Wednesday, November 16, 2016

হঠাৎ প্রেম

মেয়েটার সাথে দেখা হয় রাস্তায়। হঠাৎ
পিছন থেকে এসে বলল...
-এখানে চটপটির দোকান কোনটা??
আমি মেয়েটাকে বললাম...
-ডানে গিয়ে বামে মোড় নিবেন। তারপর
সোজা গিয়ে তিনটা রাস্তা দেখবেন।
আপনি বাম পাশের রাস্তা ধরে একটু
এগিয়ে যাবেন। তারপর নাক বরাবর একটা
দোকান দেখবেন। সেখানে লিখা আছে
কিরণমালা চটপটি। ব্রেকেটে লিখা
আছে (পার্সেল করা হয়।)
-হইছে হইছে। আপনি আমাকে এভাবে না
বলে একটু এগিয়ে দিয়ে আসুন তো।
আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকালাম
মেয়েটার দিকে। মেয়েটা আমার
তাকানো দেখে বলল...
-সরি। আপনি মনে হয় যেতে পারবেন না।
সরি।আমিই যেতে পারবো।
বুঝলাম মেয়েটা লজ্জিত হয়েছে।
মাথাটা নিচু করে মেয়েটা গুনগুন করতে
করতে আর হাত নাড়তে নাড়তে হাঁটতে শুরু
করলো। মেয়েটা আমার বলা কথা গুলো
স্মরণ করতে চেষ্টা করছে। আমি পিছন
থেকে মেয়েটাকে ডেকে বললাম...
-শুনুন।
-জ্বী।
-দাঁড়ান। আমি যাবো।
বলেই হাটা দিলাম।
আমি মেয়েটাকে চটপটি দোকানটা
পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসলাম। এই মুহুর্তে
দাঁড়িয়ে আছি পাখির মোড়ের
কিরণমালা চটপটি দোকানের সামনে।
দোকানটার নাম যদি কিরণমালা
নাটকের পরিচালক দেখতে পারতো
তাহলে নিশ্চয়ই ঐ নাটকে দোকানটার
মালিককে একটা সুযোগ দিতো। হতে
পারে সেটা রাক্ষসীদের খাবার তৈরীর
চরিত্র। কিন্তু আমার মস্তিষ্ক বার বার
জানতে চাচ্ছে রাক্ষসীরা কি চটপটি
খায়?? যদি কখনো কোনো রাক্ষসীর
সাথে দেখা হয় তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ
প্রশ্নটা করবো।
মেয়েটা কিরণমালা চটপটি দোকানটা
থেকে চলে আসছে কিন্তু কিভাবে যেন
বার বার পিছন ফিরে তাকাচ্ছে। আমি
কেন জানি গোয়েন্দার মতো মেয়েটার
পিছন পিছন গেলাম।। তারপর দেখলাম
মেয়েটা একটু দূরে গিয়ে আবারো
চটপটির দোকানটার দিকে তাকালো।
মুখে একরকম তৃপ্তির হাসি। তারপর আমি
পিছন থেকে বললাম...
-বার বার কেন তাকাচ্ছেন ওদিকে??
কোনো সমস্যা?
মেয়েটা চমকে গেল আমার কথা শুনে।
তারপর বলল...
-আপনি যাননি এখনো??
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম..
-না। এখানেই ছিলাম।
-না আসলে একটা লোক বার বার আমার
দিকে তাকাচ্ছিলো দোকানটাতে।
এখানে আসার পরও লোকটা তাকিয়ে
আছে।
-কোন লোকটা??
-ঐ যে গোফওয়ালা লোকটা।
আমি ভাল করে খেয়াল করে দেখলাম
লোকটা আমার পরিচিত একজন। আমার
মামার থানার হাবিলদার সাহেব।
মামার থানা বলাটা ভুল হবে। থানা
সরকারি কার্যালয়। মামা সেখানকার
চাকর মাত্র। চাকর বলাটা ভুল নয়। কারণ
যারা চাকরী করে তারা চাকরই। তবে
মামা উচ্চপদস্থ চাকর। মানে ওসি
সাহেব।
