Saturday, November 12, 2016

সেই রাতটি

মোফাজ্জল ২৫ বছর । বাড়ি কালিগ্রাম , নওগাঁ ।
ঘটনা কাল ২ বছর আগে ।
সূর্য্য মলিন হতে শুরু করছে , আস্তে আস্তে সন্ধার
আলো থেকে অন্ধকার শুরু হয়েছে , আকাশে মেঘ
থাকায় তারকা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না । গরুর
গাড়ি করে ধান বিক্রয়ের পড়ে হাট থেকে ফিরছেন মোফাজ্জল । আর ও ৫ মাইল পথ, পড়
তার বাড়ি , শিতের রাত গান গাইছেন আর চাদর
মুড়ি দিয়ে বিড়ি জালিয়ে টানছেন মোফাজ্জল ।
হঠাত্ গরু গুলো থেমে গেল ।পান্টি দিয়ে কয়েক
ঘা মার দিবার পড় ও এক পা সামনে তুলছেনা ।
অবাক হয়ে গেলন মোফাজ্জল কি এমন হল । সামনে গিয়ে রাশি ধরে টেনে ও লাভ
করতে পাড়ছে না । কি হল গরুর ?
আসে পাশে গ্রাম নেই , ১ মাইল পড় শলিয়া গ্রাম
। যে স্থানে গরু গুলি থেমে গেছে তা একটি রেল
লাইনের একটি ব্রিজ এর পার্শে । এর একটু
সামনে গেলেই , ৫০ ফিট নিচু রাস্তা তার মাঝে কাঠের ব্রিজ , তার পড় ২৫ ফিট উচু
হয়ে আবার ও রাস্তা উঠে গেছে । হঠাত্
মোফাজ্জল দেখতে পেলেন ছাঁয়া মূতির মত কিছু ।
কে ভাই, কে ভাই উত্তর না দিয়েই
এগিয়ে আসতে শুরু করেছে । গরু
গুলি ছোটা ছোটি আরম্ভ করতে গালল । এটা দেখে মোফাজ্জল গড়ি থেকে নেমে ,ছাঁয়ার
মুতির দিকে এগিয়ে এলেন । দেখলেন ১২/১৩ বছরের
একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে । ছেলেটি বলল
এদিকে যাবেন না , একটু আগে কাঠের
ব্রিজটি ভেঙ্গে গেছে । আর দশহাত এগুলেই
গাড়ি জোরে নিচে নামতে শুরু করলে , গাড়ি থামানো যাবে না , একে বার
ওরে গিয়ে গাড়ি থামে । আথএব কাঠের ব্রিজ
ভাঙ্গা হলে , গরু আর মোফাজ্জের মৃত্যু অবধারিত
। কথাটি মনে হতেই শিয়রিত হলা মোফাজ্জল ।
আল্লাহ বাঁচিয়েছেন তাকে ।
গাড়িটা তা হলে কি করি ? তাছাড়া বাড়িতে যাওয়া খুবই দরকার ।
বাড়িতে আমি না পৌছালে রাতে কেউ ভাতও
খাবেনা । ভিশন চিন্তা করবে ।
ছেলেটি মোফাজ্জল
কে যে গ্রামটি ছেড়ে এসেছেন শফিকপুর গ্রাম
যেতে বলল । সে গ্রামে জাহাঙ্গির মাস্টারের বাড়ি যেতে বলেন । ভাল মানুষ, তার
বাড়িতে নিরাপদে থেকে আগামিকাল
বাড়ি যাবেন । মাস্টারের বাড়িতে গিয়ে আমার
নাম বলবেন । মোফাজ্জল বলেন আমি ও
ভেবে চিন্তে সেই সিদ্ধান্ত নিলাম ।
আমি তো বাড়ি চিনতে পারব না , তুমি আমার সঙ্গে চলো তো ছোট ভাই । তোমার
নামটি কি ছোট ভাই ? রাইফ । ঐ গ্রামেই
তোমার বাড়ি . রাইফ মাথা ঝাকলো ।
তাহলে গাড়িতে ওঠ , গাড়ি ঘুরিয়ে নিলে উঠছি ।
মোফাজ্জল গাড়ি ঘুরিয়ে নিতেই গরু গুলো দৌর
শুরু করল । আমি চেষ্টা করছি এতো জোরে না দৌরাতে ।
কিন্তু কিছুতেই পাড়ছিনা । ধারনা ছিল
