Saturday, November 12, 2016

বাথরুম সিংগার

আমি কিছু জানি না,আমাকে আধ
ঘন্টার মাঝে আমার বাড়ি এসে
আইসক্রিম দিয়ে যাও??
-- রাত ১টা বাজে, এখন কি কোন
দোকান খুলা পাবো নাকি?? কাল
দিয়ে যাই??
-- আমি ফোন রাখলাম, মনে রেখো
মাত্র ৩০মিনিট??
কোন কথা বলতে না বলতেই তামান্না
ফোনটা রেখে দিলো। আচ্ছা সবাই
কি ভাবছেন এটা আমার প্রেমিকা
তাই না, ভুল ভাবছেন?? এটা আমার
ভাইয়ের হবু বউ, মানে আমার ভাইয়ের
সাথে তামান্নার বিয়ে ঠিক হয়ে
আছে। এবার হয়ত ভাবছেন আমি কেন
ওনার সাথে ফোনে এভাবে কেন
কথা বলছি। আচ্ছা বুঝিয়ে বলছি..........
ভাই বাথরুমে গেছে আর আমি
ঘুমাছিলাম, এমন সময় তামান্না ফোন
দিলো তাই ভাবলাম আমার কোটি
টাকার ঘুমটা ভাঙ্গানোর জন্য ভাইরে
একটা বাশ দেই। তাই একটু জমিয়ে প্রেম
আলাপ করে নিলাম, দুই ভাইয়ের কন্ঠ চরম
মিল তাই বুঝেই নাই। কিন্তু বাশঁটা
হলো এত রাতে ওরে আইসক্রিম দিয়ে
আসতে হবে। এখন বুঝলাম নিজের ফাঁদে
মানুষ কিভাবে পড়ে।
-- কিরে এতো রাতে তুই আবার কার
সাথে কথা বলস? (ভাইয়া)
-- ভাবির সাথে একটু প্রেম করলাম আর
কি??( আমি)
-- মানে কি??
-- মানে ভাবলাম কি ভাবে প্রেম
করে এটা একটু শিখব কিন্তু........
-- কিন্তু আবার কি???
-- যা গিয়ে তোর হবু বউরে আইসক্রিম
দিয়ে আয়??
-- মানে কি?? বলস কি তুই এত রাতে??
-- মনে রাখিস আর মাত্র ২০ মিনিট
হাতে আছে?? টা টা
ভাইয়ের সাথে আর কথা না বলে ঘুমের
ভান ধরে পড়ে থাকলাম আর ভাবতে
লাগলাম কবে যে এমন প্রেম আলাপ
করার মত একটা হবু বউ পাবো।
-- এই উঠ না, আমাকে বাচাঁ নয়ত
তামান্না বিয়ে ভেঙ্গে দিবে, যেই
রাগি মেয়ে??
-- ওকে ব্যবস্তা একটা আছে তবে আমি
তোকে বাচালে কি দিবি??
-- তুই বাশঁ দিবি আবার তুই বাচাবি
এতে তোকে আবার কি দিবো??
-- ওকে শুভ রাত্র
-- ঐ ভাই যা চাইবি সব দিবো আগে
আমাকে বাচাঁ??
-- সত্যি তো যা চাইবো দিবি??
-- হুম,,,,,,,,, কি লাগবে বল??
-- আচ্ছা তাহলে তোর বউটা আমার??
-- হারামজাদা ( বলেই মারতে শুরু করল)
-- আচ্ছা কিছু লাগবে না, আর মারিস
না।
-- ওকে এবার একটা ব্যবস্তা কর??
-- ফ্রিজে গিয়ে দেখ আমার ভাগনির
জন্য আজ কিছু আইসক্রিম আনছিলাম, যা
ঐগুলো দিয়ে আয়??
-- আমি একা যাবো নাকি, আমার
সাথে চল।
-- বউ তোমার,শশুর বাড়ি তোমার, আদর
খাবে তুমি। এবার যাও ও তুমি??
-- ভাবি তোর, আত্মীর বাড়ি তোর,
বিয়াইন গুলো তোর। এবার সাথে চল
তুই??
