:
>>এই উঠো তো! অফিসের সময় হয়ে
গেছে,,,,
>>হ্যা,,ঘড়ি দেখেছি,,,,
>>শুধু কি ঘড়ি দেখলে হবে.? আমাকেও
দেখো একটু,,,(রাগান্ব
>>তোমাকে তো রোজ দেখি ই,,,আর
কত দেখবো.?(অবাক হয়ে)
>>আর কত দেখবো মানে...?
>>কিছুনা,,,আমাক
ঘুমাতে দাও তো,,,আর তুমি যাও! আমার
জন্যে খাবার রেডি করো,,আমি
আসছি,,,,
>>খাবার রেডি ই আছে,,,(মুখ
ভেংচিয়ে)
>>আচ্ছা তাহলে আর একটু ঘুমাই,,,
>>না প্লিজ না,,,আচ্ছা তুমি এত ঘুমাও
কেনো বলো তো আমাকে,,,(অনুনয় করে
বলা)
>>আমি এত ঘুমাই মানে.? আমাকে এত
ঘুমাতে দেখলে কখন.?
>>আচ্ছা বাদ দাও,,আমি যাই,,, কাজ
আছে,,তুমি দ্রুত আসো,,,,৮ টা বেজে ১০
মিনিট এখন,,,ঠিক ৮ টা বেজে ১৫
মিনিট সময়ে খাবারের টেবিলে
যেন দেখি তোমাকে,,,(কড়াভা
বলা)
>>উফ,,,আচ্ছা যাও তো এখন।।।
>>যাচ্ছি,, হুহ,,,,
:
:
কথাটি বলেই জান্নাত চলে যায়। আমি
আর না ঘুমিয়ে দ্রুত উঠে পড়ি,,,কেননা
৮:১৫ সময় যদি আমি খাবারের
টেবিলে না যাই তবেই শুরু হবে
জান্নাতের বকাবকি।মেয়েটা খুব
শাসন করে আমাকে।তার সাথে বিয়ে
হয়েছে বেশিদিন হয়নি,,,এই তো মাত্র
৩ মাস চলছে।এত অল্প সময়েই মেয়েটা
আমাকে আর আমার পরিবারটিকে
অনেক আপন করে নিয়েছে।খুব সকালে
উঠে সে সকালের খাবার তৈরি করে
সবার জন্য।আমরা যৌথ পরিবার।বাবা,
মা,ভাই, ভাবি,আমার ছোট ভাই আর
আমাকে ও জান্নাত কে নিয়েই আমার
পরিবার।পরিবারের
সে খুব যত্ন সহকারে করে থাকে।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই
জান্নাতের ডাক শুনতে পেলাম।আমি
দ্রুত তার কাছে যাই,,,,
:
>>কয়টা বাজে খেয়াল আছে
তোমার.?
>>এই তো ৮:১৬ বাজতে চলছে,,,
তাহলে এখন ও ফ্রেশ হও নি কেনো.?
অফিসে যাবে না.?
