবো!!

অতি চালাক

বল্টু তার g.f কে কল দিল।
g.f: হ্যালো
বল্টু:হ্যালো জান তোমার সাথে
একটা দরকারী কথা আছে।
g.f:কিছক্ষন আগে না কথা বলছিলা
!আবার কিসের
কথা??
বলটু :আসলে তোমার নাম্বারটা না
ডিলিট হই
গেছে।
তোমার নাম্বারটা দাও তো প্লিজ??
g.f: দিমুনা
যাও ভাগো,,,এই বলে
কল কেটে দিল।বলটু হতাশ হয়ে
বশে আছে তা দেখে সল্টু বলটু
কে বলে কিরে কি
হইছে???
বলটু :আর বলিস না g.f এর নাম্বার ডিলিট হই
গেছে।
তাই কল করলাম কিন্তু সে দিলনা,,,,
সল্টু:তুই
কি ব্যাক্কল নাকি,,,
তোর g.f এর নাম্বার ডিলিট হই
গেছে অার তুই ওই নাম্বারেই কল করে তার থেকে নাম্বার
খুজস???
,
,,
সালা ওর নাম্বারে মেসেজ কইরা
বল।।।।

আম আর দুধ

Poltu ফোন দিল, ধরলো Boltur বউ.....
.
- ভাবী! হারামিটা কই.......?
.
--- খাচ্ছে...........
.
- খাচ্ছে? এই অবেলায়! বেটার পেটে
হাঁস ঢুকলো নাকি?
.
--- আর বইলেন না ভাই, হঠাৎ করে তার
নাকি আমার দুধ খেতে ইচ্ছে করছে.....
.
পল্টু ত্রিশ সেকেন্ড তব্দা মাইরা
বইসা থাকল। আর মনে মনে বলে
এইটা কি শুনলাম!!!!!! ও
দিকে বল্টুর বউ ফোনে হ্যালো হ্যালো
করেই যাচ্ছে। পল্টু কোনরকমে
মিনমিন করে আবারো
জিজ্ঞাসা করল!!!
.
- কি খাচ্ছে বললেন!!
.
--- 'আম আর দুধ!'...
বলেই বল্টুর বউ চুপ হয়ে গেল। পল্টু
হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে, ও প্রান্ত
থেকে কোন সাড়া নেই।




বেচারী বোধহয় সমস্যাটা বুঝতে
পেরেছেন।

বিজ্ঞানি

বল্টুর একবার
বিজ্ঞানী হবার খুব
শখ হলো!!
.
তো সে একটা তেলাপোকা নিলো
গবেষণার
জন্য।
.
সে তেলাপোকার
একটা পা কাটল আর
বলল
“হাঁটো”!!
.
তেলাপোকাটি কষ্ট তার
স্বাভাবিক
নিয়মে জান
বাঁচাতে হাঁটতে লাগলো।
.
এরপর সে আরও
একটি পা কাটল
এবং বলল "হাঁটো”!!
.
তেলাপোকাটি এবারো অনেক
কষ্টে হাঁটতে লাগলো।
.
এভাবে বল্টু সব
গুলো পা কাটল
এবং বলল“হাঁটো”!!
.
কিন্তু
তেলাপোকাটি আর
হাঁটতে পারল নাহ!!
.
তারপর বল্টু
ঘোষণা দিলঃ breaking news..!!!
:
:
:
:
“সবগুলো পা কেটে ফেলার পর
তেলাপোকা আর কানে শুনতে পায়
না !!

বোকা

বল্টু তার গার্লফ্রেন্ড নিপার
সাথে
ডেটিং-এ এসেছে……………
..
..
..
..
নিপাঃ আমি আমার পার্সটা ভুলে
বাসায় রেখে এসেছি। কিন্তু, এখন আমার ২০০০ টাকার খুব দরকার।
..
..
..
..
বল্টুঃ কোনো সমস্যা নেই, আমি আছি না,

::
এই নাও ২০ টাকা

এটা দিয়ে রিকশা করে বাসায় গিয়ে পার্সটা নিয়ে এসো!!!!!!! problem
solve!!!!!

