Saturday, November 12, 2016

অবিশপ্ত ভ্রমণ

হটাৎ দুপুরের ফোনটা বেজে উঠে । রানা ফোন দিয়েছে ………
দুপুর ঃ হ্যা বল কি হয়েছে ?
রানা ঃ দোস্ত তুই কোথায় ?
দুপুর ঃ আমি সাভার , কেনো ?
রানা ঃ এখনই ঢাকা আয় , সরাসরি শাকিলের বাসায় । খুব ইমারজেন্সি ।
দুপুর ঃ এখন ৫টা বাজে , কাল আসলে হয় না ?
রানা ঃ না ।
দুপুর ঃ ঠিক আছে । আসছি .
রাত ৯টার পরে বাংলামটর একসাথে হয় রানা আর দুপুর , সেখান থেকে রাত ১০টার দিক শাকিলের বাসায় হাজির । অইখানে গিয়ে জানতে পারে শাকিল আর দুপুর যে তারা আজ রাতে রানা ফেনি যাচ্ছে । রানা তার প্রেমিকা নীল এর সাথে দেখা করতে যাবে । ১১;৩০ মিনিটে বাস । বাস স্টান্ডে এসে টিকিট কেটে বাসে গিয়ে বসে ।দুপুর আর শাকিলও রানার পিছু ধরে ।রানার খুব জর তাই ওকে একা ছারতে নারাজ আর ১টা টুর ও হবে ভাবে দুপুর আর শাকিল ।
দুপুর ঃ দেখছিস শাকিল রানা কি ১টা বোরিং টুরে নিয়ে যাচ্ছে , সারা বাসে ১টা মেয়েও নাই ।
শাকিল ঃ ওই তোর মুখে কি পেত্নি আর মেয়ে ছারা কোন কথা নাই ?
দুপুর ঃ সরি , যা আর কথাই বোলবো না । অকে ?
রানা ঃ চিন্তা করিস না দুপুর , নীল ওর বান্ধবী নিয়ে আসবে ।
দুপুর ঃ সত্ত্যি মামা ?
রানা ঃ হ্যা ।
এভাবে বাস চলতে থাকে । বাস কুমিল্লা গিয়ে ব্রেক দেই ২০ মিনিটের । ওরা সবার পরে নামে বাস থেকে । নামার সময় দেখে অদের সামনে থেকে ১টা মেয়ে নামছে । শাকিল দুপুরকে বলে , মামা তোমার জিনিশ চলে আসছে । যাও পিছু নাও । এই বলে নেমে ফ্রেসরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে পাসের মিষ্টির দোকানে আসে , সত্ত্যি কথা বলতে ওরা ওই মেয়েটাকে দেখে আসে দোকানে । দোকানে গিয়ে
শাকিল ঃ কাকা মিষ্টি পিস কতো করে ?
দোকানদার ঃ দাদা পিস বিক্রি হয় না ।
শাকিল ঃ কিন্তু আমরা তো ৩জন এখানে খাবো , বেশি নিব না ।
দোকানদার ঃ নেন , মালিকের অড্রার আছে কেউ খায়তে চাইলে ফ্রি দিতে বলছে ।
ওরা ফ্রি মিষ্ট খেয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে সেলফি তুলে । পিছনে মেয়েটিকে দেখে দুপুর বলে ওই ঐ দেখ মেয়েটা । মেয়েটাকে পিছনে রেখে ছবি তুল ।
ছবি তুলে সবার পরে ওরা বাসে উঠে । দুপুরের কেন জানি মেয়েটাকে নিয়ে সন্ধেহ হয় । ওদের বললে ওরা বলে নিশ্চয় তোর ওই মেয়েটাকে কোন প্রেতাত্তা মনে হচ্ছে তাই না ? বলে শাকিল ।
দুপুর ঃ মেয়েটার হাটা টা খেয়াল কর , দেখ আমার কেন জানি মনে হলো মেয়েটা মাটি থেকে কিছুটা উপর দিয়ে হাটছে । আত্তারা মাটি থেকে কিছু উপরে হাটে , ওরা মাটিতে হাটতে পারে না ।