>>যাব তো,,,এক্ষুনি আসছি।
কথাটি বলে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আসলাম
এবং খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম।
রেডি হচ্ছি সেই মুহুর্তে জান্নাত
আসল।এসেই বলতে লাগল,,,
>>এই একটা কথা শুনো না প্লিজ,,,
>>হ্যা দ্রুত বলো,,সময় নাই আমার কাছে।
>>হ্যা, সর্বদা আমি কিছু বলতে গেলেই
সময় থাকে না তোমার কাছে।যাও
কিছু বলব না,,,(অভিমানের স্বরে)
>>আরে বলো তো,,এত কাহিনী করো
না।
>>কাহিনী মানে.? আমি কাহিনী
করি..?(অভিমানের
>>তা না হলে কি.? জানো যে আমার
অফিসে ৮:৩০ এ যেতে হয়,,এমনিতেই
লেট করেছি আজ,,তার উপর আবার তুমি
কথা বলবে ভালো কথা কিন্তু দ্রুত বলো
না,,,কাহিনী করছো।(চোখ রাঙিয়ে)
>>আচ্ছা থাক,,কথা বলব না।যাও তুমি।
>>আচ্ছা ঠিক আছে,,বলো আমি শুনছি।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে মেয়েটি হুট করেই
আমার গালে একটি চুমু দিলো।আমি ভয়
পেয়ে গেছিলাম।কেননা মেয়েটি
যেভাবে আমার কাছে আসছিলো
তাতে ভয় না পেয়ে থাকতে
পারিনি।যাই হোক,,চুমু দেয়ার পর
জান্নাত খুব হাসছিলো,,আমি আর কিছু
না বলেই বেরিয়ে পড়েছিলাম।
:
এটা জান্নাতের অভ্যাস।রোজ
সকালে অফিসে যাওয়ার সময় আর
রাতে খাবারের পর আমাকে চুমু
দিবেই।দিক ভালো কথা! কিন্তু হুট
করে..? মাঝে মাঝে ভয় পেয়ে যাই।
রাগ ও দেখাই খুব।কিন্তু কি আর করব! রাগ
করে যে থাকতে পারি না!মেয়েটা
আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে।আমিও
তাকে খুব ভালোবাসি।কিন্তু
ভালোবাসাটা তাকে সহজে বুঝতে
দেই না।সে আমাকে রোজ বলে 'আমি
আনরোমান্টিক ছেলে'। তাকে
ভালোবাসি না, ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিছু বলতেও পারি না,আবার সহ্য ও
করতে পারি না।প্রতিটা দিন সে
আমার গালে ধরে টানবে,আবার
কানে ধরে টানে, আবার নাকে ধরেও
টানে।এই কেমন মেয়ে রে বাবা.?।
মাঝে মাঝে তার পাগলামি দেখলে
বড্ড রাগ হয়।আবার মুহুর্তেই তার চোখে
পানি দেখলে আমার মন টা দুঃখে
ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে।
:
এই তো দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা,,,,রাত ১১
টা বেজে ১৫ মিনিট।আমি উপন্যাস
পড়ছি। জান্নাত "হিস্ট্রি অফ ইংলিশ
লিটেরেচার" বই টা পড়ছে।হটাৎ করেই
বই টা রেখে সে গেমস খেলতে লাগল।
ভীষণ রাগ হলো আমার।সামনে তার
ফাইনাল পরীক্ষা কিন্তু সে গেমস
খেলা নিয়ে ব্যস্ত।তবে হুম,আমিও
রোজ তার সাথে গেমস খেলি।গেমস
টার নাম "ক্যান্ডি ক্রাশ"
তাকে বলেছিলাম,কিছুদি
খেলে ভালো করে পড়তে।কিন্তু
আমার কথার কোনো মূল্য দিলো না।
খেলতেই থাকলো।
হঠাৎ করেই বলতে লাগলাম,,,
>>আচ্ছা জান্নাত শুনো তো একটা কথা,
>>হুম শুনছি বলো,,,
>>জানো আমাদের অফিসের একটা
ছেলে বিয়ে করেছে।বউ টা খুব সুন্দর,
একদম পিচ্চিদের মত লাগে দেখতে।
তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম,,,বাব
্বাহ,,কি কাজ পারে যে মেয়েটা
বলে বুঝাতে পারবো না।খুব পটু
কাজকর্মে সে।
:
কথাটি বলতে দেরী,,,সাথে সাথেই
সে গেমস খেলা বাদ দিয়ে আমাকে
বলতে লাগল,,,
>>অপরের বউয়ের এত গুণকীর্তন গাইছো
কেনো.? আমার মধ্যে কি কোনো
কিছুর কমতি আছে.? আমি কি কাজ
পারিনা.? আমি কি বুড়ি দেখতে.?
(রাগের স্বরে)
>>আহা,,আমি কি তোমাকে কিছু
বলেছি.? কারো সুনাম করাটা কি
আমার অপরাধ.?