Sunday, November 13, 2016

ফেসবুক প্রেম

হ্যালো।
- বলুন ম্যাডাম।
- কই তুমি?
- বাম পাশে।
- কই দেখিনা তো।
- ধুরু, তোমাকে বুক চিরে দেখতে বলছি?
- ফাইজলামি রাখো। কই তুমি বলো। - কই আর। বাসায়ই আছি।
- সকালে খাইছো?
- তার জন্য ব্রাশ করতে হবে।
- কি? এখনো ব্রাশ করো নাই?
- সকালে করবো।
- সকাল কয়টায় হয়?
- জানিনা। আমার তো ১০-১১ টার মধ্যেই হয়।
- ৯ টা বাজে। উঠবা না আমি কিছু করবো?
- ওয়েট ম্যাডাম। এক্ষুণি উঠছি। - ব্রাশ, ফ্রেস, ব্রেকফাস্ট,
স্টাডি। এর মধ্যে ফোনে হাত দিলে খুন করে দেব। - আম্মুউউউউউ!
- ঐ, একদম আম্মুকে ডাকবা না।
- তোমার আম্মুকে ডাকি নাই। আমার আম্মুকে ডাকছি।
- যাকেই ডাকো। এইখানে আম্মুর কোন কাজ নাই। ফোন রাখো।
টাটা, লাভিউ। টুটটুটটুট.....
- যা বাবা! আমাকে টাটা বলার টাইমটাও দিলোনা??
আম্মুউউউউউ!! - আবার??
- ও, তুমি ফোন রাখো নাই তাইলে। ভালোবাসি।
- হয়েছে, এবার যান। ফ্রেস হন। - ওকে, বাই!
এতখন যার সাথে কথা হচ্ছিল তার নাম রিমু আর আমি হিমেল আমাদের পরিচয় হয় ফেসবুক থেকে, আমি একটু আকটু গল্প লিখতাম আর আমার গল্পগুলা ওর ভাল লাগত এভাবেই ভাললাগা থেকে ভালবাসায় রুপ্রান্তরিত হয়।
- হ্যালো বাবু।
- কেমন আছো?
- খুব খুব খুউউউব ভালো না!
- তাই বাবুতা?
- হুঁম।
- তো কি হইছে শুনি।
- ব্রাশ, ফ্রেস, ব্রেকফাস্ট, স্টাডি; কত্ত কাজ করছি দেখছো?
- আহালে বাবুতা। থাক, কালকে থেকে এগুলো আর করতে হবেনা।
- বিয়ের আগে বিধবা হবার ইচ্ছা হইছে?
- একতু একতু!
- তাইতো বলি। নাহলে এমন পরামর্শ হাউ সম্ভব?
- আচ্ছা, এখন ফোন রাখেন। পরে কথা বলবো। এখন আমার কাজ
আছে।
- আহারে, আমার বউতার কত্তো কাজ করতে হয়!
- হুঁম, টাটা।
- বাই, লাভিউ।
- টু......
ভালবাসার দিন গুলা এভাবেই কাটতেছিল
দেখতে দেখতে ২মাস কেটেয় গেল।
একদি হঠাৎ.....
ঐ তুমি আর গল্প লিখবা না
-কেন-?
-লিখবা না বলছি লিখবা না বাস।
-কারণটাত বলবা
- ঐ মেয়েটা তোমার গল্পে কি কমেন্ড করছে হুম,
- কমেন্ডইত করছে তাতে কি হইছে?
- ওকে তুমি যাও ঐ মেয়ের সাথে প্রেম কর আমাকে আর কলদিবা না,
বলেই ফোনটা কেটেয় দিল,মেয়েটা এত রাগ হয়তো আমাকে অনেক ভালবাসে বলেই কাউকে সহন হয়না ওর, আমি কল দিয়ে দেখি ফোন বন্ধ কি করব কিছুই বুঝতাছি না সাত পাচ ভেবে মোবাইটা বন্ধ করে ঘুমিয় পড়লাম, সকালে নাস্থা করে খেলার মাঠে চলে গেলাম মোবাইটা বাড়িতেই ভূলে ফেলে এসেসি, খেলা শেষ করে দুপুড়ে বাড়ি ফিরে মোবাইটা অন করে দেখি রিমু মেসেস দিছে আমি নারায়ণগঞ্জ আসতেছি' আমি ত অভাগ এই মেয়ে বলে কি গাজীপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ সাথে সাথে ফোন দিলাম
-তুমি কই এখন?
-গুলিস্থান
-তুমি কি পাগল হয়ে গেলেয়
-তোমার মোবাই বন্ধ কেন?
-কাল মোবাই বন্ধ করে ঘুমি পড়েছি তাই
সকালে ভূলে মোবাইটা সাথে নিতে মন ছিলনা,
-তুমি বাস ইষ্টেশোনে দাড়াও আমি আসতেছি
-আমি সাথে সাথে চলে গেলাম গিয়ে ১০'১২ মিনিট ওয়েট করার পর আমার পরীটার দেখা হল
-এমন পাগলামি কেউ করে
- তুমি মোবাইল বন্ধ রাখছ কেন তাই আমার অনেক কান্না পাচ্ছিল থাকতর না পেরে আমি চলে এলাম এক দমে সব কথা বলে দিল,
-তাই বলে এত দুর কেউ না বলে চলে আসে যদি আমি মোবাইল অন না করতাম তাহলে কি হত
-যা হবাড় হইত এখন চল আমার ক্ষুদা লাগছে
আমি সকালে কিছু না খেয়েই চলে এসেছি
- যাই হক প্রিয় মানুষটার সাথে খাওয়া দাওয়া পড়
কিছুখন গুড়া গুড়ির পর তাকে....
চল তোমাকে বাসে উঠিয়ে দেই নারহলে রাত হয়ে যাবে তোমার বাড়িতে বকা দিবে
ওকে চল গড়িতে উঠিয়ে দিয়ে আমি দাড়িয়ে রয়েছি পাগলিটা দিকে যতখন দেখা যায় পাগলিটাকে
তত খনই দেখছি
বাড়িতে ফেরার জন্য হাটতেছি হঠাৎ রিমুর ফোন এই মাএ না কথা হল আভার কি.....
-ঐ শুন তুমি কিন্তু প্রিতি দিন গল্প লিখবা
তুমি যদি গল্প না লিখ আমি কার গল্প পড়ব
আমার জন্য তুমি শুধু গল্প লিখবা
-আচ্ছা ঠিক আছে এখন তুমি বাড়িতে যাও
আর শুন তুমি কিন্তু বাড়িতে পৌছে
আমাকে ফোন দিবা
-ঠিক আছে
-ওকে
-বাই
- আম্মু।
- কি?
- তোমার শরীরটা ভাল লাগছে না। চলো ডাক্তার দেখাই।
- কই? আমি তো ভালোই আছি।
- ও, আচ্ছা। তবুও যাই না! চেকআপ করিয়ে নিয়ে আসলে ক্ষতি
কি?
- বাহ্! বাবাজানের এত উন্নতি হঠাৎ? - বড় হইছি না?
- অবশ্যই বড় হইছিস। তাইতো বিয়ের আগে বাবুর মা ফোন দেয়!
- কিইইইই?
- বাবুর মা নাম্বার থেকে ফোন আসছিলো।
নীল কাব্য কে চায়।
- দেখছো। রং নাম্বার। এখানে নীল কাব্য বলে
তো কেউ নেই।
- হ্যাঁ, রং নাম্বার। তাইতো সুন্দর করে "বাবুর মা" লিখে
নাম্বারটা সেভ করা।
- আসলে আম্মু। তুমি যা ভাবছো তা না। - তা তো অবশ্যই না। আমি
ভাবছি এটা তোর ফ্রেন্ড বাবুর মা। কিন্তু আসলে তা না।
- রাইট, এটা বাবুর মার নাম্বার। - আসলে আমি যা ভাবছি তা না।
বিয়ের ব্যাপারে কিছু ভাবছিস? - আম্মুউউ! কি যে বলোনা।
- হইছে, আর অভার এক্ট করা লাগবে না। - পরিচয় করাবি না?
- পরে।
- দেখতে অবশ্যই পরীর মতো। তাই না। - আমি দেখিনি?
- কি?
- মানে পরী দেখিনি।
- তবেরে...........
যাক দুই পরিবারে মিলে ভাল বাভে
বিয়ের কাজটা হয়ে গেল.......
.
- ঐ, আমার যৌতুক কই?
- আমি কেন যৌতুক দেব?

