Saturday, November 12, 2016

অন্যের মুখে শোনা

আমি রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলাম।
ঘটনাটা ঘটা কলেজেই। ২০০৭ সালের কথা। আমি তখন ক্লাস
১২ তে। মানে সবচেয়ে সিনিয়র। কয়েকদিন পরেই
এইচএসসসি পরীক্ষা। ঠিক তখনি ক্লাস ৮ এর একজন ক্যাডেট
আত্মহত্যা করে। নাম পলাশ। ওর সাইকোলজিকাল একটু
সমস্যা ছিলো হয়ত। ও কাজটা করে টয়লেটের ফ্লাশের সাথে টাই বেধে। খুব মর্মান্তিক ছিলো ঘটনাটা। আর প্রধান
কারণ ছিল, ও কলেজে থাকতে চাইত না। ওর বাসা থেকে হয়ত
জোর করে কলেজে থাকতে ওকে বাধ্য করে। পরে ওর কাবার্ড
চেক করে দেখা গেল, পলাশ নিজের রক্ত
দিয়ে চিঠি লিখেছে ওর বাবা মাকে। এরপর পলাশ
যে রুমে থাকত ওর রুমমেটরা অনেক ভয়ে থাকত। একদিন রাতে ওই রুমের কয়েকজন দেখে জানালায় পলাশ
দাঁড়িয়ে আছে। এবং তাদেরকে বলছে, “তোরা আমার
পথে আয়..তোরা আমার পথে আয়।’’ সবাই একসাথে চিৎকার
দিয়ে ওঠে। এভাবে তারা একিই ঘটনা অনেকবার দেখে।
পরে ওদের ক্লাসের সবাইকে এক রুমে রাখার সিদ্ধান্ত
নেয়া হয়। এই ঘটনার ঠিক কিছুদিন পরেই আজব কিছু ঘটনা শুরু হয়। ক্লাস
৯ এর একজন ক্যাডেট নাম রনি, ছেলেটা ভবিষ্যৎ বলা শুরু
করে এবং অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে সব ঠিক হত। যেমন ওর
ক্লাসমেটরা বলত রনি নাকি পরীক্ষার প্রশ্ন বলে দিত, নম্বর
কে কত পাবে বলে দিত। এবং তা মিলেও যেত। এর পর
থেকে তার ফ্রেন্ডরা তাকে ভয় পাওয়া শুরু করে । আমি কলেজ প্রিফেক্ট ছিলাম । তার ক্লাসমেটরা আমার কাছে কমপ্লেন
করলে আমি তাকে ডাকি। আমি তাকে বলি,
তুমি নাকি ভবিষ্যৎবলতে পার ? সে বলে, জি ভাইয়া ,
নিয়তি আমাকে সব ভবিষ্যৎ বলে দেয়। আমি বলি, নিয়তি কে?
সে বলে, নিয়তি তার গার্লফ্রেন্ড। আপনি ত জানেন রাসেল
ভাই, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে মেয়েরা পড়ে না। আমি তাকে বলি নিয়তির ছবি আনতে। সে কিছুক্ষন পর
একটি ডায়েরি নিয়ে আসে। আমি দেখি সেখানে পর পর ১০
পাতা একিই মেয়ের ছবি আকা । ছবি তে কোন ভুল নাই।
বলা ভাল ছবি টি কলম দিয়ে আকা ছিল। আমি একটু
ঘাবড়ে গেলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম ছবিগুলো কার
আকা? সে বলল আমার। কখন আকাও জিজ্ঞাস করলে সে বলে রাতে পরার সময়। তারপর
আমি তাকে চলে যেতে বল্লাম।এরপর তার ক্লাসমেটদের কাছ
থেকে জানতে পারলাম সে নাকি খাতায় একটি বিন্দু
আঁকিয়ে ক্লাস এ সারাক্ষণ অই বিন্দুর দিকে তাকিয়ে থাকে।
আর রাতে পড়ার সময় সামনের ডেস্ক এ কাউকে বসতে দেয় না,
বলে নিয়তি বসবে। রনি কে নিয়ে আমার বন্ধুদের মাঝে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়। রাজভি নামে আমার এক বন্ধু রনি কে বলে,
চল তোর নিয়তি কে দেখব । রাজভি কে রনি হাউসের
পেছোনে নিয়ে যেতে চাইলে সে ভয় পায়। কথা ঘুরানোর জন্য
রাজভি বলে বলত আমার রুমে কে কে কি বিষয়ে কথা বলছে ?
কিছুক্ষন ভেবে রনি উত্তর দেয় ।
রাজভি মিলিয়ে দেখে রনি ঠিক উত্তর দিয়েছে। এরপর হাউস প্রিফেক্ট মঈদ রনি কে ডেকে অনেক বকা-ঝকা করে। এই
বলে যে সে হাউসে এর সবার মনে ভয় ঢুকিয়া দিচ্ছে। ঠিক
পরের দিন রনি মইদ কে বলে নিয়তি আপনার উপর রাগ করছে।
সে আপনাকে মেরে ফেলে আমাকে আত্মহত্যা করতে বলেছে! এর
পর আমি আর মইদ প্রশাসনের কাছে কমপ্লেন করি। প্রমান
পেয়ে তারা রনি কে বহিষ্কার এর সিদ্ধান্ত নেয়। রনি যেদিন কলেজ ছেড়ে যাবে সেদিন মইদ কে বলে গেল,
আমাকে তো কলেজ থেকে বের করে দিলেন, দেখবেন প্রতিদিন
রাত ১০টায় ২ টা চড়ূই পাখি আপনার রুম এর
সামনে এসে বসবে। এর একটি আমি অন্যটি নিয়তি। সেই দিন
থেকে ২টি চড়ূই মইদ এর রুম এর সামনে এসে বসত।
১ মাস পর খবর পেলাম রনি সুস্থ হয়ে গেছে । কয়কজন মিলে দেখতে গেলাম তাকে।
রনি আমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করল কি করেছে সে? কেন বের
করে দেয়া হয়েছে তাকে? আমি কোন উত্তর দিতে পারলাম
না তাকে। কিছু প্রশ্নের উত্তর হয়ত কারো জানা নেই।
বলা বাহুল্য, রনি ভাল হয়ে যাওয়ার পর চড়ুই দুটিকে আর
দেখা যায় নি কখনো

No comments:

Post a Comment