গাড়িতে রাইফ উঠতেই পাড়েনি । পিছন
ফিরে দেখলাম রাইফ
পা ঝুলেয়ে পিছনে বসে দোল খাচ্ছে ।
এতো তাড়াতারি চলে শফিকপুর গ্রামে এলাম তা চিন্তা করা যায় না । এবার রাইফ কে বলাল
বড়ি, কোন দিকে ? রাইফ হাত
দিয়ে দেখিয়ে দিল বাড়িটা । একটা হারিকেনের
আলো দেখা যাচ্ছে ।
আমি সামনে তাকিয়ে আবার কি যেন বলার জন্য
পিছনে তাকিয়ে দেখি রাইফ আর গাড়িতে নেই , আনেক বার ডাকলাম না নেই . কোথায় গেল
আমি ভয়ে ঠান্ডা হতে শুরু করেছি ভয়ে । গরু
গুলি ও মন্থর হয়ে হাঁঠছে আর হাঁপাচ্ছে । এখন গরু
গুলো দৌর দরকার । এখন ধির চলা শুরু করছে । রাগ
আর ভয়ে গরুকে তিন চার ঘা মারলাম । যাই হোক
এক সময় মাস্টারের বাড়িতে পৌছলাম । গেট বন্ধ , বাড়ির পাশেই নতুন কবর । কবরে হারিকেন
জালানো । আমি গেটে গিয়ে নক করতেই ৪০
বছরের একটি লোক বাহীরে এলো ,
আমি জাহাঙ্গির মাস্টারের কথা বলেতেই
জানালেন তিনিই জাহাঙ্গির মাস্টার । বলাম
রাইফ আমাকে পাঠিয়েছে । আমার বিপদ আজ রাতে এখানে থাকার কথা . . . . . । রাইফের
সাথে তোমার কোথায় দেখা ?
. . . . . . ঘটে যাওয়া ঘটনা বলে শেষ হতেই ।
মোফাজ্জলকে ধরে কাঁন্না শুরু দিলেন মাস্টার ,
জোরে কাঁন্না ফলে বাড়ি এবং পার্শের বাড়ির
অনেক লোক এসে উপস্থিত হলেন । সবাই দেখলেন একটি ছেলেকে চেপে ধরে কাঁদছেন মাস্টার ।
কি হয়েছে ? সবাই মাস্টার কে জিঙ্গাস করছে ।
কাঁদতে কাঁদতেই মোফাজ্জল কে ঘটনাটি আবার
বলেতে বলেন ।
আবার ও বলতে শুরু করল, এবার কয়েক জন মহিলা ও
কাঁদতে শুরু করলেন । তার পড় যা শুনল মোফাজ্জলঃ
রাইফ তিন দিগে নতুন বাইকেল নিয়ে বাহীর
হয়েছেন , চালানো শিখতে ঐ রেলের ব্রিজের
দিকে গিয়েছিল । ফিরার পথে রেলের ব্রিজের
উপর সাইকেল নিয়ে হেঁটে আসার সময় হঠাত্
পিছনে ট্রন দেখতে পায় , সাইকেল ছেড়ে ব্রিজের নিচে লাফ দেয় বাঁচার জন্য । কিন্তু বাঁচেনি ,
পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় । শুনে মোফাজ্জল
আর প্রচন্ড ভয় পায় । মাস্টার সাহেব যে আদর
খাতির করেন তা বলতে গিয়ে মোফাজ্জলের
চোখে পানি চলে আসে, ঐ রাতে মাস্টার আর
মোফাজ্জল এক সাথে ঘুমায় । সকালে বাড়ির পথে রওনা দেয় সে । বাড়ি এসে দেখে সবাই
স্বাভাবিক কেউ কিছু বলছে না. তাঁকিয়ে শুধু
দেখল মোফাজ্জল কে । মোফাজ্জলের
মা ছেলেকে দেখে বলল . . . . .
খবর দিয়ে ভাল করেছিস । না হলে সারা রাত
ঘুমাতে পারতাম না । রাইফ ছেলেটা কতো ভাল , অনেক রাত হলেও সংবাদ দিয়ে গেল । আর তার
জন্য দোয়া করতে বলেছে ।
আর ও হতবাগ লেগে গেল ।
এবং পড়ে শুনে দেখেছে ঐ রাতে সত্যিই
ব্রিজটি ভেঙ্গে গিয়েছিল ।.

No comments:

Post a Comment