পাবলিক ভার্সিটি

>কিরে তুই অনলাইনে আসলি আমাকে ফোন দিলি
না কেন....???
>>কেন...???
>>আগে যেমনটা করছিস এখন আর সেসব খুঁজে
পাই না তোর মাঝে
>>ডাটা অন ছিল তাই একটিভ দেখিয়েছে
>>সত্যি কি তাই....???
>>দেখ তুহিন তুই যদি অন্যটা বুঝিস তাহলে আমার কিছুই
বলার থাকবে না।আমি একটা ফ্রি লাইফ চাই।
>>আর কত ফ্রি লাইফ চাস তুই.....???
>>তোর যদি ভাল না লাগে তাহলে আমাকে ছেড়ে
দে প্লিজ। আমি এত চাপ আর নিতে পারছি না।
>>ছেড়ে দিব বলে তো হাতটা ধরি নি.....!!!
>>জানি না বাই।আর ম্যাসেজ দিবি না
>>রিধি শোন, শোন বলছি
.
আমার করা শেষ ম্যাসেজটি আর যায় নি।লিখা উঠেছিল
"This Person Isn't Receiving a Message From
You Right Now" দ্যাট মিনস আমাকে ম্যাসেজ ব্লক
দিয়েছে।ফোনে ট্রাই করেওও দেখলাম কিন্তু
ফোনের সুইচড অফ করা ছিল।
.
রিধিটা ইদানীং কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে।
কথাবার্তা সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে গেছে।
রিলেশনের প্রথমদিকে আমার সাথে ঠিক
যেরকমভাবে কথা বলত এখন আর সেরকম খুঁজে
পাই না রিধির মাঝে।প্রথমে আমার যতটা কেয়ার
করত,আমাকে যতটা ভালবাসত এখন আর সেরকম
কিছুই দেখি না।অবশ্য রিধিকে সন্দেহ করি না কারন
একটা রিলেশন টিকে থাকে বিশ্বাসের উপর।কিন্তু
ওর কথাগুলো খুব কষ্ট দেয় আমাকে।
আর কিছু হলেই ম্যাসেজ ব্লক দেয়।ম্যাসেজ
ব্লক দেয়া এটা যেন একটা দৈনন্দিন রুটিনের
অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
সকালে কি হয় এখন সেই অপেক্ষায় আছি......!!
.
পরেরদিন সকালবেলা.....
.
ঘুম থেকে উঠেই ফোনটা হাতে নিলাম।না আজ
ফোনে কোনো ম্যাসেজ বা কোনো মিসড
কল নেই।প্রতিদিন সকালে রিধি আমাকে ফোন
দিয়ে অনলাইনে আসতে বলত কিন্তু আজ.....!!
ডাটা অন করে অনলাইনে ঢুকলাম।হুম রিধি অনলাইনেই
আছে।নামের পাশে ছোট্ট সবুজ চিহ্নটা এখনও
জ্বলছে।ম্যাসেজ টাইপ করতে গিয়ে হঠাত মনে
পড়ে গেল রাতে যে আমাকে ব্লক দিয়েছিল।তাই
হাই লিখে সেন্ড করার ট্রাই করলাম।নাহ এখনও
ব্লকেই আছি।রিধির গ্রামীণফোনে কল দিলাম।
দুইবার কেটে দেয়ার পর তিনবারের মাথায় ফোনটা
রিসিভ হল......
.
>>কি ব্যাপার রিধি তুই আমাকে ম্যাসেজ ব্লক দিয়ে
রাখছিস কেন....???
>>এমনি ইচ্ছে হয়েছে
>>ইচ্ছে হবে কেন.....???
>>এই শোন তোর কথার এত কৈফিয়ত দিতে আমি
বাধ্য নই।আমি ব্রেক আপ চাই।
.
রিধির মুখে কথাটা শোনার পর খানিকক্ষণের জন্য
স্তব্ধ হয়ে গেলাম।কি বলছে এটা.....??? যেই রিধি
আমাকে এত ভালবাসত আজ সেই কিনা বলছে
ব্রেক আপ চায়......???ভাবতেই কেন জানি খুব কষ্ট
হচ্ছে....
.
>>রিধি তুই কি বলছিস এইসব....???
>>হ্যাঁ আমি ঠিকই বলছি
>>অনলাইনের ব্লকটা একটু ছুটায় দিবি প্লিজ....???
>>কেন....???
>>ফোনে ব্যালেন্স সীমিত। অনলাইনে কিছু কথা
বলতাম.....!!
>>আচ্ছা দিচ্ছি
.
ফোনটা কেটে দিলাম।আসলে ফোনে টাকা
আছে ঠিকই কিন্তু এখন রিধির সাথে কথা বলা সম্ভব
না।সইতে পারব না......!!!
২ মিনিট পর রিধিকে অনলাইনে ম্যাসেজ দিলাম....
.
>>রিধি....??
>>তুহিন আমি ব্রেক আপ চাই
>>কেন চাস....???? আমার কি অপরাধ....????
>>আমি জানি না এতকিছু।আমি ব্রেক আপ চাই
>>আমি কি তোর যোগ্য নই....????
>>জানি না
>>জানবি না কেন....??? জানতে হবে তোকে
>>দেখ তুহিন চুপ কর বলছি।তোর সাথে কথা
বলতে ভাল লাগছে না
>>লাগবে কিভাবে তুহিন তো এখন পুরোনো
হয়ে গেছে।পুরোনো জিনিসের প্রতি মানুষের
আকৃষ্টতা একটু কমই থাকে
>>বুঝিসই যখন তাহলে কথা বলছিস কেন.....???
>>আচ্ছা ব্রেক আপ করব।তোকে
সারাজীবনের জন্য মুক্তি দিয়ে দিব তবে আমার
একটা জিনিস চাইবার আছে
>>কি জিনিস....???
>>আমার সাথে শেষবারের মত একটু দেখা করবি
প্লিজ....???
>>না
>> প্লিজ লাস্ট বার.....!! একবার দেখা কর প্লিজ। আর
তো কখনও কথাও হবে না আর দেখাও হবে না
>>আচ্ছা ঠিকাছে।বল কবে,কোথায় আসতে
হবে.....!!
>>আজ বিকেলেই আয় পার্কে
>>আচ্ছা আমি বিকেল ৪:০০ টায় আসব
>> আচ্ছা ঠিকাছে
.
অনেক কষ্টে রিধিকে দেখা করানোর জন্য
রাজী করালাম।কিছু কথা বলার ছিল যেইগুলো না
বললেই নয়।আর কথাগুলো সামনা সামনি বলতে
হবে।ফোনে বললে হবে না। তাই দেখা করতে
বললাম।
.
বুকের ঠিক মাঝখানটায় কেন জানি একটা চিনচিনে ব্যাথা
হচ্ছে।খুব ব্যাথা হচ্ছে।কাছে মানুষগুলো যখন
দূরে চলে যায় তখনই মনে হয় এমন লাগে....!!
.
বিকেল ৪:০০ টায় পার্কে.....
.
বেঞ্চের দুইদিকে দুইজনই চুপ করে বসে আছি।
কারো মুখে কোনো কথা নেই।রিধিই নিঃস্তব্ধটা
ভাঙল
.
>>কি জন্যে ডেকেছিস বল
>>তুই কি আসলেই ব্রেক আপ চাস রিধি.....???
>>কি মনে হয় তোর.....???
>>কেন জানি বিশ্বাস হচ্ছে না তোর কথাগুলো....!!!
এটা কি সেই রিধি যে আমাকে অনেক
ভালবাসত.....??? এটা কি সেই রিধি যে আমার জ্বরের
কথা শুনে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে আমার বাসায়
এসেছিল.....????
>>হ্যাঁ এটা সেই রিধিই তুই যাকে চিনিস
>>আচ্ছা সে কেন এত চেঞ্জ হয়ে
গেল.....????
>>জানি না
>>সত্যি ব্রেক আপ চাস.....????
>>হ্যাঁ
>>আরেকটা বার ভাবা যায় না....???
>>না যায় না।তুই নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে
পারিস নি
>>মানে.....????
>>আবেগ দিয়ে কখনও জীবন চলে না।