আমি মেয়েটাকে আশ্বস্ত করে চলে
যেতে বললাম। হাবিলদার মেয়েটার
দিকে কেন তাকাচ্ছিলো সেটা জানি।
হাবিলদার আমাকে ফলো করছে
আজকাল। আমার সাথে মেয়েটাকে
দেখেই মেয়েটার দিকে এভাবে
তাকাচ্ছিলো। আর এসব কিছুর মূলহোতা
হলেন আমার মামা।
.
একলা একলা হাটছিলাম রাস্তায়। হঠাৎ
হাবিলদার সাহেব পুলিশের গাড়িতে
চড়ে আমার সামনে এসে থামালেন।
আমাকে বলল...
-পিছনে উঠে বসো। থানায় কাজ আছে।
-কি কাজ??
-সেখানে গেলেই দেখতে পারবে। উঠো।
আমি চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসলাম।
আমার বিপরীত পাশে একটা মহিলা
পুলিশ বসে আছে আর সাথে একটা মেয়ে।
মেয়েটার মুখ দেখতে পারছি না।
মেয়েটা লম্বা ঘোমটা দিয়ে আছে।
কিন্তু একটা কান্নার আওয়াজ আসছে।
যেটাকে ছিঁচকাঁদুনে বলা হয়। আমি
মহিলা পুলিশের দিকে তাকিয়ে ইশারায়
বললাম...
-কিসের আসামী??
উনি বললেন...
-মাদকদ্রব্যের সাথে ধরেছি।
আমি ওনাকে কথাটা ইশারায় জিজ্ঞাস
করলেও উনি কিন্তু ইশারায় উত্তর দেননি।
মেয়েটাকে শুনিয়েই বলল। আর সেই
কথাটা শুনে মেয়েটা লম্বা ঘোমটা তুলে
কান্না করতে করতে বলল...
-সব মিথ্যা কথা। আমার কাছে এসব কিছু
ছিলো না। ভার্সিটি যাওয়ার পথ থেকে
আমাকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে।
আমি মেয়েটার কথাটার থেকে মেয়েটার
মুখ দেখে বেশি আশ্চর্য হয়েছি। আমি
মনে করতে পারছি না কোথায় দেখেছি
ওনাকে। মনে পরছে না। হঠাৎ মনে হলো
উনি সেই কিরণমালা চটপটির কাস্টমার।
আমি মেয়েটাকে বললাম...
-আপনি সেই কিরণমালা না??
মেয়েটা কান্না থামিয়ে ধমক দিয়ে
বলল...
-আমি ইলমা।
-ওহ। সরি সরি।আপনার সাথেই তো সেদিন
দেখা হয়েছিলো তাই না?
বলেই হাসতে শুরু করলাম। এই মুহুর্তে
হাসাটা ঠিক হয়েছে কি না জানি না।
তবে মেয়েটা যে আমার হাসিতে বিরক্ত
হয়েছে সেটা বুঝতে পারছি। তবে
আমাদের কার্যকলাপ বেশ মনোযোগ
দিয়ে মহিলা পুলিশটা দেখছে। উনার
কাছে আমাদের ব্যাপারটা উপভোগ্য
নাকি বিরক্তিকর সেটা বুঝে উঠতে
পারছি না। এবার ইলমা কান্না করতে
করতে আমাকে বলল...
-আপনি এখানে কেন??
-আমি তো এটা দিয়ে প্রায়ই যাওয়া
আসা করি। কান্না করবেন না। আপনার
কিছু হবে না।
-আমি আমার খালার বাসায় আসছি
কিছুদিন হলো।এখানে থেকে
ভার্সিটিতে পড়ি। কিছু চিনিনা
জানিনা। যদি ওনাদের কানে যায় পুলিশ
আমাকে ধরে এনেছে তাহলে আমি
কিভাবে মুখ দেখাবো? আমার মরণ ছাড়া
আর কোনো উপায় থাকবেনা।
বলেই মেয়েটার কান্না বেড়ে গেলো।
আমি বললাম...
-শুনুন। আপনার কোনো সমস্যা হবে না।
আমি আছি তো।
-কি করবেন আপনি?? কি করতে পারবেন??
-আপনি চুপ করেন তাহলে সব ঠিক করবো।
.
মামা আমার সামনে বসে আছে। আমি
মামাকে বললাম

No comments:

Post a Comment