রানা ঃ দুপুর সব কিছুর ১টা মাত্রা আছে । এখানে তোর প্রেতাত্তা গবেষনাটা প্লিজ বাদ দে ।
তার পর ওরা যার যার মত সিটে গিয়ে বসে । সারা বাস ওরা ৩জন মাতিয়ে রাখে বাসটা ওরা ।
৩;৪০ মিনিটে বাস ফেনি পোছে । ওরা ঐখানে প্রথমবার তাই কিছু চিনে না । স্টারলাইন বাসের কাউন্টারের লোকের কাছে হোটেলের কথা জিজ্ঞাস করলে সে বলে এখন হোটেল পাবেন না থাকার জন্ন্য । ১টা কাজ করেন কাউন্টারে কোন রকম বসে থাকার ব্যাবস্থা আছে । ওইখানে গিয়ে বসে কোন রকম রাত টা পার করতে পারেন । উপায় না দেখে ওরা ঐ খানে থাকার সিদ্ধান্ত নেই । সেখানে গিয়ে দেখা গেল আরো অনেক মানুষ সেখানে আছে । ওরা গিয়ে একপাসে বসলো ।সাকিল ব্যাগ থেকে ১টা চিপসের প্যাকেট বের করে দিয়ে বলল
শাকিল ঃ প্যাকেট টা বাসে পাইছি , চল খেয়ে ফেলি ।
রানা ঃ পানির বোতল বের করে বলে আমিও এটা পাইছি ।
দুপুর ঃ ভালোই তো সবই তো ফ্রি পাচ্ছি ।
হটাৎ রানা দেখে ওই মেয়েটা এসে একপাসে বসল । রানা শাকিল কে বলল মামা দেখ কে ।তারপর ওরা নিজেদের মধ্যে মেয়েটাকে নিয়ে মজা করতে লাগলো । এর ভিতর ডিসিশন নিল যে শাকিলের পক্ষ থেকে ওই মেয়েটাকে দুপুর প্রোপস করবে । এভাবে ভোর হয়ে গেল । শাকিল এবং দুপুরকে বলাতে রাজি না হওায় রানা নিজেই মেয়েটার কাছে গিয়ে (ততক্ষনে সবাই চলে গিয়েছে)
রানা ঃ Excuseme আপু আমি ফেনি তে প্রথম এসেছি । ছাগলনাইয়া কিভাবে যাব বলবেন কি ?
মেয়ে ঃ হাই আমি রিয়া । আমি এখান টা ভালো করে চিনি না সো কোন সাহায্য করতে পারছি না ।
রানা ঃ ঠিক আছে ।
ফিরে এসে রানা ওদের বলে সালির বেটি ভাব নিছে দোস্ত । এদিকে বারবার দুপুর মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছে আর মেয়েটাও দুপুরের দিকে তাকাচ্ছে । কিছুখন পর মেয়েটা এসে রানা কে বলে আমি একা এসেছি , সামনে যাব , আপনারা চাইলে আমারা একসাথে যেতে পারি । সাথে সাথেই ওরা রাজি হয়ে যায় । মেয়েটার পাসে ওরা হাটছে
রানা ঃ আপনি একা কেন এসেছেন ঃ
রিয়া ঃ আমি আসলে বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি ।
রানা ঃ এখন কোথায় যাবেন ?
রিয়া ঃ এখানে আমার বয়ফ্রেন্ড থাকে , আমি ওর কাছেই যাবো ।আপনাদের কারো ১টা ফোন দিবেন আমি রাকিব কে কল করবো ।
দুপুর তার ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বলে ফোন করেন । কথা শেষ করে ফোনটা দিয়ে দুপুরকে থ্যাঙ্কস দেয় । আর বলে
রিয়া ঃ রাকিব আসছে । ততোখন কি আমি আপনাদের সাথে থাকতে পারি ?