ভালবাসার তুই

- ঐ উঠ
- দেখ আনিকা সকাল সকাল জ্বালাইস না
এমনেতেই তুই সারাদিন জ্বালাস ( ঘুমের ঘরে )
- উঠে দেখই না কেয়
- দেখ আর জ্বালাইনা সান্তিতে ঘুমাইতে দে
- রাখ তোমার ঘুম দেখাইতাছি...
- হঠাৎ গায়ে পানি ডেলে দিল
সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠে বসে পড়লাম
ঐ তুমি কে?
-বলতো আমি কে ?
-কে ?
-ধুর হাদারাম । আমি নিশাত
-নিশাত কে ? ও হ্যা একবার স্কুলে
অংক সৃজনশীলে পড়েছিলাম নিশাত
আর তিশার টাকার সমষ্টি 250 টাকা
(চিনেও না চেনার ভান করে)
-ঐ কুত্তা । আমাকে চিনিস না
তাইনা ? তোকে আজ আমি মেরেই
ফেলবো । বলেই বালিশ নিয়ে যুদ্ধ
করতে থাকে আমার সাথে ।
মারামারির এক পর্যায়ে নিশাত
আমার অনেক কাছে চলে আসে । পরে
দুজনের চোখ চোখাচোখি হতেই দুজন
হতভম্ব হয়ে পড়ি । ও লজ্জা পেয়ে চলে
গেলো । ওহ গল্পের চরিত্রগুলোর
পরিচয়ই দেওয়া হয়নি । আমি নিরব।
ঢাবি তে কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়ি
সাথে একটা জব।আর এতক্ষন যার সাথে
মারামারি হচ্ছিলো সে আমার
ছোটোবেলার বন্ধু নিশাত । ক্লাস
ফাইভে থাকাকালীন সময়ে ওর আব্বুর
ট্রান্সফার হয়ে যায় । ও চলে যায়
সিলেটে । অনেকদিন করে দেখে ও
কে চিনতে পারিনি । যাক এখন সময়টা
ভালোই কাটবেআমার কাছে রাতটা
খুব ভালো লাগে । কোনো
জোস্নাভরা তারা কিংবা নিস্তব্ধ
অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত ।তাই রাতে আমি
২/১ ঘন্টার জন্য ছাদে যায় । আর উপভোগ
করি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কে । আজো
এসেছি
-এই নিরব
-(পেছনে তাকিয়ে দেখি নিশাত) হুম
বল
-তুই ছাদে কি করছিস ? তোর ভয়
লাগেনা ?
-ভয়? তাও আবার আমার? হুহ । এই তোর
পেছনে ভূউউত হাহাহা
(কথাটা শোনা মাত্রই ভয়ে জর্জরিত
হয়ে নিরব কে জড়িয়ে ধরে । মুহূর্তের
মধ্যেই নিরবের হাসি থেমে গেলো ।
ও এই বিষয়টার জন্য একেবারেই প্রস্তুত
ছিলোনা)
-এই নিশাত সর । পেছনে তাকিয়ে
দ্যাখ ভুত জিন পরি কিছুই নেই
-কুত্তাআআআ ।দাড়া আন্টিকে বলে
দিচ্ছি
-এই না না । দাড়া।আই এম সরি
-ওকে । আজকের রাতটা অনেক সুন্দর
না ?
-হুম আমি প্রতিদিনই ছাদে আসি
-ছাদে কি করো?
-আমার অপসরির কথা ভাবি
-ওহ গুড
-চল নিচে যায় ।
-ওকে চল
.-ভাইয়া (আমার পিচ্চি শয়তান বজ্জাত
বোন)
-বল
-তোর ফোনটা দে না গেম খেলি ?
-না । তোর পড়াশোনা নেই ?
-হুহ । লাগবে না তোর ফোন সর
-হ তুই সর
-নিরব একটু এদিকে আয়তো (আম্মু)
-এসব কি শুনলাম ? কথাটা কি সত্যি ?
-কি কথা আম্মু ? (আম্মুর পাশে
পিচ্চিটাকে দেখলাম মুচকি হাসতে ।
তারমানে কিছু একটা গরমিল করে
দিয়েছে ও)
-কি মানে ? তুই আর নিশাত যে প্রেম
করিস এটা আগে বলিস নি ক্যান ?
-দেখো আম্মু । তোমার বোঝার ভুল
হচ্ছে । এসব কিছুনা
-থাক আর মিথ্যে বলতে হবেনা । আমি
নিশাতের বাবা মার সাথে কথা
বলব।
-কিন্তু আম্মু আমাকে বলতে দিবা
তো...
-থাক তোর কিছু বলা লাগবেনা
পিচ্চিটার চুল টানতে ইচ্ছা হচ্ছে
আম্মু সাথে বলে পাড়ছিনা।
-আনিকা এদিক আয়ত একটু
-ভাইয়া আমিত কাজ করতেছি
-রাখ তর কাজ তুকি কাজ করফ আমার জানা আছে
তুই আম্মিকে কেন বাজে কথা বলি
- শোন ভাইয়া নিশাত আপু আমাকে সব বলেছে
তোমরা কি কর।
- তবেরে.....
তোর চুলের আজ বারটা বাজাব
এক দৌড়ে নিশাতের কাছে চলে গেল
- এই আপু ভাইয়া আসতেছে (আনিকা)
-তুমি বস আমি দেখছি
ঐ কি হইছে হুম (নিশাত)
- তুই শরে তারা পিচ্ছিটারে একটু আদর করমু (আমি)
- খবরদার ওর গায়ে হাত দিবানা বলে দিলাম
- ওয় আম্মুকে কি বলে তুমি জান
- কি??
- আমরা না কি প্রেম করি
- তো কি হইছে করিত
- আমিত তরে বিয়ে করবনা
- তুই করবিনা মানে
- দাড়া দেখাছি মজা
- আনিকা এদিকে আশত
- বাপরে আর থাকা যাবেনা এখানে দুটার হাত থেকে পালাই।
- আপু তোমাকে আজ থেকে আমি বাভি বলে ডাকব
- তোমার যা মনে চায় তাই বইল
-তোমার ভাইয়াকে নিয়ে শপিং করতে যাব
তুমি আমাদের সাথে চল
-সত্যি
-হুম
- তুমি ভাইয়ার কাছে যাও আমি রেডি হয়ে নেই
-ওকে
- নিরব চল শপিং যাব
- কেন?
- শপিং এ মানুষ কেন যায় শুনি
- কেন আভার কেনাকাটা করতে যায়
-হুম তুমি রেডি হও আমি আনিকা কে নিয়ে আশি
- ঐ পিচ্চিটা ও কি যাবে?
- হুম
আমি শেষ, পকেটে যে কটাকা আছে আজ তার রেহায় নাই যাই হক আমরা শপিংমহলে পৌছলাম।
-ভাবি এটা নেও তোমাকে অনেক সুন্দর মানাবে
-ঐ কে তর ভাবি হুম? (আমি)
- তুমি একটু বাহিরে যাওত কেনাকাটা শেষ হলে আইশ
কেনাকাটা শেষ করে নিশাত আমাকে ডাকল কতগুলা শপিং ব্যাগ হাতেনিয়ে
এইবুঝি পোকেটা খালি হতে যাচ্ছে...
- এই শপিং ব্যাগগুলা দড়ত একটু
-এত শপিং মনে হচ্ছে কার বিয়ের কেনাকাটা করেছ
যাক বিলটা আমার আর দিতে হয়নি, একটা সি এন জি করে বাড়িতে পৌছালাম।
- নিরব এদিকে আয়ত একটু
- জি আম্মু
- আমি নিশাত এর বাবা- মার সাথে কথা বলেছি
আগামি শুক্রবার তোদের বিয়ে।
- আম্মু কি বল তুমি
- কেন তোকে নিশাত কিছু বলেনি
-না মানে হুম
-নিশত ত আমাদের নিজেরি মেয়ে,সেই ছোট কাল থেকে তকে আনেক ভালবাসে।
মায়ের রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমে গিয়ে ভাবছি
এ মেয়েটা এত ভালবাসে আমাকে আগে কেন বলেনি
হঠাৎ নিশাত!...
-আসব
-হুম আস
-কিকরতেছিলা
-কিছুনা, তুমি যে বিয়ে করতে এসেছ আগে কেন বলনি
- তুমি বলেছ আমাকে ওয়াও
- কিছুদিন পড়ত তোমাকে তুমি করেই ব

