ঘুমচ্ছিলাম....
হঠাৎ ফোনের শব্দে এত্ত সাধের ঘুম টা কেটে গেল!
দেখি রাহাদ কল দিছে।রাহাদ হলো আমার সব থেকে কাছের বন্ধু।
কল ধরে বললাম:
-কিরে এখন কল দিছোস ক্যান????হালা কাচ্চা ঘুম টা ভাইঙ্গা দিলি!
-হুই হালা....এমনি এমনি কল দিছি নাকি!কারন তো একটা আছেই!
-কি হে বোল তারাতারি....ঘুম
-তুই ঘুমা....তোর ১২ টা বাজানোর জন্য নুসরাত আসতেছে!
-কি!!!!!!!!!
-হুম।ঠিকই বলতেছি।দেখে মনে হলো অনেক রাইগা আছে তোর উপ্রে!
-বলিস কি!কোথায় আছে এখন???
-এইতো আমাদের হল এর দিকে যাইতে দেখলাম।
-ওরে ভাই কস কি!
-হ রে ভাই ঠিকইই বলতেছি।
-আচ্ছা তুই ফোন রাখ।আমি দেখতেছি কী করা যায়!
টুট টুট টুট..
নুসরাত হলো আমার ইয়ে।
মানে আমার জানের জান!পরানের পরান!
কিন্তু কাল রাতে ঝগড়া হইছে!
সেই এক ঝগড়া!
বলতে গেলে রোমান রিংস আর জন সিনহা এর ফাইটিং এর মতন চলছে!
আমি তো রাগ কইরা ফোনই ধরিনি আর।
কিন্তু এখন তো ও আমার হলের সামনে আসতেছে!
হঠাৎ একটা কাঁচ ভাঙ্গার শব্দ!
এইডা কি!!ইট মারলো আবার কেডা???
নিচে তাকাইয়া দেখি আমার জান্টুস লাল টমেটোর মতন লাল হইয়া ফুইলা রইছে।
কিছু না বলেই আসলাম বাইরে।
নিচে নামার সাথে সাথে কলার ধরে কিল ঘুষি চর থাপ্পড় সহ আপগ্রেডেড কিছু মিষ্টি কথা!
আহা শুনেই প্রাণ জুরাইয়া যাইতাছে এক্কেবারে।
আমি কইলাম:
- হইছে।আমারে তো শেষ করে ফেললা!
-তোরে শেষ নাহ,নিঃশেষ করে ফেলবো!!
-হায়। রে আমার জান্টুস, আমারে শেষ থুক্কু নিঃশেষ করে ফেললে কারে বিয়ে করবে?
একি!!!!!
আমার কথা শুইনা দেখি কান্না শুরু কইরা দিলো!অবশ্য মেয়েদের ইনোসেন্ট কান্না দেখতে বেশ ভালই লাগে।কারণ তখন তাদের কে বেশ মায়াবী লাগে।কিন্তু আমি তো আর আমার জান টারে কান্তে দিতে পারি না তাই কান্না থামানোর চেষ্টা করতে লাগলাম।
তবুও সে কেঁদেই চলেছে।
এক পর্যায়ে হঠাৎ বলে উঠল:
-আমার বিয়ে ঠিক করছে।
-কি!কবে????কখন?
-আমি কাল কে বলতেই চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি তো আমার সাথে মজা করা শুরু করে দিলে।
-না।এটা হতে পারে না।তুমি বাড়িতে বলো যে তোমার বিয়ে তে কোন মত নেই।
-আমি বলেছি।আমার বাবা মেনেছে,কিন্তু..
-কিন্তু কি????
-কিন্তু আমার মা রাজি হচ্ছে না।সে আমার বিয়ে দিবেই।
-এটা কেমন কথা!তোমার বিয়ে কিন্তু তোমার অমতেই বিয়ে!
এ কথা বলতেই দেখি আরও বেশই জোড়ে কান্না শুরু করে দিলো।আমি কোন উপায় না দেখে ওকে আমারর বুকে টেনে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করে গেলাম।দেখি আরও বেশি জোড়ে কাঁদছে।কিছুক্ষণ
আমি ব্যাগের কথা বলতে যাব ঠিক সে সময় ও বলে উঠল যে ও নাকি বাড়ি থেকে চলে এসেছে!
আমাকে বিয়ে না করে নাকি সে কোথাও যাবে না।আমি বোঝানোর চেষ্টা করলে বলে যে আমি মরে যাব তাও আজ কে বিয়ে না করে যাব না!