>>হ্যা অপরাধ।তুমি অন্য মেয়ের কথা
আমার সাথে বলো কেনো.? শুধু
মেয়েটির কথা বলছো কেনো.?
ছেলেটির কথা বললে না কেনো.?
>>আরে এত প্রশ্ন করো কেনো.?(অবাক
হয়ে বলা)
>>করবো না কেনো.? তুমি ওই মেয়ের
এত সুনাম করলা কেনো.? 'বুঝেছি
আমাকে ভালোবাসো না।আমি তো
আগে থেকেই জানি তুমি আমাকে
পছন্দ করো নাই।তোমার বাবার পছন্দেই
বিয়ে করেছো আমাকে'।(কান্নাস
্বরে)
তার কথা শুনে আমি রীতিমত অবাক।
হায় আল্লাহ, মেয়ে তো কাদঁতে শুরু
করেছে।আমি তো আর কথা বাড়াই
নাই।ভয়ে চুপ করে ছিলাম।না জানি
কি করে বসে।
:
সে কাদঁছে।তাকে খুব আটকানোর
চেষ্টা করেছি।কিন্তু সে আমার কথা
শুনে নাই।শুধুই বলছে তাকে আমি
ভালোবাসি না।কথাটি বলে
বিছানা থেকে নেমে ছাদে চলে
যায়। আমি তার জন্যে এক ঘন্টা ধরে
ওয়েট করছি।সে আসছে না।তারপর
ভাবলাম,নাহ!মশার
রাগ শেষ হলে সে এমনি এমনি এসে
আমার পাশে ঘুমিয়ে পড়বে।আমি
জানি তাকে।রাগ হলেও সে আমার
সাথে বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে
পারে না।মশারী টানিয়ে শুয়ার ৫
মিনিট পর জান্নাত রুমে আসল।এসেই
বলতে লাগল,
>>আজ বুঝলাম,তুমি আমাকে
ভালোবাসো না সত্যি সত্যি ই।কাল
সুর্য উঠার আগেই দেখবে আমি নেই।
আমি চলে যাচ্ছি তোমার লাইফ
থেকে সারাজীবনের জন্যে।
কথাটি বলেই ব্যাগ গুছাচ্ছে।সে তার
বই,কাপড় সব কিছু গুছানোর পর বলছে,,
>>তোমার দেয়া সব কিছুই আমি রেখে
যাচ্ছি।
কথাটি বলার পর সে কাকে যেন ফোন
করলো,,বলতে লাগল,
>>হ্যালো ভাইয়া,তুই কই আছিস.? ওহ
আচ্ছা ঠিক আছে।
এত রাতে কাকে ফোন করলো সে,!
ফোন করার পর আবার বাহিরে চলে
গেলো।আমি ভয় পেয়েছিলাম
সেদিন,,ভেবেছিলা
সত্যি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে..?
কথাটি ভেবে বিছানা ছেড়ে
বাইরে আসি।এসে দেখি জান্নাত
বাইরে বসে আছে।তাকে রুমে আসতে
বলতেই সে বলে..'''কাল তোমার অফিস
আছে,তুমি গিয়ে ঘুমাও,যাও ""
আমি খুব জোর করেই তাকে নিয়ে
আসছিলাম রুমে।
:
রুমে এসে সে মেঝের এক কোণায় বসে
আছে।আর আমি বিছানায়।দুই জনেই চুপ।
একটু পর জান্নাত বলছে,,,
>>কাল তোমার অফিস আছে সো ঘুমায়
পড়ো।আর আমার জন্যে চিন্তা করবে
না।কাল থেকে তুমি রিলেক্স মুডে
থাকবে।কেননা তোমাকে
জ্বালানোর মত জান্নাত থাকবে না।
(কান্নাস্বরে)
>>তুমি কিন্তু বেশি বেশি করছো,,,,
(রাগের স্বরে)
>>তোমার কাছে আমার সব ই বেশি
বেশি মনে হয়।
>>চুপ,,প্রব্লেম
কথার জন্য আমাকে এভাবে শাস্তি
দিচ্ছো তুমি.?