কিছুটা বিশ্বাস কিছুটা অবিশ্বাস

-এই শুনো
-কি??
-কালকে তোমাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাবো ।
তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো ।
তুমি জীবনেও ভুলবা না ।
-মানে কি ?
-মানে কিছু না ।
আমার বহুদিনের
একটা ইচ্ছা কালকে পুরন হবে।
পিয়াসের রহস্যে ঘেরা কথা সানজিদার কাছে বোধগম্য হল না।
আসলে পিয়াস কি বলতে চাইছে?
রুমে এসে সানজিদা ওর
রুমমেটের কাছে বলতেই,
ওর রুমমেট মৌ হায় হায় করে উঠল!
মৌ বলল
-তুই এখনও বুঝতে পারছিস না?
-কি বুঝতে পারবো?
-আরে এই যে পিয়াস ওর আসল
রূপ দেখাতে শুরু করেছে।
কালকে তোকে ওদের
বাসায় নিয়ে যাবে।
তারপর ....
-তারপর?
-সানজিদা তুই বোকাই রয়ে গেলি রে!
লিটনের ফ্ল্যাটের গল্প শুনিস নাই।
এখানে পার্থক্য হলো পিয়াসের ফ্ল্যাট !
আর কিছু না।
সানজিদার কথাটা মানতে কষ্ট হল।
নাহ পিয়াস এমন করতে পারে না।
ও এমন ছেলে না ।
সানজিদা নিজের মাঝেই কেমন একটা দ্বিধায় পরে গেল।
কি করবে?
কি করা উচিৎ ওর?
যাবে?
যদি সত্যি এমন কিছু করে?
কিন্তু পিয়াসের উপর
এখনও তার বিশ্বাস হারাতে ইচ্ছা হচ্ছে না।
শেষমেষ রাজি হয়ে গেল।
অন্তত এই টুকু বিশ্বাস
আছে যে পিয়াস জোর করে
এমন কিছু করবে না
যাতে ওর সম্মতি নাই।
সকাল বেলা থেকে তাই সানজিদার
মনটা বিষন্ন হয়ে আছে।
কিছু ভাল লাগছে না।
পিয়াসের সাথে যেতে ইচ্ছা করছে না।
আবার পিয়াসকে মানাও
করতে পারছে না।
সিএনজি থেকে যখন সানজিদা
নামলো তখন আর একবার মনের
ভিতর কু-ভয় ডেকে উঠলো ।
-কি হল ?
পিয়াসের হাস্যজ্জল মুখ
দেখে একটু শান্তি এলো মনে।
মনে হল নাহহহ ।
এই হাসির পেছনের মানুষটি কখনও
কোন অন্যায়
করতে পারে না ওর সাথে।
পারবে না।
সানজিদা মনে মনে আবার
বলল প্লিজ পিয়াস এমন
কিছু করো না যাতে আমার
চোখে তুমি নিচে নেমে যাও!
প্লিজ!
একটা দরজার সামনে এসে পিয়াস থামলো।
বলল
-এটা আমাদের বাসা।
-তাই?
একটু হাসি আনার চেষ্টা করলো ।
না জানি কি সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে
ওর জন্য।
পিয়াস কলিংবেল চাপ দিল।
পিয়াসের দিকে তাকিয়ে
দেখলো সানজিদা
পিয়াস মিটমিট হাসছে ।
কি নিস্পাপ হাসি !
হঠাতই দরজা খুলে এক মহিলা
বের হয়ে এলো।
কেউ বলে দিল না কিন্তু সানজিদার
বুঝতে একটুও
কষ্ট হল না ইনিই পিয়াসের মা!
পিয়াসের মা হাসি মুখে এগিয়ে এলো।
তারপর পিয়াসের দিকে তাকিয়ে বলল
- যাক এতো দিনে একটা কাজ করেছিস?
তারপর
সানজিদার দিকে তাকিয়ে বলল -
আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছিল না
যে আমার ছেলের এত
সুন্দর একটা গার্লফ্রেন্ড আছে।
তুমি তো মা তোমার ছবির
থেকেও বেশি সুন্দর!
সানজিদা খুব লজ্জা পেলো!
এখন ওর কি করা উচিৎ?
কোন কিছু না বুঝে সানজিদা পিয়াসের
মাকে সালাম করতে
গেল কিন্তু মাঝ পথেই
তিনি ওকে ধরে বুকে জড়িয়ে ধরলেন!
এক অজানা ভাল লাগা সানজিদার সারা মন জুড়ে প্রবাহিত হল।
পিয়াস বলল
-মা ! আব্বা কই?
-তোর আব্বা একটু বাইরে গেছে !
এখুনি চলে আসবে !
পিয়াস কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই পিয়াসের
ছোট বোন মীম ঘরে ঢুকলো !
সানজিদাকে দেখে তো হইচই বাধিয়ে দিল!
একদম সরাসরি সবার
সামনে ভাবি বলে ডাকা শুরু।
সানজিদা এমনিতেই লজ্জা পাচ্ছিল।
আরও বেশি করে লজ্জা পেতে লাগলো।
মীম নিজে ওদের সবার ফ্ল্যাট ঘুরে দেখালো!
নিজের ঘরে নিয়ে গেল।
এমন একটা ভাব যেন সানজিদা পিয়াসের না মীমের বন্ধু!
সানজিদার খুব ভাল লাগছিল।
খুব বেশি।
আজ নাকি সব কিছু ওর জন্য করা হয়েছে।
কদিন থেকেই সানজিদার আসার
কথা ওরা আলোচনা করছিল। বাড়ীর কেউ আসলে ঠিক
বিশ্বাসই করে নাই যে পিয়াসের
একটা গার্লফ্রেন্ড থাকতে পারে।
আজকে ওদের
বাবা মা দুজনেই অফিস
থেকে ছুটি নিয়েছে ওর আসার জন্য।
মীম ও স্কুলে যায় নি।
বাড়ীতে স্পেশাল রান্না হচ্ছে সানজিদারর আসার জন্য!
বাড়ীর সবাই খুশি!
সানজিদাও খুশি!
কিন্তু মনের ভিতর একটা অপরাধ
বোধকাজ করছে।
ইস কি ভুলই না বুঝেছে সে পিয়াসকে!
এখনই ওর কাছে ক্ষমা চাওয়া দরকার।
-মীম !
-বলো ভাবী !
-আমি একটু তোমার ভাইয়ার ঘরে যাই !
ওর সাথে কয়টা কথা বলতাম।
-ও আচ্ছা ! এখন থেকেই এতো কিছু !!
একটুও সহ্য হচ্ছে না??
-না !! সেটা না !
সানজিদা হাসলো !
সানজিদা পিয়াসের ঘরে গিয়ে দেখে ও পিসিতে গেম খেলছে !
-পিয়াস !
পিয়াস ঘুরে দাড়ালো !
-বলো!
সানজিদা দরজাটা একটু
ঠেলে দিয়ে পিয়াসকে জড়িয়ে ধরলো!
জীবনের এই প্রথম বারের মতো।
মনের ভিতর কোন সংকোচ নাই!
কিছুক্ষনের ভিতরেই একটু
ফোঁপানীর শব্দ শুনতে পেল পিয়াস!
-আরে কি হল?
কাঁদছো কেন?
-আমি খুব খারাপ ! খুব !
তুমি আমাকে মাফ করে দাও!
- আরে আশ্চার্য! কি হয়েছে?
বলবা তো?
সানজিদাকে শান্ত
করতে পিয়াসের আরো
কিছু সময় লাগলো !
আরো কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই মীম ঘরে ঢুকে পড়লো !
দুজন কে একসাথে দেখে বলল
-আচ্ছা !!
এই ব্যাপার ! ভাইয়া !
তলে তলে এতো দুর ..
-এই যা ভাগ !!
-যাবো না ? আম্মাকে বলে দিবো !
পিয়াস বলল
-যা বল গিয়ে !
.
সানজিদা পিয়াসকে থামিয়ে দিয়ে বলল
-কি বলছো?
পিয়াস- ও এমন বলবে কেন?
সানজিদা-মীম তুমি বলবা বল?
মীম-বলব না !
তবে একটা শর্ত আছে!
সানজিদা হেসে বলল
-কি শর্ত বল!
মীম-এখানে বলবো না।
তুমি এসো আমার সাথে