-- বুঝছি আর কথায় পারব না, এবার
চলো??
ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম বেড় করে
ভাইয়ের সাথে হাটতে থাকলাম।
আরো ১৫মিনিট হাতে আছে। আরে
আপনাদের তো পরিচয়ই দেওয়া হলো
না, আসেন ১৫ মিনিটে পরিচিত হয়ে
নেই.....
আমি পাপন, কিন্তু ডাকে সবাই কলা
গাছের বান্দর বলে। এবার সিভিল
ইন্জিনিয়ারিং ৩য় বর্ষে পরি।
কিভাবে যে এত বড় ক্লাসে উঠলাম
জানি না, সবই আমার বন্ধুদের
ভালোবাসার ফল। নিজের বেপারে
আর না বলে আমার পরিবারের সাথে
পরিচয় করিয়ে দেই। এতখন যার সাথে
কথা বললাম এটা আমার বড় ভাই রিয়াদ।
খুবই রোমান্টিক মানুষ। এখন একটা
মাল্টিমিডিয়া কোম্পানিতে জব
করে, সেলারী বলতাম না তবে কম না।
বিয়ের বয়স হইছে তাই ভাইয়ের সাথে
তামান্না আপুর বিয়ে ঠিক হইছে।আর
এক সপ্তাহ পরেই বিয়ে। আমাদের
পাশের এলাকা তে ভাইয়ের বিয়ে
ঠিক হইছে, বাবার বন্ধুর মেয়ের সাথে।
আরো একজন আছে পরিবারে, আমাদের
একটা বড় বোন জেনী। আমার বোনটা
যেমন তেমন কিন্তু দুলা ভাই বাধন সবসময়
আমার দলে। বাবা, মা,বড় বোন,বড় ভাই
আর আমাকে নিয়েই আমাদের সুখের
পরিবার কিন্তু আমি কাউকে শান্তি
দেই না
-- কিরে বাড়ির সামনে তো চলে
আসলাম, এবার কি করব??
-- ইশশশ আপনাদের সাথে কথা বলতে
বলতে বাড়ির সামনে চলে আসলাম??
-- কার সাথে কথা বলস??
-- পাঠকদের সাথে??
-- মানে??
-- তুমি বুঝবে না!!!!
-- হুম, এবার কি করব এটা বলবি তো??
-- এবার তোর বউ কে ফোন দে, বল বউ
গো আইসক্রিম নিয়ে আসছি??
--আচ্ছা,,,,,, পাপন এই পাপন??
-- হুম বলো??
-- মোবাইল বাড়িতে রেখে আসছি??
-- কী??
-- হুম তোর মোবাইল টা দে?
-- নাও...
আপনার মোবাইল নিয়ে খুশি হয়ে ভাই
ফোন দিলো আর ঐ পাশ থেকে বলল...
"সম্মানিত গ্রাহক আপনার কলটি
বর্তমান ক্রেডিটকে অতিক্রম করছে "
এটা শুনা মাত্রই ভাই আমার দিকে চরম
একটা লুক নিয়ে তাকালো.....
-- এই নে তোর মোবাইল?
-- ভাইজান গো আর রাগ দেখাও না আর
মাত্র ৫ মিনিট বাকি আছে। এবার
দোতলাতে উঠে পড়ো।
ভাই আমার সাথে রাগ দেখিয়ে
অনেক কষ্ট নিয়ে উপরে উঠে গেলো
আর আমি নিচে পাহারা দিতে
লাগলাম.....
-- এই নাও তোমার আইসক্রিম ?? ( ভাই)
-- আরে তুমি কিভাবে আসলে, ফোন
দিতে পারতে?? (তামান্না আপু)
-- মোবাইলটা বারাক ওবামাকে দান
করে দিছি??
-- বুঝছি প্রতিদিনের মতো আজও আমার
জামাইটা মোবাইলটা বাড়িতে
রেখে আসছে?
-- হইসে এবার ধর আর আমাকে বিদায়
দাও নয়ত কেউ দেখে ফেলবে??