>>কিছুনা,,ঘুমাও
>>না বলো আমাকে।
>>তুমি আরেক মেয়ের কথা বলো
কেনো.?তুমি জানো না যে আমার খুব
কষ্ট লাগে যখন তুমি অন্য কোনো
মেয়ের প্রশংসা করো!খুব কষ্ট লাগে,
খুব।
>>আচ্ছা আরর বলবো না।এখন আসো
ঘুমাতে।রাত অনেক হয়েছে।
>>না আমি আসব না।
>>আসো বলছি(রাগে)
>>আচ্ছা আসছি …
:
বিছানায় এসেই সে আরো নানান
কথা বলতে লাগল।একটু পর রাগ শেষ হলে
বলতে লাগল,,
>>শুনো,ঘুমিয়ে গেলে.?
>>না,বলো
>>সরি,আমাকে মাফ করে দাও প্লিজ।
আমি জানি তুমি খুব কষ্ট পেয়েছো
আমার কারণে।
>>না, আমি কষ্ট পাইনি।তুমি এখন ঘুমাও
তো।
দুই জনেই চুপ।আবার একটু পর বলতে লাগল,
>>আচ্ছা সত্যি করে বলো না,আমাকে
মন থেকে মাফ করেছো.?
>>আরে হ্যা,,সত্যি,এখন
হুট করে আমার পায়ের কাছে এসে সে
পায়ে ধরে কাঁদতে লাগল,আর বলতে
লাগল,
>>আমাকে মন থেকে মাফ করো প্লিজ,,
(কান্নাস্বরে)
>>আরে পায়ে ধরছো কেনো.?
>>কেনো পায়ে ধরেছি তো কি
হয়েছে.? আমাকে মাফ করো প্লিজ,,
>>উফ,চুপ করো ঘুমাও।দেখো আমার
মাথা ব্যাথা করছে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলছে,,
>>ঘুমিয়ে গেলে.?
>>আরে এত কথা বলো কেনো.? আমার
মাথা ঘুরাচ্ছে।ঘুমাতে
>>আচ্ছা তাহলে আমি মাথায় হাত
বুলিয়ে দেই,তুমি ঘুমাও।
>>আচ্ছা বাবা।যা করে শান্তি পাও
তাই করো।তবুও কথা বলো না আর
প্লিজ,,,,
>>আচ্ছা,,,(হাসি
:
সেদিনের পর হতে তার দুষ্টুমি আরো
বেড়ে গেছে।তবে হুম আমাকে খুব
সম্মান করে সে,আর ভালো ও বাসে খুব।
আজ দুদিন হলো আমার মিষ্টি বউ টা
নেই।বাবার বাড়ি গিয়েছে
বেড়াতে।সে নেই তাই আমার গাল
কেউ টানে না,আমার কান ও কেউ
টানে না...!!ভীষণ মিস করি তাকে
প্রতিটা মুহুর্তে,,,ভীষণ
ছোট ছোট দুষ্টুমি গুলোকে,,,,!বাবা
বাড়ি থেকেও সে তার শাসন কমায়
নি।রোজ রোজ ফোন করে খেয়েছি
কি না,বাড়ি ফিরেছি কি না,,সব
কিছুর জন্য জবাব দিতে হয় তাকে।
জীবনে কাউকে এতটা আপন করে
নিতে পারবো ভাবিনি।সত্যি সে
আমার জীবনে জ্বলন্ত আলোর
প্রদীপের মত।তাকে ছাড়া আমি
আমার জীবন টা একা চালানোর
কল্পনাও করতে পারি না।
এই যা,,,! বলতে বলতে তার ফোন।সেই
কখন থেকে অপেক্ষা করছিলাম
পাগলীটার ফোনের জন্য,,,।আচ্ছা আজ
আসি,,ফোন টা রিসিভ করতে হবে,,,,!!
No comments:
Post a Comment