-আমাকে বলছেন?
-হ্যা ভাইয়া।
-বলেন
-ভাইয়া ওয়েদারটা অনেক সুন্দর। এই ওয়েদারে ছবি তুলতে খুব ইচ্ছে করছে।যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমার এই ফোনটা দিয়ে আমার কিছু ছবি তুলে দিবেন প্লিজ?
-ও এই কথা,আচ্ছা দিচ্ছি।এই তোমার সাথে কিছুক্ষন পর কথা বলছি।
'
-থ্যান্ক ইউ ভাইয়া।ছবি গুলো অনেক সুন্দর হইছে।
-ওয়েলকাম। ভাল থাকবেন।
'
রোদেলার সাথে ফোনে কথা বলছিলাম আর তখনি মেয়েটা এসে রিকুয়েস্ট করল ছবি তুলে দেওয়ার জন্য।মেয়েটি কে বিদায় দিয়ে আবার কল দিলাম রোদেলা কে....
-হ্যালো।
-হুম বলো
-কি পিক তুলে দিয়েছ মেয়েটা কে?
-হুম,মেয়েটা খুব রিকুয়েস্ট করল তাই দিলাম।
-ও তাই তো,আমার তো মনেই ছিল না,তুমি তো আবার হাত ধরলে না বলতে পার না।
-মানে কি?কি বলো এসব তুমি?
-কেন শুনতে খুব খারাপ লাগছে তাই না।যাও খারাপ লাগলে আবার গিয়ে পিক তোলো মেয়েটার।
-রোদেলা,সব কিছুর একটা লিমিট আছে।এই ছোট ব্যাপার নিয়ে তুমি এত রাগ করছ কেন?
-হ্যা,তোমার কাছে তো এটা খুবই নরমাল ব্যাপার।
-তুমি কিন্ত মিসবিহেভ করছ আমার সাথে।
-করছি বেশ করছি।আরও করব।যাও আর কোন কোন মেয়ের পিক তোলা বাকি আছে,তাদের কাছে যাও,গিয়ে তাদের পিক তুলে দাও।টুট..টুট..ট
'
'
এত পেইন ভাল লাগেনা।এই জন্যই বলে,প্রেমের থেকে বিয়ে ভাল আর বিয়ে করার থেকে সিংগেল থাকা আরো ভাল।কিন্তু এই ভাল থাকাটা মনে হয় আর হবেনা।নিজের কোন পছন্দ নাই তাই মায়ের পছন্দ করা মেয়েকেই বিয়ে করতে যাচ্ছি।আর সেই মেয়েটি হচ্ছে রোদেলা।আম্মুর বান্ধবির মেয়ে।বিবিএ পড়ছে।আর আমি আকাশ।নাহিদ হাসান আকাশ।
'
ছেলেদের জীবনের ধাপ হল তিন টা।প্রথম ধাপ,পড়াশোনা। দ্বিতীয় ধাপ,চাকুরী।আর তৃতীয় এবং সর্বশেষ ধাপ হল বিয়ে।আর বিয়ের পরে যা হবে তা স্বাভাবিক ভাবে প্রকৃতির নিয়ম অনুসারেই হবে।আমার দুইটা ধাপ কম্পিলিট। এখন তৃতীয় ধাপের অপেক্ষায় আছি।হ্যা ঠিক ধরেছেন,বিয়ে। কিছুদিন আগেই রোদেলা আমার বাগদত্তা হয়ে গেছে।সামনের সপ্তাহে বিয়ে।কোথায় আমার সাথে রোমান্টিক মুডে স্বপ্ন বুনবে তা না করে রাগ করে বসে আছে।এই মেয়েরা ছোট-খাট ব্যাপার নিয়ে কেন এত রাগ করে বুঝিনা।
'
'
বাসায় ভিতরে ঢুকেই দেখলাম সারিকা পিছনে দুই হাত দিয়ে পায়চারি করছে।ওর ভাব দেখে মনে হচ্ছে খুব চিন্তিত।
'
-এই যে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, এত চিন্তা কিসের।
আমাকে দেখেই দৌড় দিয়ে আমার কাছে এসে আমার হাত ধরে আড়ালে নিয়ে গেল।
-তোমালে নিয়েই তো আমাল যত টিন্টা।
-কেন আমি আবার কি করলাম।
-তুমি টোঠ আম্মুলে টি বলঠ?(রোদেলা কে ছোট আম্মু ডাকে)
-কেন,কি হইছে?
-টোঠ আম্মু,আপুনি কে টল ডিয়ে টোমাল নামে নানিছ করছে।আর আপুনি টি বলঠে ডানো
-কি?