-- এই এইটা আইসক্রিম নাকি ঠান্ডা
পানি??
-- মানে মানে??
-- মানে মানে কি??
-- মানে এই বক্স তো পাপন আমাকে
দিছে, তারপর প্রথম থেকে সব আপুকে
খুলে বলল।
আপু অনেক রাগ নিয়ে বেলকনি তে
আসলো।
-- হাই আপু ( আপু)
-- তোর হচ্ছে শুধু বিয়েটা হতে দে??
ওনার আর কোন কথাই বুঝলাম
না,ভাইয়ের সাথে ইচ্ছা মত রাগ
দেখালো।কিন্তু যাই জানি আমার
রোমান্টিক ভাইজানটা সব মানিয়ে
নিবে।
একটু পরে ভাই আমার সামনে আসলো.....
--কিরে এর মাঝে ঠান্ডা পানি
আসলো কিভাবে??
-- মানে কি?? এই বক্সে তো আইসক্রিম
থাকার কথা??
-- তাহলে পানি আসলো কই থেকে??
-- মনে হয় আমার ভাগনী নিধি
আইসক্রিম খেয়ে বরফ রেখে দিছে আর
বরফ গলে পানি আসছে??
-- হুম এবার চলেন আমার ভাই, তোর আজ
হচ্ছে??
মারতে মারতে আমাকে বাড়িতে
নিয়ে গেলো।দেখতে দেখতে আজ ১
সপ্তাহ হয়ে গেল। আজ ভাইয়ের বিয়ে।
কাল ভাইয়ের গায়ো হলুদে চরম মজা
করছি বন্ধু বান্ধব মিলে।
একটু পরেই মেয়ের বাড়ি থেকে
আমাদের নিতে আসবে তাই রেডি
হতে হবে। বাথরুমে চলে গেলাম
গোসল করতে আর জুড়ে জুড়ে গান
গাইতে লাগলাম........
"সোনারে সোনারে কাছে আয় না
রে"
" ছোট্টো একটা ক্লিক করে সেলফি
নেনা রে"
-- বা বা ছেলের ছোট ভাই দেখি
বাথরুম সিঙ্গার।
--ওই কে রে, আমার রুমে কে??
-- আমি যেই হই আপনার সাথে সেলফি
তুলতে আসছি,একটু বাইরে আসেন??
-- ওই দূরে যান তো নয়ত আমি চেচাঁবো
কিন্তু ভাইইই....
-- থামনে চলেই যাচ্ছি, বাথরুম
সিঙ্গার।
কে হতে পারে এমন ভয়ংকর মেয়ে,
ভাবতে ভাবতে গোসল শেষ করে
বাইরে আসলাম।
-- কিরে শালা বাবু এখনো রেডি হও
নাই। কখন থেকে মেয়ের বাড়ির লোক
এসে বসে আছে।
-- কে কে আসছে??
-- মেয়ের ৫ জন কাজিন আর চারজন
মুরুব্বি??
-- রিয়াদ ভাই কি রেডি হয়ে গেছে??
-- ৩০ মিনিট হবে রেডি হয়ে বসে
আছে, একমাত্র তুমিই বাদ আছো?
-- আচ্ছা যাও ১০ মিনিটের মাঝে
আমি আসছি???
দুলাভাই চলেই যাচ্ছিল কিন্তু আবার
এসে বলল,,,,,
-- শালাবাবু তুমি নাকি বাথরুম
সিঙ্গার??
-- মানে কি?? কে বলল??
-- বাইরে তো এটা নিয়ে অনেকে
কথা বলছে??
-- কে এটা বলছে সবাই রে??
-- জানি না তবে তুমিই খুজে দেখো
শালাবাবু??
আর আমি এই মেয়েটাকে কিভাবে
খুজে পাবো এটাই ভাবছি........