Title



ক্ষতবিক্ষত ভালবাসা

আজ বিয়ের ৩ দিন হতে চলল।আজও আমার বউ এর মুখ দেখি নাই। না একে বারে দেখি নাই তা না তবে হালকা একটু দেখছি বিয়ের দিন বিয়ে পরানোর সময়।কেন দেখি নাই বউ এর মুখ সুনবেন আচ্ছা বলি,,,,,,

বাসর রাতে,,,
বাসর রাতে ঘরে ডুক্তেই
শোভাঃসুনুন আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই,,,,

হায় হায় এইটা তো ভাল লক্ষন না।আমার বন্ধু শামীম এর এমন হইছিল বিয়ের ৪র্থ দিন ডিবোর্স হয়ে গেছে। আমার কপালেও কি এমন আছে চিন্তা করেই কিছু না শুনেই চুপ করে সোফায় বসে পড়লাম।আর অর দিকে তাকাই নাই।কিছু ক্ষন প্রর আমি ভাবতে লাগলাম কোন দিন প্রেম করি নাই মা বারন করছে আর মা আমার জন্য এমন একটা বউ আনল।ভাবতে ভাবতে কখন যে গুমিয়ে গেছি খেয়াল নাই।আজ অফিস থেকে বারি ফিরছি
মনে আর সুখ নাই।বারি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রুমেরদিকে এগিয়ে গেলাম।গিয়ে দেখি মেয়েটা খাটের এক কোনায় মুখ লুকিয়ে কান্না করছে।
ভাবলাম হয়ত এখানে ওর ভাল লাগছে না তাই ডিবোর্স দেওয়ার চিন্তা করলাম।ওই দিন আর কিছু খাইনাই।পর দিন অফিসে না গিয়ে এক টা ডিবোর্স পেপার নিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় আসলাম।দেখলাম ও রুমেই আছে।
আমিঃরুমে আসতে পারি
ওঃআপনার রুম অনুমতি নেওয়ার কি আছে
----আমি তোমার জন্য কিছু এনেছি শুনে ও কেমন খুশি হয়ে বলল কি এনেছেন দেখি(উঠে এসে)
----পেপার দেখে হাত নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর কান্না করছে। আমি কিছু বুঝলাম না মেয়ে টার তো খুশি হওয়ার কথা।তারপর মেয়েটা আমায় কিছু না বলেই শুয়ে পড়ল বুঝলাম অ খায় নাই। সকালে দেখি ও নাই।মিরা(কাজের বুয়া) কে বললাম অ বলল সকালে কোথায় যেন চলে গেছে। ভাবলাম হয়ত ওর বফ কে বলতে গেছে এই কথা টা।দুপুর দুই টা কিংবা আড়াইটা। ফোনে এক টা কল আসল আননোন আর আমি তোখন শোভা কে নিয়েই ভাবছিলাম।আজ অকে দেখেছি অনেক মিষ্টি একটা মেয়ে ও।অকে পেলে খারাপ হত না।
দেখলাম আবার একি নাম্বার থেকে কল। দরলাম। অই পাশ থেকে আপনি শান্ত না। হু।ভাই আমি শোভার কাজিন।শোভা তো সুইসাইড করছে।এখন হাস্পাতালে।আমি যেন বাক রুদ্ধ হয়ে গেলাম।এক ছুটে হাসপাতাল গিয়ে দেখি কেউ নাই শোভার বাসার।হঠাট দেখলাম শোভার বাবা আমার কাছে এসেই বলল বাবা অ কেন  এমন করল। আর কি কি বলছে আমার কানে যায় নাই।আমি শোভার কেবিনে গেলাম।সবাই বের হল আমায় দেখে।আজ আরও বেশি সুন্দর লাগছে মেয়েটা কে। শুনলাম জ্ঞান ফিরতে দেরি হবে তাই ভাবলাম এক তা কিস করি। আমারি ত বউ।অর কপালে ঠোট দিতেই দেখলাম ও কেপে উঠল।আস্তে আস্তে চোখ খুলল।আমার নিজেকে খুব অপরাদি মনে হচ্চিল।চোখ খুলে আমার হাত টক দরার অনুমতি চাইল আমি না করতে পারলাম না।অ কান্না করছে আর বলল
ওঃমেয়ে রা এমনি যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে তাকে না পেলে সব কিছু তুচ্ছ হয়ে যায় তাদের কাছে।
---অই ছেলের ঠিকানা দেও আমি চেষ্টা করব।
----কোন ছেলে
---তুমি যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছ
----অ হাস্ল
হাসছ কেন।
তার পর জা সুনলাম। নিজেকে বিশ্বাস করতে পারলাম না।অ আমাকেই ভালবাসে। আর অই দিন বলতে চেয়ে ছিল যে আমাদের বিয়ে টা ৬বসর আগেই ঠিক করা ছিল। আর এই ৬ বছর  ও আমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখেছে।আমি যেন আসমান থেকে পড়লাম।তারপর এখন ও সুস্থ । আর এক টু বেশি ভালবাসি পাগলি টাকে।আর পাগলিটাও

ছাএ এটাই

স্যার : এই ছেলে !!!!
দাড়াও

ছাত্র : জিস্যার....???
স্যার :
এইচ.এস.সি(H.S.C)
এর পুর্ণ রুপ
কি?
ছাত্র : এক্কেরে সোজা !!
হেডমাস্টার
স্যান্ডেল
চোর (H.S.C)