শাকিল ঃ হ্যা , কেন না । আসুন সকাল হয়েছে আমরা নাস্তা করে নেই ।
এইবলে তারা হোটেলের খোজে হাটা শুরু করে ।হটাৎ রানার ফোন বেজে উঠে , সে কাকে জেন বলে হ্যা দোস্ত আমি আসতেছি । তুই থাক । তারপর রানা বলে , দুপুর সালাউদ্দিন ফোন দিয়েছে ও স্টান্ডে দারিয়ে আছে । চল । দুপুর রানার বুদ্ধিটা বুঝতে পারে । সে বলে চল
দুপুর ঃ সরি আপু । আমাদের বন্ধু চলে এসেছে । আমাদের যেতে হবে ।
এই বলে চলে আসে । শাকিলের এসব বুঝতে একটু সময় লাগে ।রানা বলে , আমার মেয়েটাকে সুবিধার মনে হচ্ছিল না তাই এই নাটক । দুপুর অর সাথে এক মত প্রকাস করে । আর পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে মেয়েটি নাই । তখন তার মনে পরে সে না মেয়েটার হাটা লক্ষ করতে চেয়েছিল । যাই হোক আপদ বিদেয় হয়েছে ।
নিলের সাথে রানার কথা হয়েছে নিল ১০;৩০ এ কলেজে আসবে , সেখানেই রানা আর নিল প্রথম দেখে করবে ।এর মাঝে ওরা ফেনি সহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখে । ছবি তুলে । ফেনি রেল স্টেশনে অনেকখন সময় কাটায় , অনেক ছবি তুলে । হটাৎ দুপুরের চোখে পরে রিয়া মেয়েটা কে । ও রানাকে বলে ওই দেখ এখানে রিয়া । রানা তাকিয়ে দেখে কেউ নেই । দুপুর অবাক হয়ে যায় । সে কি তাহলে ভুল দেখেছে ।
১০;৩০ এ কলেজে পৌছে যায় ওরা , সাথে নিলের জন্ন্য কিছু গিফট নিয়ে নেয় ।
১০;৩৫ মিনিটে নিল আসে , মুখে নেকাব পরা । নিল বলে আমি ১টা ক্লাস করে বের হব । তোমরা তারপর কোথায় যাবে ঠিক কর ।
রানা , শাকিল আর দুপুর অনেকের সাথে কথা বলে ঠিক করে যে তৃপ্তি গাডে্ন যাবে ।যেই বলা সেই কাজ , নিল ক্লাস শেষ করে আসলে ১টা সি এন জি নিয়ে তারা সেখানে চলে যায় । জায়গাটা আসলেই সুন্দর, তবে ভিতরে ঢোকার পর শাকিল আর রানা বুঝতে পারে যে আসলে এটা মনে হয় প্রেমিক আর প্রেমিকাদের জন্যই । রানা আর নিল কে প্রেম করার সুজোগ করে দিয়ে শাকিল আর দুপুর পুড়ো বাগান টা ঘুরে আর ছবি তোলে । হটাৎ দুপুরের চোখে পরে রিয়া মেয়েটাকে আবার । সে এবার রিয়ার পায়ের দিকে খেয়াল করে দেখে পা টা সত্ত্যিই মাটি থেকে একটু উপরে ।আর তার পা থেকে রক্ত ঝরছে । সে শাকিল কে বলে শাকিল দেখ রিয়া । শাকিল তাকিয়ে দেখে কেউ নাই । দুপুর দৌড় দিয়ে সেখানে যাই , যেখানে রিয়া দারিয়ে ছিল । ও বাগানের ১টা পুকুরের ধারে দারিয়ে ছিল । সেখানে গিয়ে দুপুর ঊল্টো করা ১টা নৌকা দেখতে পাই । তখন একজন দূর থেকে দুপুর কে বলছে , ঐ মিয়া ওইখান গেছেন কেন ? অইখানে যাওয়া নিষেধ , চলে আসেন , ওইখানে কি মরতে গেছেন ?