রেডি হয়ে বাইরে আসা মাত্রই সবাই
কেমন যেন আমার দিকে তাকাই আছে
আর মিটমিট করে হাসছে। চুপচাপ
ভাইকে সাথে নিয়ে গাড়িতে
গিয়ে বসলাম। ভাইয়ের বন্ধুরা আর
আমার বন্ধুরা পরের গাড়িতে আসছে।
যদিও বা পাশের এলাকাতে বিয়ে
তবুও বিয়ে বলে কথা, গাড়িতো
লাগবোই।
ভাইয়ের সাথে মজা করছি, এমন সময়
ভাই বলে উঠলো......
-- কিরে তুই নাকি বাথরুম সিঙ্গার??
-- কে বলল??
-- সবাই তো বলছে??
এটা কোন ফাজিল মেয়েরে
বাবা,সবার কাছে বলে দিলো আমি
বাথরুমে গান গাইছি। একবার পেয়ে
নেই.....
গাড়ি থেকে নেমেই গেট ধরা হলো....
-- আমরা ১০,০০০ টাকার কমে নিবোই
না ( মেয়ে পক্ষ)
-- আমরা ৫০০০ এর কমে দিবো না??
(আমার দুলাভাই)
-- তাহলে রাস্তা বন্ধ???
-- এটা কেমন, তাহলে কি আমরা
ভিতরে যাবো না??
-- যাবেন তবে যত বলছি তত টাকাই
লাগবে??
-- আচ্ছা দুলাভাই ৭ হাজার দিয়ে
দেন??(আমি)
-- এটা কেমন কথা পাপন??(দুলা ভাই)
-- আরে দেন তো....
আমার কথা শুনে আমাদের পক্ষের সবাই
প্রায় চুপ হয়ে গেছে।আমাকে দুলাভাই
দূরে টেনে নিয়ে বলল....
-- কি হলো তোর, তুই তো এইসব নিয়ে
কত মজা করস। কিন্তু আজ নিজেই টাকা
দিয়ে দিচ্ছিস। কি হইসে তোর??
-- কিছু না, মনটা ভালো না,
তারাতারি এই ঝামেলা শেষ করো
তো।
-- বুঝছি কি হইছে, আচ্ছা দেখছি??
দুলাভাই ৭ হাজার টাকা দিতে
চাইলো কিন্তু ওরা নিতে চাইলো না।
আমি চুপচাপ দূরে দাড়াই আছি। সত্যি
বলতে মেয়েটার এই ব্যবহারটা ঠিক হয়
নি। সবাই এখন আমাকে কি চোখে
জানি দেখছে তাই মনটা খারাপ।
-- ৭হাজার নিতেই রাজ আছি যদি
পাপন ভাই নিজে টাকা আমাদের
দেয়??
হঠাৎ মেয়ে পক্ষের একটা মেয়ে বলে
উঠলো।
-- ও আমরা দিলে নিবে না কেন???
(দুলাভাই)
-- সব বলবো কেন?? (মেয়েটা)
-- পাপন একটু এদিকে আয় তো??
(দুলাভাই ডাক দিলো)
-- কি হইসে??
-- আগে আয় তো???
-- কি হইসে বলো??
-- তুই নিজের হাতে টাকা না দিলে
নাকি নিবে না??
-- এতো মানুষ থাকতে আমি কেন??
-- জানি না, তুই দে??
-- আচ্ছা দাও আমি দিয়ে দিচ্ছি??
আমি যখন টাকা টা দিলাম, একটা
মেয়ে টাকাটা নিলো আর আমার
দিকে কেমন করে যে তাকালো।
বিয়েটা শেষ হয়েছে ভালো
ভাবেই,এখন সবাই খেতে বসেছে। আর
আমি এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে
ঘুরাঘুরি করছি কিন্তু খেতে বসি না।
গেট আটকিয়ে যে মেয়েটা টাকা
নিলো সে হঠাৎ আমার সামনে এসে
বলল......
-- এই মিষ্টার খাবেন না??
-- আমি তো কখনই খেয়ে নিলাম।
-- বুঝছি আপনি এখনো রাগ করে
আছেন??
-- কার উপর রাগ করব??
-- যে আপনাকে বাথরুম সিঙ্গার বলছে
আর সবার কাছে গিয়ে বলছে??