Saturday, November 12, 2016

পাগলি বউ

[বাস্তব কাহিনী অবলম্বনে]
:
>>এই উঠো তো! অফিসের সময় হয়ে
গেছে,,,,
>>হ্যা,,ঘড়ি দেখেছি,,,,
>>শুধু কি ঘড়ি দেখলে হবে.? আমাকেও
দেখো একটু,,,(রাগান্বিত স্বরে)
>>তোমাকে তো রোজ দেখি ই,,,আর
কত দেখবো.?(অবাক হয়ে)
>>আর কত দেখবো মানে...?
>>কিছুনা,,,আমাকে আর একটু সময়
ঘুমাতে দাও তো,,,আর তুমি যাও! আমার
জন্যে খাবার রেডি করো,,আমি
আসছি,,,,
>>খাবার রেডি ই আছে,,,(মুখ
ভেংচিয়ে)
>>আচ্ছা তাহলে আর একটু ঘুমাই,,,
>>না প্লিজ না,,,আচ্ছা তুমি এত ঘুমাও
কেনো বলো তো আমাকে,,,(অনুনয় করে
বলা)
>>আমি এত ঘুমাই মানে.? আমাকে এত
ঘুমাতে দেখলে কখন.?
>>আচ্ছা বাদ দাও,,আমি যাই,,, কাজ
আছে,,তুমি দ্রুত আসো,,,,৮ টা বেজে ১০
মিনিট এখন,,,ঠিক ৮ টা বেজে ১৫
মিনিট সময়ে খাবারের টেবিলে
যেন দেখি তোমাকে,,,(কড়াভাবে
বলা)
>>উফ,,,আচ্ছা যাও তো এখন।।।
>>যাচ্ছি,, হুহ,,,,
:
:
কথাটি বলেই জান্নাত চলে যায়। আমি
আর না ঘুমিয়ে দ্রুত উঠে পড়ি,,,কেননা
৮:১৫ সময় যদি আমি খাবারের
টেবিলে না যাই তবেই শুরু হবে
জান্নাতের বকাবকি।মেয়েটা খুব
শাসন করে আমাকে।তার সাথে বিয়ে
হয়েছে বেশিদিন হয়নি,,,এই তো মাত্র
৩ মাস চলছে।এত অল্প সময়েই মেয়েটা
আমাকে আর আমার পরিবারটিকে
অনেক আপন করে নিয়েছে।খুব সকালে
উঠে সে সকালের খাবার তৈরি করে
সবার জন্য।আমরা যৌথ পরিবার।বাবা,
মা,ভাই, ভাবি,আমার ছোট ভাই আর
আমাকে ও জান্নাত কে নিয়েই আমার
পরিবার।পরিবারের প্রতিটি কাজ
সে খুব যত্ন সহকারে করে থাকে।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই
জান্নাতের ডাক শুনতে পেলাম।আমি
দ্রুত তার কাছে যাই,,,,
:
>>কয়টা বাজে খেয়াল আছে
তোমার.?
>>এই তো ৮:১৬ বাজতে চলছে,,,
তাহলে এখন ও ফ্রেশ হও নি কেনো.?
অফিসে যাবে না.?
>>যাব তো,,,এক্ষুনি আসছি।
কথাটি বলে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আসলাম
এবং খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম।
রেডি হচ্ছি সেই মুহুর্তে জান্নাত
আসল।এসেই বলতে লাগল,,,
>>এই একটা কথা শুনো না প্লিজ,,,
>>হ্যা দ্রুত বলো,,সময় নাই আমার কাছে।
>>হ্যা, সর্বদা আমি কিছু বলতে গেলেই
সময় থাকে না তোমার কাছে।যাও
কিছু বলব না,,,(অভিমানের স্বরে)
>>আরে বলো তো,,এত কাহিনী করো
না।
>>কাহিনী মানে.? আমি কাহিনী
করি..?(অভিমানের স্বরে)
>>তা না হলে কি.? জানো যে আমার
অফিসে ৮:৩০ এ যেতে হয়,,এমনিতেই
লেট করেছি আজ,,তার উপর আবার তুমি
কথা বলবে ভালো কথা কিন্তু দ্রুত বলো
না,,,কাহিনী করছো।(চোখ রাঙিয়ে)
>>আচ্ছা থাক,,কথা বলব না।যাও তুমি।
>>আচ্ছা ঠিক আছে,,বলো আমি শুনছি।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে মেয়েটি হুট করেই
আমার গালে একটি চুমু দিলো।আমি ভয়
পেয়ে গেছিলাম।কেননা মেয়েটি
যেভাবে আমার কাছে আসছিলো
তাতে ভয় না পেয়ে থাকতে
পারিনি।যাই হোক,,চুমু দেয়ার পর
জান্নাত খুব হাসছিলো,,আমি আর কিছু
না বলেই বেরিয়ে পড়েছিলাম।
:
এটা জান্নাতের অভ্যাস।রোজ
সকালে অফিসে যাওয়ার সময় আর
রাতে খাবারের পর আমাকে চুমু
দিবেই।দিক ভালো কথা! কিন্তু হুট
করে..? মাঝে মাঝে ভয় পেয়ে যাই।
রাগ ও দেখাই খুব।কিন্তু কি আর করব! রাগ
করে যে থাকতে পারি না!মেয়েটা
আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে।আমিও
তাকে খুব ভালোবাসি।কিন্তু আমার
ভালোবাসাটা তাকে সহজে বুঝতে
দেই না।সে আমাকে রোজ বলে 'আমি
আনরোমান্টিক ছেলে'। তাকে
ভালোবাসি না, ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিছু বলতেও পারি না,আবার সহ্য ও
করতে পারি না।প্রতিটা দিন সে
আমার গালে ধরে টানবে,আবার
কানে ধরে টানে, আবার নাকে ধরেও
টানে।এই কেমন মেয়ে রে বাবা.?।
মাঝে মাঝে তার পাগলামি দেখলে
বড্ড রাগ হয়।আবার মুহুর্তেই তার চোখে
পানি দেখলে আমার মন টা দুঃখে
ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে।
:
এই তো দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা,,,,রাত ১১
টা বেজে ১৫ মিনিট।আমি উপন্যাস
পড়ছি। জান্নাত "হিস্ট্রি অফ ইংলিশ
লিটেরেচার" বই টা পড়ছে।হটাৎ করেই
বই টা রেখে সে গেমস খেলতে লাগল।
ভীষণ রাগ হলো আমার।সামনে তার
ফাইনাল পরীক্ষা কিন্তু সে গেমস
খেলা নিয়ে ব্যস্ত।তবে হুম,আমিও
রোজ তার সাথে গেমস খেলি।গেমস
টার নাম "ক্যান্ডি ক্রাশ"
তাকে বলেছিলাম,কিছুদিন গেমস না
খেলে ভালো করে পড়তে।কিন্তু
আমার কথার কোনো মূল্য দিলো না।
খেলতেই থাকলো।
হঠাৎ করেই বলতে লাগলাম,,,
>>আচ্ছা জান্নাত শুনো তো একটা কথা,
>>হুম শুনছি বলো,,,
>>জানো আমাদের অফিসের একটা
ছেলে বিয়ে করেছে।বউ টা খুব সুন্দর,
একদম পিচ্চিদের মত লাগে দেখতে।
তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম,,,বাব
্বাহ,,কি কাজ পারে যে মেয়েটা
বলে বুঝাতে পারবো না।খুব পটু
কাজকর্মে সে।
:
কথাটি বলতে দেরী,,,সাথে সাথেই
সে গেমস খেলা বাদ দিয়ে আমাকে
বলতে লাগল,,,
>>অপরের বউয়ের এত গুণকীর্তন গাইছো