দুপুর কিছু বুঝতে পারল না । হেটে চলে আসছে , হটাৎ তার মনে হলো কে জেন তার কাধে হাত রেখেছে । পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই , সে এবার ভয় পেয়ে যায় আর শিউর হয় যে কিছু ১টা প্যারানরমাল তারসাথে ঘটছে । সে শাকিলকে কিছু বলে না । রানা আর নীল ফিরে এলে তারা ৪জন একসাথে বসে ফুসকা খায় আর গল্পে মেতে উঠে ।নীল মেয়েটা সত্ত্যি অনেক সুন্দর । দুপুর আবার রিয়া কে ওই পুকুরের পাশে দেখলো ।
দুপুর ঃ শাকিল চল আমরা সামনে থেকে হেটে আসি ।ওরা আরেকবার একটু প্রেম করে নিক ।
নীল ঃ আরে না , থাকো তোমরা । একসাথে গল্প করি ।
শাকিল ঃ হইছে হইছে আর ভাব ধরতে হবে না ।
এই বলে দুপুর পুকুরের কাছে এগুতে থাকে আর শাকিল পিছনে পিছনে । পুকুরের কাছে গিয়ে দুপুর অবাক , নৌকাটা একটু আগে উল্টোনো ছিল । দুপুর আস্তে করে পুকুরের পারে নামে পিছন থেকে শাকিল বলে ঐ কই যাচ্ছিস দুপুর ?
দুপুর ঃ আরে অনেকদিন পুকুরের পানিতে মুখ ধোয়া হয় না তাই ।
শাকিল ঃ দারা আমিও আসছি ।
দুপুরঃ আয় ।
দুপুর পানি নিয়ে মুখে দিয়ে মুখ ধোয় তারপরে দেখে তার হাতে রক্ত । মাথা তুলে তাকিয়ে দেখে নৌকাটা আবার ঊল্টানো । দুপুরের পিছন দিকে রিয়ে দৌড় দেয় । দুপুর পিছনে দৌড় দেয় ।কিছুদুর যাওয়ার পর দেখে রিয়া নেই ।হটাৎ শাকিলের চিৎকারে দুপুর আবার পুকুরের পারে দৌড় দেয় , কাছে এসে দেখে শাকিল পানিটে হাবুডুবু খাচ্ছে । কিন্তু শাকিল তো সাতার জানে ভালো । কথা না বারিয়ে দুপুর তার ব্যাগ থেকে মাদবর দাদার দেওয়া তাবিজ টা বের করে পানিতে লাফ দিয়ে শাকিলকে ধরে উপরে ঊঠানোর চেষ্টা করে কিন্তু কে জেনো পা টেনে ধরে । দুপুর যে হাতে তাবিজ ধরা ছিল সে হাতটা পায়ের কাছে আনতেই সে হাল্কা মনে করে । শাকিলকে উপরে তুলে আনে । এতোখনে অনেকমানুষ জড়ো হয়ে গেছে । রানা আর নীল ও এসেছে ।
রানা ঃ কি হয়ছে সাকিল ?
দুপুর ঃ এখান থেকে আমাদের যত তারাতারি সম্ভব যেতে হবে ।
শাকিল ঃ হ্যা । আমি আর এখানে একটুও থাকবো না ।
দুপুর আর শাকিল ফ্রেসরুমে গিয়ে কাপর চেঞ্জ করে । ফ্রেস রুমে গিয়ে দুপুর খেয়াল করে তার ২পায়ের গোড়ালির অইখানে গোল করে কেটে গেছে আর রক্ত পরছে , যেমনটা সে রিয়ার পায়ে দেখেছিল ।
আবার ১টা সি,এন,জি ভাড়া করে তারা ফেনি সরকারি কলেজের সামনে আসে ।সি,এন,জি থেকে নেমে ওরা হাটা ধরে । দুপুর পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখে শাকিল সি,এন,জির পিছনে দৌড়াচ্ছে , কোনকিছু না ভেবে দুপুরও শাকিলের পিছনে দৌড় দেই । অনেক দূর গিয়ে শাকিলের কাছে আসে দুপুর
দুপুর ঃ কি হয়েছে ?
শিকিল ঃ সি,এন,জি তে আমার ব্যাগ রেখে আসছি , যেভাবেই হোক ব্যাগটা আমাকে পেতে হবে ।
এই বলে শাকিল আর দুপুর সি,এন,জি আর সি,এন,জি স্টান্ড গুলোতে খুজতে থাকে । রানাকে ফোন করে সব বলে , রানাও খুজতে থাকে । কিছুখন পর ৩জন ৩দিকে গিয়ে খুজতে যায় ।
শাকিল দুপুর কে ফোন দিয়ে বলে
শাকিল ঃ দুপুর ব্যাগ পাওয়া গেছে , আমি টেকনিকাল কলেজ গেটে আছি ।তুই আয় ।
দুপুর ঃ আসছি ।
টেকনিকাল কলেজ গেটে ৩জন আসে , শাকিল অলরেডি ব্যাগটা নিয়ে নিয়েছে ।
দুপুর ঃ কিভাবে খোজ পেলি শাকিল ?