-- আপনি চিনেন ওই মেয়েটা কে???
-- আমি সায়মা?
-- আমি আপনার নাম দিয়ে কি করব ঐ
মেয়েটার নাম বলেন??
-- যদি বলি মেয়েটার নাম তাহলে
মেয়েটার সাথে কি করবেন??
-- বেশি কিছু না শুধু বলবো কাজটা
ঠিক করে নি??
-- আচ্ছা আমি ওই মেয়েটার হয়ে সরি
বলছি, এবার তো খেতে বসেন, নয়ত
পরে কিছুই পাবেন না???
সায়মার অনেক জোরাজোরি তে
খেতে বসলাম, ও নিজে আমার খাবার
ভেড়ে দিচ্ছে।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে সবাই
একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছি। সবাই যে
যার মত করে গান গাচ্ছে। আর কেউ
কেউ কাউকে উদ্দেশ্য করে গান
শুনাচ্ছে। আমি ভাবীর পাশে বসে
শুনছি। হঠাৎ সায়মা বলে উঠল এবার
জামাই এর ভাইয়ের গলায় একটা গান
শুনা যাক.....
-- এই আমি তো গান পারি না??
-- আমরা সবাই জানি গান পারেন কি
না??
-- হুম তবে গান গুলো সব ঐ রুমেই বন্ধি??
-- আজ আর ছাড়ছি না, গান আপনাকে
গাইতেই হবে??
সবার এক পর্যায় অনেক জোর করার
কারনে একটা গান গাইলাম......
" তোরে খুজি আকাশে, তোরে খুজি
বাতাসি"
" তোরে আমি কি করে যে পাই "
" নিঃসঙ্গ জীবনে ভালবাসা বিহনে
"
'' এ জীবন কেমনে কাটাই "
" কি করে বুঝাই তুই ছাড়া, আমি যে
অসহায় "
"" ওরে মন মনরে মনের মানুষ কোথা
পাই"
গান শেষে সবাই হাত তালি দিতে
দিতে বলল,
-- পাপন ভাই তুমি সত্যি খুব ভালো গান
পারো, আর যে তোমাকে বাথরুম
সিঙ্গার বলল তার মুখে তো ঝামা
ঘষে দিলে।
একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম, সবাই কত
মাস্তি করছে কিন্তু সায়মা এখন চুপচাপ
হয়ে গেছে আর আমার দিকে এক করুন
দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে। তাই
আমি এখান থেকে চলেই আসলাম???
-- চলে আসলেন যে?? (সায়মা)
-- আরে আপনি?( আমি)
-- হুম, এই আপনি আপনিটা কু তুমি করা
যাবে??
-- খুব কি দরকার??
--না বন্ধু হিসেবে তুমি হলাম??
-- আচ্ছা তুমি তুমি তুমি......
-- এই ছেলে জানো তোমার উপর কিন্তু
অনেকে ক্রাশ খাইছে??
-- কেন?? আর কে খাইলো??
--যে এতো সুন্দর গান পারে তার উপর
ক্রাশ না খেয়ে কি থাকা যায়??
-- তুই বুঝি?? একটা ব্যবস্তা করে দেন না,
প্রেম করার ইচ্ছাটা পূরন করি??
-- নিজের পায়ে দাড়াই থাকতে
চাইলে আর এই কথাটা বলবে না??
-- মানে??
-- মানে তারাতারি নিচে চলো, একটু
পরেই তো আমার বোনটা কে নিয়ে
চলে যাবে??
--সাথে তোমাকেও!!!!
-- মানে??
-- মানে তারাতারি নিচে চলো??
সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে
আসছি, এমনকি ভাইয়ের দ্বারা
সায়মাকে আমাদের বাড়ি নিয়ে
আসলাম।
আজ নাকি ভাইয়ের বাসর রাত তাই সব
ব্যবস্তা করে দিয়ে আমি ছাদে চলে
আসলাম। একা একা দাড়িয়ে আছি আর
চাদঁ দেখছি আর ভাবছি সাময়ার
সাথে কথা হওয়ার পর থেকে আমার
শয়তান গুলো কই যেন হারাই গেলো....
