Sunday, November 13, 2016

কিছুটা বিশ্বাস কিছুটা অবিশ্বাস

-এই শুনো
-কি??
-কালকে তোমাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাবো ।
তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো ।
তুমি জীবনেও ভুলবা না ।
-মানে কি ?
-মানে কিছু না ।
আমার বহুদিনের
একটা ইচ্ছা কালকে পুরন হবে।
পিয়াসের রহস্যে ঘেরা কথা সানজিদার কাছে বোধগম্য হল না।
আসলে পিয়াস কি বলতে চাইছে?
রুমে এসে সানজিদা ওর
রুমমেটের কাছে বলতেই,
ওর রুমমেট মৌ হায় হায় করে উঠল!
মৌ বলল
-তুই এখনও বুঝতে পারছিস না?
-কি বুঝতে পারবো?
-আরে এই যে পিয়াস ওর আসল
রূপ দেখাতে শুরু করেছে।
কালকে তোকে ওদের
বাসায় নিয়ে যাবে।
তারপর ....
-তারপর?
-সানজিদা তুই বোকাই রয়ে গেলি রে!
লিটনের ফ্ল্যাটের গল্প শুনিস নাই।
এখানে পার্থক্য হলো পিয়াসের ফ্ল্যাট !
আর কিছু না।
সানজিদার কথাটা মানতে কষ্ট হল।
নাহ পিয়াস এমন করতে পারে না।
ও এমন ছেলে না ।
সানজিদা নিজের মাঝেই কেমন একটা দ্বিধায় পরে গেল।
কি করবে?
কি করা উচিৎ ওর?
যাবে?
যদি সত্যি এমন কিছু করে?
কিন্তু পিয়াসের উপর
এখনও তার বিশ্বাস হারাতে ইচ্ছা হচ্ছে না।
শেষমেষ রাজি হয়ে গেল।
অন্তত এই টুকু বিশ্বাস
আছে যে পিয়াস জোর করে
এমন কিছু করবে না
যাতে ওর সম্মতি নাই।
সকাল বেলা থেকে তাই সানজিদার
মনটা বিষন্ন হয়ে আছে।
কিছু ভাল লাগছে না।
পিয়াসের সাথে যেতে ইচ্ছা করছে না।
আবার পিয়াসকে মানাও
করতে পারছে না।
সিএনজি থেকে যখন সানজিদা
নামলো তখন আর একবার মনের
ভিতর কু-ভয় ডেকে উঠলো ।
-কি হল ?
পিয়াসের হাস্যজ্জল মুখ
দেখে একটু শান্তি এলো মনে।
মনে হল নাহহহ ।
এই হাসির পেছনের মানুষটি কখনও
কোন অন্যায়
করতে পারে না ওর সাথে।
পারবে না।
সানজিদা মনে মনে আবার
বলল প্লিজ পিয়াস এমন
কিছু করো না যাতে আমার
চোখে তুমি নিচে নেমে যাও!
প্লিজ!
একটা দরজার সামনে এসে পিয়াস থামলো।
বলল
-এটা আমাদের বাসা।
-তাই?
একটু হাসি আনার চেষ্টা করলো ।
না জানি কি সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে
ওর জন্য।
পিয়াস কলিংবেল চাপ দিল।
পিয়াসের দিকে তাকিয়ে
দেখলো সানজিদা
পিয়াস মিটমিট হাসছে ।
কি নিস্পাপ হাসি !
হঠাতই দরজা খুলে এক মহিলা
বের হয়ে এলো।
কেউ বলে দিল না কিন্তু সানজিদার
বুঝতে একটুও
কষ্ট হল না ইনিই পিয়াসের মা!
পিয়াসের মা হাসি মুখে এগিয়ে এলো।
তারপর পিয়াসের দিকে তাকিয়ে বলল
- যাক এতো দিনে একটা কাজ করেছিস?
তারপর
সানজিদার দিকে তাকিয়ে বলল -
আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছিল না
যে আমার ছেলের এত
সুন্দর একটা গার্লফ্রেন্ড আছে।
তুমি তো মা তোমার ছবির