কেনো.? আমার মধ্যে কি কোনো
কিছুর কমতি আছে.? আমি কি কাজ
পারিনা.? আমি কি বুড়ি দেখতে.?
(রাগের স্বরে)
>>আহা,,আমি কি তোমাকে কিছু
বলেছি.? কারো সুনাম করাটা কি
আমার অপরাধ.?
>>হ্যা অপরাধ।তুমি অন্য মেয়ের কথা
আমার সাথে বলো কেনো.? শুধু
মেয়েটির কথা বলছো কেনো.?
ছেলেটির কথা বললে না কেনো.?
>>আরে এত প্রশ্ন করো কেনো.?(অবাক
হয়ে বলা)
>>করবো না কেনো.? তুমি ওই মেয়ের
এত সুনাম করলা কেনো.? 'বুঝেছি
আমাকে ভালোবাসো না।আমি তো
আগে থেকেই জানি তুমি আমাকে
পছন্দ করো নাই।তোমার বাবার পছন্দেই
বিয়ে করেছো আমাকে'।(কান্নাস
্বরে)
তার কথা শুনে আমি রীতিমত অবাক।
হায় আল্লাহ, মেয়ে তো কাদঁতে শুরু
করেছে।আমি তো আর কথা বাড়াই
নাই।ভয়ে চুপ করে ছিলাম।না জানি
কি করে বসে।
:
সে কাদঁছে।তাকে খুব আটকানোর
চেষ্টা করেছি।কিন্তু সে আমার কথা
শুনে নাই।শুধুই বলছে তাকে আমি
ভালোবাসি না।কথাটি বলে
বিছানা থেকে নেমে ছাদে চলে
যায়। আমি তার জন্যে এক ঘন্টা ধরে
ওয়েট করছি।সে আসছে না।তারপর
ভাবলাম,নাহ!মশারী টানিয়ে রাখি।
রাগ শেষ হলে সে এমনি এমনি এসে
আমার পাশে ঘুমিয়ে পড়বে।আমি
জানি তাকে।রাগ হলেও সে আমার
সাথে বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে
পারে না।মশারী টানিয়ে শুয়ার ৫
মিনিট পর জান্নাত রুমে আসল।এসেই
বলতে লাগল,
>>আজ বুঝলাম,তুমি আমাকে
ভালোবাসো না সত্যি সত্যি ই।কাল
সুর্য উঠার আগেই দেখবে আমি নেই।
আমি চলে যাচ্ছি তোমার লাইফ
থেকে সারাজীবনের জন্যে।
কথাটি বলেই ব্যাগ গুছাচ্ছে।সে তার
বই,কাপড় সব কিছু গুছানোর পর বলছে,,
>>তোমার দেয়া সব কিছুই আমি রেখে
যাচ্ছি।
কথাটি বলার পর সে কাকে যেন ফোন
করলো,,বলতে লাগল,
>>হ্যালো ভাইয়া,তুই কই আছিস.? ওহ
আচ্ছা ঠিক আছে।
এত রাতে কাকে ফোন করলো সে,!
ফোন করার পর আবার বাহিরে চলে
গেলো।আমি ভয় পেয়েছিলাম
সেদিন,,ভেবেছিলাম জান্নাত কি
সত্যি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে..?
কথাটি ভেবে বিছানা ছেড়ে
বাইরে আসি।এসে দেখি জান্নাত
বাইরে বসে আছে।তাকে রুমে আসতে
বলতেই সে বলে..'''কাল তোমার অফিস
আছে,তুমি গিয়ে ঘুমাও,যাও ""
আমি খুব জোর করেই তাকে নিয়ে
আসছিলাম রুমে।
:
রুমে এসে সে মেঝের এক কোণায় বসে
আছে।আর আমি বিছানায়।দুই জনেই চুপ।
একটু পর জান্নাত বলছে,,,
>>কাল তোমার অফিস আছে সো ঘুমায়
পড়ো।আর আমার জন্যে চিন্তা করবে
না।কাল থেকে তুমি রিলেক্স মুডে
থাকবে।কেননা তোমাকে
জ্বালানোর মত জান্নাত থাকবে না।
(কান্নাস্বরে)
>>তুমি কিন্তু বেশি বেশি করছো,,,,
(রাগের স্বরে)
>>তোমার কাছে আমার সব ই বেশি
বেশি মনে হয়।
>>চুপ,,প্রব্লেম কি তোমার.? আমার কোন
কথার জন্য আমাকে এভাবে শাস্তি
দিচ্ছো তুমি.?
>>কিছুনা,,ঘুমাও তো।
>>না বলো আমাকে।
>>তুমি আরেক মেয়ের কথা বলো
কেনো.?তুমি জানো না যে আমার খুব
কষ্ট লাগে যখন তুমি অন্য কোনো
মেয়ের প্রশংসা করো!খুব কষ্ট লাগে,
খুব।
>>আচ্ছা আরর বলবো না।এখন আসো
ঘুমাতে।রাত অনেক হয়েছে।
>>না আমি আসব না।
>>আসো বলছি(রাগে)
>>আচ্ছা আসছি …
:
বিছানায় এসেই সে আরো নানান
কথা বলতে লাগল।একটু পর রাগ শেষ হলে
বলতে লাগল,,
>>শুনো,ঘুমিয়ে গেলে.?
>>না,বলো
>>সরি,আমাকে মাফ করে দাও প্লিজ।
আমি জানি তুমি খুব কষ্ট পেয়েছো
আমার কারণে।
>>না, আমি কষ্ট পাইনি।তুমি এখন ঘুমাও
তো।
দুই জনেই চুপ।আবার একটু পর বলতে লাগল,
>>আচ্ছা সত্যি করে বলো না,আমাকে
মন থেকে মাফ করেছো.?
>>আরে হ্যা,,সত্যি,এখন ঘুমাও তো।
হুট করে আমার পায়ের কাছে এসে সে
পায়ে ধরে কাঁদতে লাগল,আর বলতে
লাগল,
>>আমাকে মন থেকে মাফ করো প্লিজ,,
(কান্নাস্বরে)
>>আরে পায়ে ধরছো কেনো.?
>>কেনো পায়ে ধরেছি তো কি
হয়েছে.? আমাকে মাফ করো প্লিজ,,
>>উফ,চুপ করো ঘুমাও।দেখো আমার
মাথা ব্যাথা করছে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলছে,,
>>ঘুমিয়ে গেলে.?
>>আরে এত কথা বলো কেনো.? আমার
মাথা ঘুরাচ্ছে।ঘুমাতে দাও,,,(রাগে)
>>আচ্ছা তাহলে আমি মাথায় হাত
বুলিয়ে দেই,তুমি ঘুমাও।
>>আচ্ছা বাবা।যা করে শান্তি পাও
তাই করো।তবুও কথা বলো না আর
প্লিজ,,,,
>>আচ্ছা,,,(হাসির স্বরে)
:
সেদিনের পর হতে তার দুষ্টুমি আরো
বেড়ে গেছে।তবে হুম আমাকে খুব
সম্মান করে সে,আর ভালো ও বাসে খুব।
আজ দুদিন হলো আমার মিষ্টি বউ টা
নেই।বাবার বাড়ি গিয়েছে
বেড়াতে।সে নেই তাই আমার গাল
কেউ টানে না,আমার কান ও কেউ
টানে না...!!ভীষণ মিস করি তাকে
প্রতিটা মুহুর্তে,,,ভীষণ মিস করি তার
ছোট ছোট দুষ্টুমি গুলোকে,,,,!বাবা
বাড়ি থেকেও সে তার শাসন কমায়
নি।রোজ রোজ ফোন করে খেয়েছি
কি না,বাড়ি ফিরেছি কি না,,সব
কিছুর জন্য জবাব দিতে হয় তাকে।
জীবনে কাউকে এতটা আপন করে
নিতে পারবো ভাবিনি।সত্যি সে
আমার জীবনে জ্বলন্ত আলোর
প্রদীপের মত।তাকে ছাড়া আমি
আমার জীবন টা একা চালানোর
কল্পনাও করতে পারি না।
এই যা,,,! বলতে বলতে তার ফোন।সেই
কখন থেকে অপেক্ষা করছিলাম
পাগলীটার ফোনের জন্য,,,।আচ্ছা আজ
আসি,,ফোন টা রিসিভ করতে হবে,,,,!!