-- একা একা ছাদে কি?? ভয় করে না
বুঝি??
পিছনে ফিরে দেখি সায়মা....
-- না তো ভয়ের কি আছে। আমার মত
শয়তান কে আবার কোন শয়তানে ধরব??
-- তবে পেত্নী তো ধরতেই পারে??
-- ভালোই হতো যদি এই শয়তানের
একটা পেত্নী হতো??
সায়মা কিছু বলতে যাবে এমন সময় ভাই
আর ভাবীর আগমন.....
-- বুঝতে পারছি, আজ এই রাতটা কার??
( ভাই)
-- ভাই তুই এখানে??( আমি)
-- চন্দ্রবিলাস করতে আসছিলাম কিন্তু
এখানে তোদের কি??( ভাই)
-- সায়মা চলো নয়ত বউ পাগলটা উল্টা
পাল্টা বলা শুরু করবে??
-- ভালোই হতো বললে??
-- মানে??
-- মানে চলো তো??
আমি আর সায়মা চলে আসলাম, পরের
দিন সকাল সকাল সায়মা চলে গেল। এমন
কি ঘুম থেকে উঠে ওর সাথে দেখাই
হলো না।
দেখতে দেখতে একটা সপ্তাহ চলে
গেলো, তবে মাঝে মাঝে কি যেন
একটা নেই নেই মনে হতো......
-- পাপন আমাকে একটু আমাদের
বাড়িতে দিয়ে আসবি, তোর ভাই তো
কাজে??( ভাবী)
-- আচ্ছা চলো ভাবী।
ভাবী কে নিয়ে ওদের বাড়ি
গেলাম, ভাবীকে আগে নাম ধরে
ডেকে মজা নিতাম কিন্তু এখন ভালো
হয়ে গেছি। দরজায় নক করতেই সায়মা
দরজা খুলো???
-- আরে তুমি??
-- আমি না,, ভাবি??
-- ওকে এসো ভিতরে এসো??
ভাবী ভিতরে চলে গেলো। আমি আর
সায়মা একসাথেই বসে আছি।হঠাৎ
সায়মা বলে উঠলো....
-- এক সপ্তাহ চলে গেলো কোন খবর নাও
নি কেন??
-- তুমিও তো করতে পারতে???
-- আমি কি ছেলে নাকি?? জানো না
ছেলেরা আগে কথা বলে??
-- যে আমাকে বাথরুম সিঙ্গার
বানালো সবার সামনে তার সাথে
কিভাবে কথা বলি??
-- তাহলে তুমি সব জানে??
-- আজ নয় বিয়ের দিনই বুঝতে পারি, যখন
তুমি সরি বলো??
ও আর কোন কথা বলল না তবে আস্তে
আস্তে আমাদের মাঝে সময়ের সাথে
শেয়ারং,কেয়ারং টা বাড়তে
লাগলো। হুমায়ন স্যার বলছে ২টা
ছেলে মেয়ে কখনো বন্ধু হয়ে থাকতে
পারে না, আমার জীবনে ঠিক তাই
ঘটলো। আর এই ভালোবাসা আমার ভাই
আর ভাবীর হাত ধরে রূপ নিলো বিয়ে
পর্যন্ত।
" সোনারে সোনারে কাছে আয় না
রে "
" ছোট্টো একটা ক্লিক করে সেলফি
নে না রে"
-- এই মিষ্টার বাথরুম সিঙ্গার, হইসে
তো আর কতো সেলফি তুলবে??
বি:দ্র: গল্পটার মাঝে হয়ত বেশি
মজাদার করতে পারি নাই তার জন্য
ক্ষমা করে দিবে। আমার সাময়িক কিছু
সমস্যার কারনে গল্পটা আমার মনের মত
সুন্দর করতে পারি নি। তবে কথা
দিচ্ছে পরের গল্প নতুন কিছু উপহার
দিতে চেষ্টা করব। আর হা গল্পটা সম্পূর্ণ
কাল্পনিক।

No comments:

Post a Comment