থেকেও বেশি সুন্দর!
সানজিদা খুব লজ্জা পেলো!
এখন ওর কি করা উচিৎ?
কোন কিছু না বুঝে সানজিদা পিয়াসের
মাকে সালাম করতে
গেল কিন্তু মাঝ পথেই
তিনি ওকে ধরে বুকে জড়িয়ে ধরলেন!
এক অজানা ভাল লাগা সানজিদার সারা মন জুড়ে প্রবাহিত হল।
পিয়াস বলল
-মা ! আব্বা কই?
-তোর আব্বা একটু বাইরে গেছে !
এখুনি চলে আসবে !
পিয়াস কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই পিয়াসের
ছোট বোন মীম ঘরে ঢুকলো !
সানজিদাকে দেখে তো হইচই বাধিয়ে দিল!
একদম সরাসরি সবার
সামনে ভাবি বলে ডাকা শুরু।
সানজিদা এমনিতেই লজ্জা পাচ্ছিল।
আরও বেশি করে লজ্জা পেতে লাগলো।
মীম নিজে ওদের সবার ফ্ল্যাট ঘুরে দেখালো!
নিজের ঘরে নিয়ে গেল।
এমন একটা ভাব যেন সানজিদা পিয়াসের না মীমের বন্ধু!
সানজিদার খুব ভাল লাগছিল।
খুব বেশি।
আজ নাকি সব কিছু ওর জন্য করা হয়েছে।
কদিন থেকেই সানজিদার আসার
কথা ওরা আলোচনা করছিল। বাড়ীর কেউ আসলে ঠিক
বিশ্বাসই করে নাই যে পিয়াসের
একটা গার্লফ্রেন্ড থাকতে পারে।
আজকে ওদের
বাবা মা দুজনেই অফিস
থেকে ছুটি নিয়েছে ওর আসার জন্য।
মীম ও স্কুলে যায় নি।
বাড়ীতে স্পেশাল রান্না হচ্ছে সানজিদারর আসার জন্য!
বাড়ীর সবাই খুশি!
সানজিদাও খুশি!
কিন্তু মনের ভিতর একটা অপরাধ
বোধকাজ করছে।
ইস কি ভুলই না বুঝেছে সে পিয়াসকে!
এখনই ওর কাছে ক্ষমা চাওয়া দরকার।
-মীম !
-বলো ভাবী !
-আমি একটু তোমার ভাইয়ার ঘরে যাই !
ওর সাথে কয়টা কথা বলতাম।
-ও আচ্ছা ! এখন থেকেই এতো কিছু !!
একটুও সহ্য হচ্ছে না??
-না !! সেটা না !
সানজিদা হাসলো !
সানজিদা পিয়াসের ঘরে গিয়ে দেখে ও পিসিতে গেম খেলছে !
-পিয়াস !
পিয়াস ঘুরে দাড়ালো !
-বলো!
সানজিদা দরজাটা একটু
ঠেলে দিয়ে পিয়াসকে জড়িয়ে ধরলো!
জীবনের এই প্রথম বারের মতো।
মনের ভিতর কোন সংকোচ নাই!
কিছুক্ষনের ভিতরেই একটু
ফোঁপানীর শব্দ শুনতে পেল পিয়াস!
-আরে কি হল?
কাঁদছো কেন?
-আমি খুব খারাপ ! খুব !
তুমি আমাকে মাফ করে দাও!
- আরে আশ্চার্য! কি হয়েছে?
বলবা তো?
সানজিদাকে শান্ত
করতে পিয়াসের আরো
কিছু সময় লাগলো !
আরো কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই মীম ঘরে ঢুকে পড়লো !
দুজন কে একসাথে দেখে বলল
-আচ্ছা !!
এই ব্যাপার ! ভাইয়া !
তলে তলে এতো দুর ..
-এই যা ভাগ !!
-যাবো না ? আম্মাকে বলে দিবো !
পিয়াস বলল
-যা বল গিয়ে !
.
সানজিদা পিয়াসকে থামিয়ে দিয়ে বলল
-কি বলছো?
পিয়াস- ও এমন বলবে কেন?
সানজিদা-মীম তুমি বলবা বল?
মীম-বলব না !
তবে একটা শর্ত আছে!
সানজিদা হেসে বলল
-কি শর্ত বল!
মীম-এখানে বলবো না।
তুমি এসো আমার সাথে

No comments:

Post a Comment