শাকিল ঃ আর বলিস না , রিয়া খোজটা দিল । তৃপ্তির সামনে যখন ব্যাগের খোজ করছিলাম তখন ও কোথা থেকে হটাৎ এসে বলে শাকিল তোমার ব্যাগটা টেকনিকাল কলেজ গেটে ১টা সি,এন,জি ড্রাইভার নিয়ে বসে আছে , তোমাকে খুজছে ।
দুপুর ঃ তুই ওকে জিজ্ঞেস করিস নি যে ও কিভাবে জানলো ?
রানা ঃ আজিব ব্যাপার তো , আমাকেও তো রিয়া বলল । আমি সরকারি কলেজের সামনে দারিয়ে ছিলাম । এসে বলল শাকিলকে দেখলাম টেকনিকাল কলেজ গেটে দারিয়ে আছে । হাতে ১টা ব্যাগ । তারপর আমি শাকিলকে ফোন দিয়েছি ।
শাকিল ঃ জানিশ দুপুর ও যখন চলে যাচ্ছিল তখন ওর পায়ে দেখলাম কাটা দাগ , রক্তোও পরছে ।
দুপুর ঃ দেখতো (নিজের পা এগিয়ে দিয়ে) কাটা দাগ ২টা কি এমন নাকি ?
শাকিল ঃ আল্লাহ !!!! (অবাক হয়ে) এটা কিভাবে সম্ভব ?
দুপুর ঃ আমার মনে হয় রিয়া মেয়েটা ১টা প্রেতাত্তা । তৃপ্তির সব ঘটনা গুলোও ওর ঘটনা ।যত তারাতারি সম্ভব আমাদের ফেনি ছারতে হবে ।
রানা ঃ হ্যা । আমিও খেয়াল করেছি রিয়া মাটি থেকে একটু উচু দিয়ে হাটে । দুপুরের কথাটা মনেছিল আমার , তাই খেয়াল করে দেখেছি ।আমার মনে হয় এখনি আমাদের চলে যাওয়া উচিত ।
দুপুর ঃ হ্যা চল ।
সন্ধ্যার ৬টার বাসে উঠে ওরা । বাস কুমিল্লা আসার আগে ২টা বড় আক্সিডেন্ট থেকে বেচে যায় । কেনো জানি ওদের মনে হলো এগুলা রিয়াই করাচ্ছে । কিন্তু কেনো মেয়েটা ওদের সাথে এমন করছে ?
কুমিল্লা এসে দুপুরের পাসের সিটের লোকটা নেমে গেল ।দুপুরের ২চোখ ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে ।
বাসটা হটাৎ খুব ঝাকি খেয়ে ঊঠে । দুপুরের ঘুম ভেঙ্গে যায় । পাসে তাকিয়ে দুপুরের মেরুদন্ডের শিরে যেন শীতল ঘাম বেয়ে যায় । চিৎকার করতে যাবে এমন সময় রিয়া তার মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে ।
রিয়া ঃ প্লিজ চিৎকার করবে না । আমি তোমার কোন ক্ষতি করবো না । তোমাকে কিছু কথা বলবো আমি ।
( দুপুর নিজের হাত দিয়ে রিয়ার হাত সরিয়ে )
দুপুর ঃ তুমি আসলে কে ? কি চাও ?
রিয়া ঃ আমার নাম রিয়া । আমাকে প্রায় ১বছর আগে মেরে ফেলা হয়েছে । তুমি এখন আমার আত্তার সাথে কথা বলছ ।
দুপুর ঃ (ভীত কন্ঠে) কি ? তুমি আত্তা ? কিভাবে কি হয়েছে ? আর আমরা তোমাকে কি করেছি যে আমাদের ক্ষতি করতে চাইছো তুমি ?
