Saturday, November 12, 2016

প্রথম দেখা

অনেকদিন পর ছাদে উঠলাম। সেই
পরিক্ষার আগে বাসায় এসে সেইবার
ছাদে উঠেছিলাম। তারপর প্রায় দুইমাস
পর বাসায় এসেছি। তাই ভাবলাম ছাদ
থেকে ঘুরে আসি। বিকেলের
আবহাওয়া খুব একটা খারাপ না। মৃদু
বাতাস বইছে আর আমার সেলফোনে
গান বাজছে তানজিব সারোয়ারের
.
"শীতল ও বাতাসে দেখেছি তোমায়"
.
কপির কাপে চুমুক দেওয়ার পর চোখ
গেলে পাশের বাসার বেলকনিতে।
হঠাৎ আমার চোখ আটকে গেলে সেই
বেলকনিতে। একজন মেয়ে দাড়িয়ে
আছে। সূর্যের লাল আভা মেয়েটির
চেহারার উপর পড়ছে। বেশ মায়াবী
চেহারা। আমি অবাক চোখে
তাকিয়ে আছি।
.
কানে সাদা রংয়ের হেডফোন। মনে
হয় গান শুনছে। এই মেয়ে কে? আগেতো
কখনো দেখিনি এখানে। খোঁজ নেয়া
দরকার।
.
আমি প্রায় পাঁচমিনিট থেকে
মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছি।
তার কোন খেয়াল নেই সেইদিকে।
একমনে তাকিয়ে আছে। তারপর বেশ
কিছুক্ষণ পর চলে গেল। মনটা খারাপ
হয়ে গেল আমার।
.
আমি খাবিরুদ্দিন। রিসেন্টলি
পড়ালেখা শেষ করেছি। আব্বু বলছে
তার অফিসে যোগ দেওয়ার জন্য কিন্তু
এতো তাড়াতাড়ি ব্যস্ত লাইফে
যেতে ইচ্ছে করছে না। কিছুদিন একটু
মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করে নেয়
তারপর ব্যস্ত লাইফে যাবো।
.
আমি ছাদ থেকে নামার সময় প্রায়
সন্ধ্যা হয়ে গেছে। মাগরিবের আজান
দিচ্ছে। এমন সময় চিল্লাচিল্লার
আওয়াজ পেলাম। তুফলি (আমার ছোট
বোন) চিল্লাচ্ছে। আমি ওর রুমে
গেলাম।
.
"কিরে কি হয়েছে। চিল্লাচ্ছিস
কেন?
"ভাইয়া তুই আমার সাথে কথা
বলবিনা। একদম না।
"কেন কি হয়েছে।?
"তোর কাছে আমি কি চেয়েছিলাম?
"কি?
"আমি চাই তুই বিয়ে কর। আমি না শুধু
আব্বু আম্মুও এটাই চায়। আমাকে একটা
কিউট ভাবি এনে দে। যার সাথে
আমি অনেক মজা করে গল্প করতে
পারবো। ভালো কিছু সময় কাটাতে
পারবো।
"পাগলি। এইটার জন্য এতো
চিল্লাচিল্লির কি আছে। সময় হলেই
বিয়ে করব।
"তোর আর এ জীবনে সময় হবেনা। যা
ভাগ আমার রুম থেকে ভাগ বলছি
"যাচ্ছিতো।
.
তুফলি আমার বোন অর্নাস প্রথম বর্ষ
পড়ে। পাগলি বোনটা আমার। যতক্ষণ
বাসায় থাকবো উনি আমার কানের
কাছে এসেই একটা কথাই বলবে।
ভাইয়া তুই বিয়ে করবিনা? তোর কিন্তু
বিয়ের বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। তখন
কিন্তু আমি কিউট ভাবি পাবোনা।
বুড়ি গুলা আনতে হবে। আমি তখন কিন্তু
তাকে ভাবি ডাকতে পারবো না
বলে দিলাম।
.
পাগলিটার কথা শুনে খুব হাসি পায়।
বোনরা সাধারণত ভাইয়ার কাছে
গিফট চায়,চকলেট,চিপস আরও অন্য কিছু।
আর ও কিনা ভাবি চায়!!!!
.
রাতে ডিনার টেবিলে
.
"তুমি কখন অফিসে যোগ দিচ্ছো? (আব্বু)
"এইতো আর কিছুদিন। (আমি)
"আর একটি কথা আমরা তোমার
বিয়েটাও খুব শীঘ্রই দিতে চাচ্ছি।
কোন মেয়ে পছন্দ থাকলে বলতে
পারো।
"না নেই।
.
আব্বুর এসব কথা শুনে রাতে আর ঘুম
আসেনি। আমার বিয়ে দিবে!!
যাইহোক সকালে ঘুমাচ্ছি আরামে
কিন্তু তুফলিটা আমার আরামের ঘুম নষ্ট
করে দিলো। ধুর!
.
"কিরে শান্তিতে তো ঘুমাতে
দিবি।
"উঠনা ভাইয়া! আমাকে কলেজে একটু