কে শোনে কার কথা।শেষে কোন উপায় না দেখে রাহাদ আর গালিব রে ডাকলাম।আমি রাহাদ আর গালিব এই ৩ জন সেই ছোট্ট বেলা থেকে বন্ধু।বলতে গেলে একে অপরের প্রাণ।
ওদের দু জন কে সব কিছু খুলে বললাম।বলার পর ওরা তো হেঁসেই ফেললো।
আমার যা রাগ হচ্ছিলো।
মনে হচ্ছিলো ওদের দাঁত এক থাপ্পড়ে খুইলা ফেলায়।
রাহাদ তখন কইলো:
-দোস্ত এই ব্যাপার!তুই টেনসন করিস না।
-আরে আমরা থাকতে ওর কোন টেনসন নাইক্কা!(গালিব)
-আরে তোরা ফাজলামি করস????
দেখ নুসরাতের কি অবস্থা হইছে।
-আহারে এক্ষনি এত্ত দরদ!(রাহাদ)
-মাম্মা জাইগান্টিক দরদ (গালিব)
- হাহাহা ঠিকই বলছোস!(রাহাদ)
- ওই তোরা থামবি????
নাকি আমি কিলাইয়া তোদের ভূত বাইর করবো?????(আমি)
-ওই হইছে।এবার চল আমার সাথে।(রাহাদ)
-কোথায়????(আমি)
-কোথায় আবার! কাজি অফিস!(গালিব)
-ওই গাল্লু তোর মাথা ঠিক আছে?(আমি)
-আমাদের দুই জনের মাথায় ঠিক আছে।(রাহাদ)
এই কথা বলে আমাদের দুই জন কে নিয়ে গেলো কাজী অফিসে।
ওখানে দেখি নিলয় আর স্বনীল দাড়ায়ে আছে।
কি আর করুম....
শেষ মেশ বিয়ে কইরাই ফেললাম!
কিন্তু বিয়ে ওরে কোথায় রাখবো????
ভার্সিটি শেষ হইতে এখনও ৩ মাস বাকি!
সবাই মিলে জোর করেই আমারে আমার বাড়িতে নিয়ে গেল।
আমার যে বাপ!
হায় হায় আজ আমার বিয়ের দিন আমার মরনের দিন যেন না হয় সএএ কথা ভাবতেছি।
ভাবতে ভাবতে বাড়িতে চলে আসলাম।
দেখি দরজা খুলতে না খুলতেই বাবা আমারে বুকে টাইনা নিলো!
এইডা কি দেখতেছি আমি!!!!!!!!
কল্পনা নাকি সত্যি!
তাই রাহাদের গায়ে একটা চিমটি কাটলাম!
দেখি ও লাফাইয়া উঠছে।
নাহ তাহলে তোহ সত্যি সত্যিই হইতাছে!
দেখি আমার জন্য আম্মু আর কয়েকজন বন্ধু মিলে আমার ইয়ে মানে বাসর রাতের ঘর সাজাইতেছে!!!
কিন্তু......
হঠাৎ বিপদ!!!!
নুসরাতের মা আর বাবা আসতেছে!
আমার তোহ গলার ভিতরে শুকাইয়া বাইরে ঘামতেছে!
দেখি হাতে মিষ্টি।
মানে কী?????
সব কিছু এলোমেলো লাগে ক্যান।
দেখি আইসা সুন্দর কইরা আমার বাপের সাথে কথা কইতাছে।
তখন আমার বাপ আমারে ডাক দিলো আর যা বলল তা তো শুইনা আমার মাথার উপ্রে আকাশ ভাইঙ্গা পড়ছে।
-ওই বলদ,বিয়ে তো আমরাই ঠিক করছিলাম।
পলায়ে বিয়ে করসিছ কেন???(বাবা)
-ইয়ে মানে বাবা....(আমি)
-মানে মানে না করে আমারে বল।(বাবা)
-মানে আমি তো জানতাম না যে নুসরাতের বিয়ে আমার সাথে তাই জন্য...(আমি)
আমার কথা শুইনা সবাই অট্ট হাসি দিলো!
অবশেষে বাসর রাত:
-উহুম।(একটু কেশে)
-হুম বলুন!(নুসরাত)
-কিছু বলবো।
-হুম বলুন।
(উহ! আপনি বলতেছে!)
-তুমি করে বলো না হলে বলবো না।
-ওই তুই এমন ক্যান????আমারে এত্তক্ষন বসায়ে রেখে এখন দরদ দেখাইতাছে!
(ওরে রূপ পাল্টে গিছে রেহ!)
-সরি বাব্বুনি।
-না সরি তে হবে না।
-তাহলে কী করবো???
-আমাকে কিটক্যাট এনে দাও।
-কী!!!!!!এখন কই পাবো????
- না এনে দিলে কথায় বলবো না!
-আচ্ছা যাচ্ছি।
একটু অভিমান করেই বললাম।
তখন পিছন থেকে আমাকে জাপটে ধরে বলল;
-কিটক্যাট লাগবে না।(নুসরাত)
-কেন???(আমি)
-আমি চাই না তাই।
-তাহলে কী চাও?
-আমাকে বলতে হবে?
(লজ্জা মুখে)
অত:পর......
সব কিছু বলতে নেই!
.
.
(কাল্পনিক
No comments:
Post a Comment