রিয়া ঃ ১টা ১টা করে প্রশ্ন করো , গলা আটকে যাবে তো (হাসতে হাসতে) ।
দুপুর ঃ ভুতড়া আবার হাসতে জানে ? তাও আবার এত সুন্দর হাসি ?
রিয়া ঃ হাহাহাহাহাহাহাহা(হেসে উঠে) । কেনো ভুতদের কি হাসতে মানা ?
দুপুর ঃ হইছে । এখন আমার প্রশ্নের উত্তর দাও ?
রিয়া । তোমাদের না শুধু , আমি তোমাদের বয়সের সব ছেলেদেরি মারতে চাই । আর তোমার কত বড় সাহষ তুমি ওই নোকার সামনে যাও । ঐখানেই আমাকে রাকিব মেরে রেখে গেছে ।
দুপুর ঃ খুলে বলতো সব আমাকে ।
রিয়া ঃ আমার বাড়ি ঢাকার মুগদা । আর রাকিবের বাড়ী ফেনি । আমাদের ফেসবুকে রিলেশন হয় । একদিন আমি বাসায় ঝগড়া করে বেড়িয়ে আসি । চলে আসি রাকিবের কাছে ।রাকিব আমাকে ওর এক বন্ধুর বাসায় রাখে ৩দিন । আমি বার বার ওকে বিয়ের কথা বললে ও এরিয়ে যায় । আমরা ৩ দিন ১ঘরে ছিলাম । (কেদে কেদে) পরেরদিন রাতে রাকিব ওর আরো ২টা বন্ধুকে নিয়ে এসে আমাকে ………………… ।
দুপুর ঃ প্লিজ কাদবে না ।
রিয়া ঃ তারপর আমাকে বালিস চাপা দিয়ে মেরে ফেলে । আর লাস রাতে ওই পুকুরের ভিতর বস্তায় ভরে ফেলে দেই আর নৌকা উল্টিয়ে চাপা দিয়ে রাখে । তারপর থেকেই আমার অতৃপ্ত আত্তা ঘুরে বেরায় সারা শহর জুরে । খুজে ফিরি মুক্তির অপেক্ষায় আর রাকিবের বয়সের ছেলেদের উপর সুজোগ পেলে প্রতিশোধের জালা মেটাতে চেষ্টা করি ।
দুপুর ঃ কিভাবে তোমার মুক্তি হবে ?
রিয়া ঃ কেউ গিয়ে আমার জন্ন্য জানাজা পরলেই আমি মুক্তি পাবো । তুমি আমাকে সাহায্য করবে ?
দুপুর ঃ আগে বলো , দেখি করতে পারি নাকি ।
রিয়া ঃ মুগদা ১৭/৩ বাড়ির ৪তালা আমার বাবা মা কে খবর দিবে যে আমি মারা গেছি আর তাদের বলবে আমার জন্ন্য ১টা গায়েবানা জানাজা পরিয়ে দিতে । আমার বাবার নাম আবুল কালাম আর মা জান্নাতুন নেসা । পারবে না তুমি ?
দুপুর ঃ (একটু ভেবে ) হ্যা পারব ।
এরপর রিয়া দুপুরের কাছ থেকে বিদেয় নেয় । রাত ১১টার দিক দুপুর , শাকিল আর রানা ঢাকায় পৌছে । তারপর যার যার বাসায় ফিরে যায় । পরেরদিন বিকেলে দুপুর মুগদা যায় । কিন্তু ওই বাড়িতে এখন আর রিয়ার বাবা মা থাকে না । কোথায় থাকে কেউ জানে না ।
দুপুর ব্যাপারটা শাকিল আর রানার সাথে শেয়ার করে । তারপর তারা সিদ্ধান্ত নেই যে তারা রিয়ার জন্ন্য গায়েবানা জানাজার ব্যাবস্থা করবে । আগামি ২৯ তারিখ শুক্রবার মালিবাগ মসজিদে রিয়ার গায়েবানা জানাজা হুবে । ইনশাআল্লাহ তারপর রিয়ার অতৃপ্তয়াত্তা মুক্তি পাবে সেই অপেক্ষায় আছে দুপুর , রানা আর শাকিল ।

No comments:

Post a Comment