-বলঠে,তোমালে আট্টাইয়া মাফিল ডিবে।
'
ছোট বেলায় যখন বেশি দুষ্টুমি করতাম তখন মা আমাকে দরজা আটকিয়ে পিটুনি দিত।যাতে ভাইয়া বা আব্বু কেও বাধা দিতে না পারে। আর এটাই হলো আটকিয়ে মাহফিল।জানিনা কপালে কি আছে।সারিকা কে কোলে নিয়ে আল্লাহ্র নাম নিয়ে রুমে প্রবেশ করলাম।
'
'
'
আমি এখন আমার রুমের বাইরে দাড়িয়ে আছি।আর রুমের ভিতরে বসে আছে আমার মায়ের ছেলের বউ।ঠিক বুঝতে পেরেছেন,আমার বউ।আজ আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।এই এক সপ্তাহের ভিতর রোদেলা কে অনেকবার কল দিয়েছি,ম্যাসেজে
'
'
'
"এহেম,এহেম আসতে পারি?"
'
রুমে প্রবেশ করা মাত্র রোদেলা খাট থেকে নেমে এসে আমাকে সালাম করল এবং বলল, কোন মেয়ের ঘরে ঢুকতে হলে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হয় এটা কি আপনি জানেন না।বুঝলাম ও এখনও আমার উপর রেগে আছে তাই বাইরে গিয়ে আবার দরজার কাছে এসে বললাম,"এহেম,এহে
-হুম,আসেন।
-তোমার বিছানায় কি একটু বসতে পারি?
-হুম,বসেন।
-এখনও আমার উপর রেগে আছ?
-রাগ তার সাথেই করা যায় যার সাথে রাগ করার অধিকার আছে।
রোদেলা এখনও ঘোমটা দিয়ে বসে আছে।আমি আসলেই বোকা।কোথায় ঘোমটা তুলে দিয়ে হবু বউয়ের মুখ দর্শন করব, তা না করে কি করছি।
হাত দিয়ে ওর ঘোমটা টা নামিয়ে দিলাম।রোদেলা কে আজ খুবই সুন্দর লাগছে।এই সুন্দরের বর্ণনা আমি দিতে পারব না।শুধু জানি সুন্দর লাগছে। কিন্ত মুখে বিষন্নতার ছাপ স্পষ্ট।রোদেলার ডান হাত টা আমার হাতে বন্দি করে হাতে একটা ভালবাসার পরশ একে দিলাম।ও খানিকটা কেপে উঠল।
-এত বার সরি বললাম, ভুল স্বীকার করলাম তারপর ও তোমার রাগ ভাঙ্গাতে পারলাম না।
-বাঙালি নারী এক দিক থেকে বড়ই স্বার্থপর।
-কোন দিক থেকে?
-এরা সব কিছুর ভাগ দিতে রাজি আছে,কিন্ত স্বামীর ভাগ দিতে রাজি না।এই দিক থেকে এরা স্বার্থপর।
-কেন তোমার স্বামীর উপর কি কেও ভাগ বসাইছে।
-বসাইছেই তো,দুনিয়াতে আর কেউ নেই যে তোমাকেই ছবি তুলে দিতে হবে।আর তুমিও বলা মাত্র ঢ্যাং ঢ্যাং করে গেছ ছবি তুলতে।
-সরি বাবুনী,ভুল হয়ে গেছে,আর কখনও এমন হবে না।
-বাবুনী? বাবুনী কি?
-কেন তোমারা মেয়েরাই তো ছেলেদের বাবু ডাক।আর বাবুর স্ত্রী লিঙ্গ তো বাবুনী।
-কিন্ত আমি তো তোমাকে বাবু বলে ডাকব না(মুচকি হেসে)
-তাহলে কি ডাকবে?
-বল্টুর বাপ ডাকব।হি হি হি।
-এস ইওর খায়েশ।
-হুম।অনেক রাত হইছে।এখন ঘুমাতে চল।
-হুম।এই আমি কিন্ত ডান পাশে ঘুমাব।
-ডান পাশে কেন?
-ডান দিকে কাত হয়ে ঘুমানো সুন্নত এবং এতে হার্ট ভাল থাকে। আর আমার হার্ট হল তুমি।তাই ডান দিকে কাত হয়ে তোমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমালে আমার হার্ট আরও ভাল থাকবে।
-আমার হার্ট ও তো তুমি।তাহলে আমিও এখন থেকে ডান পাশে ঘুমাব।
-আচ্ছা এখন থেকে একদিন তুমি ডান পাশে ঘুমাবে,একদিন আমি ঘুমাব।
-পাক্কা।
-তাহলে আজ কে ডান পাশে ঘুমাবে?
-কে আবার আমি।বিকজ লেডিস ফার্স্ট। হি হি হি।
-ওকে,মাই হার্ট।
'
'
'
No comments:
Post a Comment