ড্রপ করে দিয়ে আয়।
"পারবোনা।
"প্লিজজ
" যা এখান থেকে।
" প্লিজ প্লিজ
"ওকে।
.
গাড়ির চাবি নিয়ে বের হলাম। বাসা
থেকে বের হতেই খেয়াল করলাম
তুফলি নেই। এই আবার কোথায় গেল।
ফোন দিলাম
.
"কিরে কোথায় তুই?
"এইতো বাসার গেইট থেকে বের হয়ে
বামে তাকা।
"আচ্ছা দাড়া আসছি।
.
গাড়ি নিয়ে বের হতেই খেয়াল
করলাম তুফলি আর একটা মেয়ে
দাড়িয়ে আছে। প্রথমে চিনতে ভুল
হলেও দ্বিতীয় বার হয়নি পাশের
মেয়েটা হচ্ছে সেই কালকের দেখা
বেলকনিতে দাড়িয়ে থাকা
মেয়েটি। আমি মেয়েটাকে দেখে
রিতিমত ক্রাশ খেলাম। ভয়ংকর সুন্দর।
চোখে হালকা কাজল। কি অপরুপ
দেখতে।
.
ওদের কলেজে ড্রপ করে দিয়ে
আসলাম। মেয়েটি বেশ লাজুক প্রকৃতির।
গাড়ি চালানোর সময় বেশ কয়েকবার
লুকিং গ্লাসে খেয়াল করেছি।
চুপচাপ বসে আছে। স্বল্পভাষী বলা
চলে। সত্যি বলতে মেয়েটিকে আমার
অনেক পছন্দ হয়েছে।
.
তুফলি দুপুরে কলেজ থেকে আসলো।
মেয়েটির ব্যাপারে জানতে হলে
তুফলিকে ধরতে হবে। আর তুফলি
ওনাকে কিভাবে চিনে সেটাও
জানা দরকার। গেলাম ওর রুমে
.
"আসতে পারি?
"আসুন স্যার। তা কি মনে করে হঠাৎ?
"না এমনি। ভালো লাগছিলোনা একা
একা তাই একটু গল্প করতে এলাম।
"সত্যি কি তাই?
"আসলে মেয়েটি কে?
"কোন মেয়েটি?
"ঐযে সকালে দেখলাম
"ওনার নাম জেরিন ফাইনাল ইয়ার এ
আমাদের কলেজে পড়ে। কিন্তু ওর
ব্যাপারে হঠাৎ জানতে চাচ্ছিস।
"ভালো লাগে ভীষণ। (মুখ ফসকে বের
হয়ে গেল)
"কিইইই।
.
জেরিনদের বাসায় বসে আছি। আমি
আব্বু আম্মু আর তুফলি। ওকে ওনাদের
ভিষণ পছন্দ হয়েছে। সেইদিন তুফলি কে
মেয়েটির ব্যাপারে বলার পর
আমাকে আর কিছু করতে হয়নি। তুফলি
আব্বু আম্মুকে ম্যানেজ করেছে।
.
"তোমাদের দুজনের কিছু বলার থাকলে
বলতো পারো। (জেরিনের আবু)
.
তুফলি আমাকে ইশারা করলো। আমি
আর জেরিন ওর রুমে গেলাম। চুপচাপ
বসে আছি । কেউ কিছুই বলছিনা।
নিরবতা ভেঙ্গে আমিই বললাম
.
"আমাকে আপনার পছন্দ হয়েছে?
"জ্বি
"এই বিয়েতে কি আপনার মত আছে?
"জ্বি
"আমার আর কিছুই বলার নেই। আপনি
চাইলে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে
পারেন।
"আমার কিছু বলার নেই। আব্বু আম্মু যা
বলবে সেটাতেই আমি খুশি।
" কিন্তু আপনারও তো কিছু বলার
থাকতে পারে।
" না নেই।
.
আমি আর জেরিন রুম থেকে বের হলাম।
ইতিমধ্যে উনারা বিয়ের দিন ঠিক
করেছে। এই মাসের ১২ তারিখ। যাক
অবশেষে বিয়েটা তাহলে হচ্ছে।
.
বাসায় ফিরে ফ্রেস হলাম বিশ্রাম
নিচ্ছি। এমন সময় তুফলির আগমন।
.
"কি করিস??
"তোকে অনেক থ্যাকস। তুই যদি আব্বু
আম্মুকে না বলতি সেইদিন
"হয়েছে হয়েছে। আমি আমার জন্য
করেছি। তোর জন্য না।
" হুম
.
আজ বিয়েটা অবশেষে সম্পন্ন হলো।
আজ আমার আর জেরিনের বাসর রাত।
বন্ধুদের জোরাজরিতে রুমে ঢুকলাম।
হার্টবিট বেড়েই চলেছে। জেরিন
ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। আমার
উপস্থিত টের পেয়ে বিছানা থেকে
নেমে আমাকে সালাম করলো। আমি
জেরিন ঘোমটা সরিয়ে মায়াবী
মুখটা দেখলাম। আমার বউটাতো অনেক
কিউট।
.
.
মিষ্টি একটা সম্পর্কের শুরু এভাবেই।

No comments:

Post a Comment