-ওই ভাইয়া, আমাকে কখনো বুড়ি
ডাকবি না বলে
দিলাম।
-বুড়িকে বুড়ি ডাকবো নাতো কি
ডাকবো?
-আরেকবার বুড়ি ডাকলে কিন্তু খুব
খারাপ হবে,
বলে দিলাম।
-ক্যান ডাকলে তুই কি করবি শুনি?
-আবার, আম্মু উউউউউ....
-আরে থাম থাম। ঠিক আছে আর বুড়ি
ডাকবো না।
.
ভাইয়া আমাকে বুড়ি ডাকে।আমি কি
দেখতে বুড়ি
নাকি যে আমাকে বুড়ি ডাকবে?বুড়ি
ডাকার জন্যই
ভাইয়ার উপর আমার অনেক রাগ ওঠে।
-বোন
-বল
-একটা কাজ করে দিতে পারবি?
-কি কাজ?
-আমি একটু বাইরে যাব, মানে বল
খেলতে। ২ দিন
পর পরীক্ষা তাই আম্মুর কাছে বললে
আমাকে
বাসার বাইরে যেতে দিবে না।
-তো আমি কি করবো?
-আম্মু আমার কথা জিজ্ঞেস করলে
বলবি যে
আমি এক ফ্রেন্ডের বাসার ইংরেজি
আনতে
গেছি।
-এএএএ...আমি তোর জন্য মিথ্যা বলতে
পারবো
না।
-প্লিজ, আমার লক্ষ্মী বোন। বড়
ভাইয়ের জন্য
এটুকু মিথ্যা বলতে পারবি না।
-পারবো কিন্তু আমাকে ঘুষ দিতে
হবে।
-ঘুষষষষ....কি ঘুষ দিতে হবে?
-আমার জন্য অনেকগুলো চকলেট আনতে
হবে।
-ওকে,আনবো । থ্যাঙ্কিউ বুড়ি।
-ভাইয়য়য়য়য়য়া....
.
এতসময় যার সাথে কথা বলছিলাম ও হল
আমার আরিফ
ভাইয়া।আমি তারিন। আমার ভাইয়া
আর আমি ৪ বছরের
ছোট বড়। আমি
ছোট আর ভাইয়া বড়। কিন্তু আমাদের
অনেক
ঝগড়া হত।
মাইরও খাইছি অনেক। তবে
ভাইয়াকে অনেক ভালবাসি আর
ভাইয়াও আমাকে।
একদিন ভাইয়ার উপরে টিনের চাল
পরে
গেছিলো।
যদিও সিরিয়াস কিছু হয় নি তবুও আমি
এমন কান্না
করছিলাম কোনো মতেই আমার কান্না
আর
থামছিল না। ভাইয়া যখন ৯ এ পরে তখন
হোস্টেলে চলে যায়।তখন অনেক
খারাপ
লাগছিল। ভাইয়া যে স্কুল হোস্টেলে
থাকতো
আমি ঐ স্কুলেই পড়তাম। প্রতিদিন কিছু
না কিছু নিতাম
ভাইয়ার জন্য। আর কিছু না হলেও ১
বোতল সরবত
নিয়ে যেতাম। ভাইয়া ssc পাশ করার
পর ঢাকায় ভর্তি
হয়। তখন আরও খারাপ লাগছিল কারন তখন
তো
ভাইয়াকে দেখতে পেতাম না। এর
মধ্যে কিন্তু
বাড়িতে আসলে মাইর খাইতাম। আমি
যখন ssc
পরিক্ষা দেই তখন ভাইয়া
আমাকে প্রথম কিছু উপহার দেয়। ১ টা
ঘড়ি। ১ দিন
হাত থেকে পরে ঘড়ি টা ভেঙে যায়।
এতে
সেদিন অনেক খারাপ
লাগছিল।
.
ভাইয়া যখন বাড়িতে আসতো তখন
আমাকে দিয়ে
অনেক কাজ করাতো
মানে ওর সব কাজ। আম্মু ভাইয়াকে
অনেক
বকতো আমাকে দিয়ে এত কাজ
করাতো তাই
কিন্তু আমার বিরক্ত লাগত না হয়তো
এটাই ভাই
বোনের
ভালবাসা।
.
গত বছরের আগের বছর.....
২৯ সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিন ছিল।
ভাইয়া তখন
বাসায় ছিল।তখন প্রথম প্রথম ফেসবুক
চালাতাম।
আমার জন্মদিনে কে উইশ করল বা না
করল, এ
নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা
ছিলে না। তাই ১১
টার সময়ই ওইদিন ঘুমিয়ে পড়ি।
.
-এই বুড়ি এই ওঠ।
হঠাৎ কারো ডাকে ঘুম ভেঙে গেল।
চোখ
খুলে দেখি ভাইয়াকে।তখন ১১:৫৫
বাজে
-কিরে ভাইয়া বাসায় চোর ডাকাত
পড়ছে নাকি যে
ঘুম থেকে টেনে তুললি?
-বাইরে গেলেই সব বুঝতে পারবি।
এইবলে ভাইয়া আমাকে টানতে
টানতে একটা
অন্ধকার রুমে নিয়ে আসল। তখনো আমার
মাথায়
কিছু ঢুকছিল না। হঠাৎ রুমের লাইট
জ্বলে উঠল। আর
চারদিক" হ্যাপি বার্থডে টু ইউ তারিন"
ধ্বনিতে মুখরিত
হলো।
সত্যিই জীবনে প্রথম সারপ্রাইজড হলাম।
খুব খুশি
হইছিলাম সেদিন। যখন জানতে
পারলাম সারপ্রাইজের
প্লানটা ভাইয়ার ই করা তখন আরও
অনেক বেশি ভাল
লাগছিল।
.
২ বছর হল ভাইয়া দেশের বাইরে আছে।
এখন
আর কেউ আমাকে বুড়ি বলে খেপায়
না। কেউ
আমাকে বকে না, মারেও না। এখন
সত্যিই
ভাইয়াকে অনেক মিস করি।
Enter your comment...নাইস খুব ভাল লাগল
ReplyDelete